দাম্পত্য জীবনের মূল্যবান উপদেশ 

এক আরবী কবি স্বীয় নবপরিণীতা স্ত্রীকে কবিতার চারটি পংক্তির মাধ্যমে অমায়িক

ভাষায় বাসর রাতে গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিয়েছেন। 

 মুসলিম ভাই- বোনদের উপকারার্থে তা উপস্থাপন করলাম। 
তিনি বলেন:-
১. “হে প্রিয়তমা! যদি কখনও আমার ভুল- ত্রুটি প্রকাশ পায়, 

তাহলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে। যাতে করে, তোমার প্রেম-

ভালোবাসা সর্বদা আমার হৃদয় কোণে বিদ্যমান থাকে। 

আর যখন আমি রাগান্বিত হব, আমার সম্মুখে কোনো কথার উত্তর

দিবে না, বরং নীরব থাকবে।”
২. ” আমাকে সেভাবে বাজাবে না- যেভাবে ঢোল- তবলা বাজানো হয়। কেননা, তুমি

জাননা যে, তার ফলাফল কি হবে? ” অর্থাৎ তুমি যদি আমার ক্রোধের সময়

নীরবতা পালন না কর, তাহলে হয়তো আমার মুখ দ্বারা অপ্রত্যাশিত এমন

অবাঞ্ছিত কথা প্রকাশ পেতে পারে যার দ্বারা আজীবন তোমাকে অশান্তি ভোগ

করা লাগতে পারে, আর আমাকেও দুঃখের সাগরে ভাসাতে পারে।
৩. ” অভিযোগ – শিকায়াত অধিক পরিমানে করো না। স্বরণ রাখবে, কথায়

কথায় অভিযোগ করা এত খারাপ অভ্যাস যে, তা স্বামী – স্ত্রীর প্রেমময় বন্ধনকে

ধ্বংস করে দেয়। তাতে বৎসর বৎসর ধরে সঞ্চিত প্রেম- ভালোবাসা

নিমেষে নিঃশেষ হয়ে যায়। আল্লাহ না করুন, যদি তুমি এতে জড়িত হয়ে পড়, তাহলে

আমার অন্তরে তোমার প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মাতে পারে। কেননা, অন্তরের ভাব

পরিবর্তনে বিলম্ব লাগে না।”

.

৪. ” আমি তো এটাই দেখেছি যে, স্বামীর পক্ষ থেকে প্রেম ভালোবাসা আর

স্ত্রীর পক্ষ থেকে নাফরমানী ও অবাধ্যতা অর্থাৎ স্বামীর বিরুদ্ধে বারংবার

অভিযোগ উত্থাপন কিংবা স্বামীর ক্রোধের সময় স্ত্রীর রাগান্বিত হওয়া বা স্বামীর

সাথে কথায় কথায় বিতর্ক করা, তার মুখের উপর জবাব দেয়া এ দুটো বিপরীতমুখী

বিষয় যখন একত্রিত হয়, তখন স্বামীর অন্তর থেকে সেই স্ত্রীর মুহাব্বত দ্রুত

বিলুপ্ত হয়ে যায়।”

ফেরাউনের লাশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ 

একজন শাইখ মিসরের যাদুঘর পর্যটন করতে গেলেন। ফিরাঊনের মমিকৃত লাশকে অবলোকন করার সময় তিনি দেখতে পেলেন যে, একজন পর্যটক ফিরাঊনের লাশের সাথে কথা বলে চলছে। তিনি চুপচাপ শুনতে থাকলেন। ঐ ব্যক্তি ফিরাঊনকে সম্বোধন করে বলছে, হে ফিরাঊন! আমি তোমার দ্বারা দশটি শিক্ষা গ্রহণ করেছি। 

.

.

(১) আমি তোমার দ্বারা শিক্ষা গ্রহণ করেছি যে, আল্লাহর নির্ধারিত তাক্বদীর অবশ্যই প্রতিফলিত হয়। যখন তুমি হাজার হাজার শিশুকে হত্যা করলে, যাতে মূসা আ. জন্মলাভ না করেন। কিন্তু যখন জন্ম গ্রহণ করলেন, তখন তাঁকে তুমি তোমার ঘরেই লালনপালন করলে! 

.

(২) তোমার দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, অন্তর আল্লাহর হাতে থাকে, মানুষের হাতে নয়। যখন তুমি মুসা আ. কে তাঁর মা থেকে বঞ্চিত করলে, আল্লাহ তখন তোমার স্ত্রীর অন্তর নরোম করে দিলেন! তুমি তাঁকে তাঁর মা থেকে বঞ্চিত করলে, আল্লাহ তাঁকে আরও উত্তম একজন মা দান করলেন!

.

(৩) তোমার দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, কোন মানুষ অপর কোন মানুষকে নষ্ট করতে পারেনা। যে কামরায় তুমি দম্ভ ভরে বলতে, “আনা রাব্বুকুম আ’লা”, পাশের কামরায় তোমার স্ত্রী বলতো, “সুবহানা রাব্বি আল-আ’লা”!

.

(৪) তোমার দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, ঘর কেবল কয়েকটি দেয়ালের নাম। দু’জন স্বামী-স্ত্রী একই ছাদের নিচে থাকা সত্বেও একে অপরের জন্য অপরিচিত হতে পারে। সুতরাং দু’জন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একমাত্র অন্তরসম্পন্ন সত্তা জোড়া লাগাতে পারেন, ঘরের ছাদ নয়! 

.

(৫) তোমারা দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, একটি সেনাবাহিনী কোন মুমিনের অন্তর থেকে ঈমানকে ছিনিয়ে নিতে পারেনা। জাদুকরদের তোমার সেনাবাহিনী ভয় দেখাতে পারেনি। তদ্রুপ কেশ বিন্যাসকারিনীকেও ভয় দেখাতে পারেনি তোমার ফুটন্ত তেল! 

.

(৬) তোমার দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, রক্ত কখনও পানি হয়না। এবং একজন বোন তার ভাইকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে যখন বলেছে, “হাল আদুল্লুকুম”। এবং একজন ভাই একথা বলতে মোটেও দ্বিধাবোধ করেনি যে, তার ভাই তার থেকে স্পষ্টভাষী!

.

(৭) তোমার দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, ভৃত্যরা তাদের জল্লাদদের নিজ হাতেই গড়ে তুলে। তোমার জন্য তোমার জাতির পিঠকে ঝুঁকানো সম্ভব হতোনা, যদি না ভৃত্যরা তাদেরকে তোমার জন্য ঝুকিয়ে দিতো! 

.

(৮) তোমার দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, আল্লাহ তা’আলা যখন তার কোন বান্দাকে সাহায্য করতে চান, তখন তাকে সাহায্য করতে পারেন একটি সামান্য লাঠি দ্বারা, যা আগে শুধুমাত্র ঠেক লাগানো ও গাছের পাতা ঝুঁকিয়ে দেয়ার জন্য ছিল। 

.

(৯) তোমার দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, দুনিয়ার সব আসবাব মানুষের উপর প্রয়োগ হয়, আল্লাহর উপর নয়। যে নদী কয়েকটি শিশুকে ডুবিয়ে দিতে পারে, সে নদী ডাক হরকরা হয়ে একটি শিশুকে তোমার নিকট পৌছিয়ে দল। অথচ, তুমি ঐ শিশুকে হত্যার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজে চলছো! আবার যে সমদ্রকে পাড়ি দিতে হয় জাহাজ দিয়ে, সেই সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দিল একটি জনগোষ্ঠী অনায়াসে! 

.

(১০) তোমার দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, পৃথিবীতে যা কিছু আছে, তা আল্লাহর সেনাবাহিনীর একেকটি সেনা। আর আল্লাহ তা’আলাই রণক্ষেত্রের অস্ত্র ঘুরিয়ে থাকেন।

.

.

সূত্র: জনপ্রিয় ফেইসবুক পেইজ (رحلة في أرض الله) হতে অনূদিত। অনুবাদক – Ainul Hoque Qasimi

ছদকার গুরুত্ব ও ফযিলত 

আল্লাহ তাআলা সব মানুষকে ধনী ও সম্পদশালী বানিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। আসলে বিত্তশালীরা বিত্তহীনদের সাথে কেমন আচরণ করে আল্লাহ তাআলা তা দেখতে চান।

বাস্তবার আলোকে বলতে হয় আজ বিশ্বের মুসলিমরা আল্লাহর কোনো বিধানই যথার্থভাবে পালন করছে না। মুসলিম সমাজ যদি জাকাত, সদকা প্রদানে মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন করত তবে সারা বিশ্বের মুসলিম সমাজ আজকের মত দারিদ্র্যের যাতাকলে পিষ্ট হত না।

ﺻﺪﻗﺔُ-সদাকাতুন, আরবি শব্দ। যার বাংলা অর্থ হচ্ছে: দান। আর এই দান প্রধানত: দুই প্রকার,

এক. ওয়াজিব যা বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য ও বাধ্যতামূলক।

যেমন,

(ক) নিসাবের মালিক (শরিয়ত নির্ধারিত নির্দিষ্ট পরিমাণ মালের মালিক) হলে প্রতি বছর অর্থের জাকাত ও শস্যাদির ওশর প্রদান করা।

(খ) সামর্থ্য থাকলে প্রতি বছর কোরবানী করা। আর এই শ্রেণীর দানগুলো সাধারণত: একটা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই প্রদান করতে হয়। যথা সঞ্চিত অর্থের উপর যখন এব বছর পূর্ণ হবে তখন তাতে জাকাত ফরজ হবে। এবং তা থেকে নির্ধারিত হারে জাকাত দিতে হবে। আর উৎপাদিত শস্যাদি মাড়াই শেষে যখন ঘরে উঠবে, তখন তা থেকে ওশর বের করতে হবে। উল্লেখ্য, শস্যাদির ক্ষেত্রে বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। তাই এই ওশর প্রদান শস্য মাড়াই করার সংখ্যা ভেদে বছরে একাধিকবারও হতে পারে। যেমন ইরি ধানের মৌসুম শেষে যদি আমন ধানও নিসাব পরিমাণ হয়, তবে তা থেকেও একই বছরে পুনরায় ওশর দেয়া অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে ইরি ধানের ওশর দেয়া হয়েছে বলে আমনের ওশর দেয়া থেকে বিরত থাকা চলবে না। অন্যথায় ওশর অনাদায়ের শাস্তি বরণ ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না। লক্ষণীয় যে এ জাতীয় বাধ্যতামূলক দান, সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য নয়। কেবল বিত্তশালী ও ধনীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ।

(গ) রমজানে রোজার ফিৎরা প্রদান করা

(ঘ) নজর বা মানত পূর্ণ করা।

এ দুই প্রকার দানও বাধ্যতামূলক। তবে এ জাতীয় দান কেবলমাত্র বিত্তশালীই নয় বরং ধনী দরিদ্র সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। এবং এগুলোও পূর্বোক্ত দানের ন্যায় একটা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রদান করতে হয়। ফিৎরা সর্বোচ্চ ঈদুল ফিতরের নামাজের পূর্বে এবং মানত তার সময় সীমার মধ্যেই পূর্ণ করা জরুরি। অন্যথায় তা যথাযথভাবে আদায় বলে গণ্য হবে না। তাই সংশ্লিষ্ট সকলকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

দুই. নফল সদকা যা বাধ্যতামূলক নয় তবে অনেক সাওয়াবের কাজ।

এই দ্বিতীয় প্রকারের দান নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সৎপথে ব্যয় করা। যেমন: মসজিদ, মাদরাসা, গরীব, এতীম, কাঙ্গাল, ভিক্ষুকদের মাঝে সাধ্যমত দান করা। আত্মীয়, অনাত্মীয়, মুসাফির, বিপন্ন ও ঋণগ্রস্তকে সাহায্য করা ইত্যাদি। এ জাতীয় দানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বোক্ত দানের ন্যায় সময়ের কোন বাধ্যবধকতা নেই । স্থান, কাল, পাত্র ও প্রয়োজনভেদে কম বেশী করা যেতে পারে। দানের রকমও পরিবর্তন হতে পারে। মোট কথা অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার দান কারীর থাকে। তাছাড়া দিবারাত্রির যে কোনো সময়, যে কোনো স্থানে, এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে এই দান করার সুযোগ রয়েছে। সুতরাং দাতা তার ইচ্ছা ও সামর্থ্য অনুযায়ী যে কোনো সময় নেক পথে দান করে উপকৃত হতে পারেন।

সেই সাথে সকলকে স্মরণ রাখতে হবে যে, সর্ব প্রকার দানই কেবলমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে হতে হবে, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়। অন্যথায় সব দানই বিফলে যাবে এবং তার জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। তখন শত আফসোস করেও কোনো লাভ হবে না।

স্মরণযোগ্য যে, বৈধ উপার্জন থেকে নেকনিয়তে প্রদত্ত সর্বপ্রকার দান-খয়রাতই নি:সন্দেহে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। তাই দান-খয়রাত কবুল হবার বিপরীত সবচিন্তা-চেতনা ও ধ্যান ধারণা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার জন্য আপ্রাণ চেস্টা করা প্রতিটি দ্বীনদার ও সচেতন মুসলমানের পবিত্র দায়িত্ব। আর এ লক্ষ্য অর্জনে আল্লাহ আমাদেরকে সম্মুখপানে অগ্রসর হওয়ার তাওফীক দান করুন আমীন।

জাকাত বা ওশর প্রসঙ্গ

ﺯﻛﺎﺓ (জাকাত)- এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে বৃদ্ধি ও পবিত্র হওয়া।

শরিয়তের পরিভাষায় এর অর্থ হচ্ছে, শরিয়তের নির্দেশ অনুযায়ী নিজ সম্পদের একটা নির্ধারিত অংশ গরীব প্রাপকদের মাঝে বন্টন করা এবং তার লাভালাভ হতে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা।

ﻋُﺸْﺮٌ (ওশর)- এর অর্থ হচ্ছে, উৎপন্ন শস্যের এক দশমাংশ উল্লেখিত নিয়মে বন্টন করা। অর্থাৎ বৃষ্টির পানিতে ও বিনা সিঞ্চনে উৎপাদিত শস্যের দশ ভাগের এক ভাগ বা বিশ মণে দুই মণ, আর সিঞ্চনের মাধ্যমে উৎপাদিত হলে বিশ মণে এক মণ বর্ণিত নিয়মানুসারে বন্টন করে দেয়া।

উল্লেখ্য যে, হিজরী ২য় সনে রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে মদিনায় জাকাত বিস্তারিত বিবরণসহ ফরজ হয়।

বলাবাহুল্য, জাকাত প্রদানের মাধ্যমে মাল বৃদ্ধি পায় ও পবিত্র হয়। পাশাপাশি কৃপণতার কলুষ-কালিমা হতে জাকাতদাতা প্রবিত্রতা লাভে ধন্য হয়। বস্তুত: জাকাত হচ্ছে ইসলামের ৩য় স্তম্ভ।

যেমন হাদীসে বলা হয়েছে:

ﻋَﻦْ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﺑُﻨِﻲَ ﺍﻟْﺈِﺳْﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻰ ﺧَﻤْﺲٍ : ﺷَﻬَﺎﺩَﺓِ ﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠﻪُ ﻭَﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ، ﻭَﺇِﻗَﺎﻡِ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ، ﻭَﺇِﻳﺘَﺎﺀِ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓِ، ﻭَﺍﻟْﺤَﺞِّ، ﻭَﺻَﻮْﻡِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ‏» ؛ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ – ‏( ﺝ 1 / ﺹ 11 ‏)

অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর স্থাপিত।

এক. আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার রাসূল এ সাক্ষ্য দেয়া।

দুই. নামাজ কায়েম করা।

তিন. জাকাত প্রদান করা।

চার. হজ্জ সম্পাদন করা।

পাচ. রমজানের রোজা রাখা। (বুখারি, মুসলিম)

লক্ষ্যণীয় যে, উক্ত হাদিসে জাকাতকে আল্লাহর নবী ৩য় স্তম্ভ বলে ঘোষণা করেছেন। তাই জাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম। এর উপকারিতা বর্ণনা করে শেষ করার মত নয়। প্রায় জায়গাতেই নামাজের পাশাপাশি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জাকাত প্রদানের নির্দেশ দিয়ে নামাজের মতই গুরুত্ব আরোপ করেছেন। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, নামাজ কায়েম করা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। আর জাকাত আদায় করা কেবল ধনীদের জন্য ফরজ। এছাড়া নামাজের হুকুম দৈনিক পাঁচ বার পালনীয়। আর জাকাত প্রতি বছর মাত্র একবার আদায় করা কর্তব্য। বস্তুত: নামাজ হচ্ছে ইবাদতে বদনি বা শারীরিক এবাদত, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। আর জাকাত হচ্ছে, ইবাদতে মালী বা আর্থিক ইবাদত। যা সাধারণত: অর্থ ও সম্পদ ব্যয় ও দানের মাধ্যমে আদায় করতে হয়।

জাকাত প্রদানের নির্দেশ অবশ্য প্রতিপালনীয় হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোরআনুল কারিমে অনেক আয়াত নাযিল করেছেন। বিশেষত: নামাজের নির্দেশের পরপরই জাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই জাকাতের গুরুত্বকে কোনোক্রমেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আবশ্যিক বা বাধ্যতামূলক দানসমূহের মধ্যে জাকাতই হচ্ছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাপকদের অভাব পূরণে প্রধানতম সহায়ক দান। তাই এখানে জাকাতের গুরুত্ব ও ফজিলত, এবং জাকাত আদায় না করার পরিণতি সম্পর্কে সামান্য আলোচনা করা হবে।

নামাজের পাশাপাশি জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন:

ﻭَﺃَﻗِﻴﻤُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﻭَﺁﺗُﻮﺍ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓَ ﻭَﻣَﺎ ﺗُﻘَﺪِّﻣُﻮﺍ ﻟِﺄَﻧْﻔُﺴِﻜُﻢْ ﻣِﻦْ ﺧَﻴْﺮٍ ﺗَﺠِﺪُﻭﻩُ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠﻪِ

অর্থ: আর তোমরা নামাজ কায়েম কর ও জাকাত দাও। এবং নিজেদের জন্য তোমরা যে সৎকর্ম অগ্রে প্রেরণ করবে তাই তোমরা আল্লাহর নিকট পাবে। [সূরা বাকারা: ১১০]

জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা তার নবীকে বলেন:

ﺧُﺬْ ﻣِﻦْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ ﺻَﺪَﻗَﺔً ﺗُﻄَﻬِّﺮُﻫُﻢْ ﻭَﺗُﺰَﻛِّﻴﻬِﻢْ ﺑِﻬَﺎ

অর্থ: তুমি তাদের সম্পদ হতে সাদাকাহ অর্থাৎ জাকাত গ্রহণ কর। যা দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র করবে। [ সূরা তাওবা: ১০৩]

জাকাত ও ওশর গ্রহণ এবং উত্তম বস্তু ব্যয়ের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ অন্যত্র বলেন।

ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﺃَﻧْﻔِﻘُﻮﺍ ﻣِﻦْ ﻃَﻴِّﺒَﺎﺕِ ﻣَﺎ ﻛَﺴَﺒْﺘُﻢْ ﻭَﻣِﻤَّﺎ ﺃَﺧْﺮَﺟْﻨَﺎ ﻟَﻜُﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻴَﻤَّﻤُﻮﺍ ﺍﻟْﺨَﺒِﻴﺚَ ﻣِﻨْﻪُ ﺗُﻨْﻔِﻘُﻮﻥَ ﻭَﻟَﺴْﺘُﻢْ ﺑِﺂﺧِﺬِﻳﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻥْ ﺗُﻐْﻤِﻀُﻮﺍ ﻓِﻴﻪِ ﻭَﺍﻋْﻠَﻤُﻮﺍ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻏَﻨِﻲٌّ ﺣَﻤِﻴﺪٌ ﴿ 267 ﴾

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের উপার্জন থেকে এবং আমি যা তোমদের জন্য ভূমি হতে উৎপন্ন করেছি তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় কর এবং তা থেকে নিকৃষ্ট জিনিস ব্যয় করতে মনস্থ করো না,কেননা তা তোমরা কখনো গ্রহণ করবে না, তবে যদি তোমরা চোখ বন্ধ করে নিয়ে নাও। জেনে রেখো, আল্লাহ অভাব মুক্ত, প্রশংসিত। [ সূরা বাকারা: ২৬৭]

জাকাত ফরজ হওয়া সম্বন্ধে মহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

ﺛُﻤَﺎﻣَﺔُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺑْﻦِ ﺃَﻧَﺲٍ ﺃَﻥَّ ﺃَﻧَﺴًﺎ ﺣَﺪَّﺛَﻪُ ﺃَﻥَّ ﺃَﺑَﺎ ﺑَﻜْﺮٍ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻛَﺘَﺐَ ﻟَﻪُ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏَ ﻟَﻤَّﺎ ﻭَﺟَّﻬَﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺒَﺤْﺮَﻳْﻦِ : ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ ﻫَﺬِﻩِ ﻓَﺮِﻳﻀَﺔُ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺔِ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻓَﺮَﺽَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟَّﺘِﻲ ﺃَﻣَﺮَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺑِﻬَﺎ ﺭَﺳُﻮﻟَﻪُ ﻓَﻤَﻦْ ﺳُﺌِﻠَﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ ﻋَﻠَﻰ ﻭَﺟْﻬِﻬَﺎ ﻓَﻠْﻴُﻌْﻄِﻬَﺎ ﻭَﻣَﻦْ ﺳُﺌِﻞَ ﻓَﻮْﻗَﻬَﺎ ﻓَﻠَﺎ ﻳُﻌْﻂِ . ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ – ‏( ﺝ 5 / ﺹ 292 ‏)

অর্থ: আনাস রাদিয়াল্লাহ হতে বর্ণিত, তাকে যখন খলীফা আবু বকর বাহরাইনের শাসনকর্তা নিযুক্ত করে পাঠাচ্ছিলেন, তখন তাকে এ নির্দেশনামাটি লিখে দিয়েছিলেন। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। এটা ফরজ সাদকা বা জাকাত যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের প্রতি ফরজ করে দিয়েছেন এবং যার নির্দেশ আল্লাহ তার রাসূলকে দিয়েছেন। যে কোনো মুসলমানের নিকট এটা নির্দিষ্ট নিয়মে চাওয়া হবে, সে যেন তা দিয়ে দেয়। আর যার নিকট এর অধিক চাওয়া হবে সে যেন না দেয়। ……..বুখারি।

একই বিষয়ে অপর হাদিসে আল্লাহর নবী বলেন:

ﻋَﻦْ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻟِﻤُﻌَﺎﺫِ ﺑْﻦِ ﺟَﺒَﻞٍ ﺣِﻴﻦَ ﺑَﻌَﺜَﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻴَﻤَﻦِ : ‏« ﺇِﻧَّﻚَ ﺳَﺘَﺄْﺗِﻲ ﻗَﻮْﻣًﺎ ﺃَﻫْﻞَ ﻛِﺘَﺎﺏٍ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺟِﺌْﺘَﻬُﻢْ ﻓَﺎﺩْﻋُﻬُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻥْ ﻳَﺸْﻬَﺪُﻭﺍ ﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠﻪُ ﻭَﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﻓَﺈِﻥْ ﻫُﻢْ ﺃَﻃَﺎﻋُﻮﺍ ﻟَﻚَ ﺑِﺬَﻟِﻚَ ﻓَﺄَﺧْﺒِﺮْﻫُﻢْ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻗَﺪْ ﻓَﺮَﺽَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺧَﻤْﺲَ ﺻَﻠَﻮَﺍﺕٍ ﻓِﻲ ﻛُﻞِّ ﻳَﻮْﻡٍ ﻭَﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﻓَﺈِﻥْ ﻫُﻢْ ﺃَﻃَﺎﻋُﻮﺍ ﻟَﻚَ ﺑِﺬَﻟِﻚَ ﻓَﺄَﺧْﺒِﺮْﻫُﻢْ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻗَﺪْ ﻓَﺮَﺽَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺻَﺪَﻗَﺔً ﺗُﺆْﺧَﺬُ ﻣِﻦْ ﺃَﻏْﻨِﻴَﺎﺋِﻬِﻢْ ﻓَﺘُﺮَﺩُّ ﻋَﻠَﻰ ﻓُﻘَﺮَﺍﺋِﻬِﻢْ ﻓَﺈِﻥْ ﻫُﻢْ ﺃَﻃَﺎﻋُﻮﺍ ﻟَﻚَ ﺑِﺬَﻟِﻚَ ﻓَﺈِﻳَّﺎﻙَ ﻭَﻛَﺮَﺍﺋِﻢَ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ ﻭَﺍﺗَّﻖِ ﺩَﻋْﻮَﺓَ ﺍﻟْﻤَﻈْﻠُﻮﻡِ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﻴْﺲَ ﺑَﻴْﻨَﻪُ ﻭَﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺣِﺠَﺎﺏٌ ‏» ؛ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ – ‏( ﺝ 5 / ﺹ 356 ‏)

অর্থ: ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুয়ায বিন জাবালকে ইয়েমেনের উদ্দেশ্যে পাঠানোর সময় বললেন: তুমি আহলে কিতাবদের নিকট যাচ্ছ। প্রথমে তাদেরকে এই সাক্ষ্য দিতে আহবান জানাবে- আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তবে তাদেরকে বলবে যে, আল্লাহ তাআলা তাদের উপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। অত:পর তারা যদি এটাও মেনে নেয়, তখন তাদেরকে বলবে যে, আল্লাহ তাদের উপর সাদাকা বা জাকাত ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের নিকট হতে গ্রহণ করে তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বন্টন করা হবে। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তবে সাবধান! জাকাত গ্রহণের সময় তুমি বেছে বেছে তাদের শুধু উত্তম জিনিসসমূহ নিবে না। আর বেঁচে থাকবে মাযলুমের বদ দুআ হতে। কেননা মাযলুমের বদ দুআ এবং আল্লাহর মধ্যে কোন আড়াল নেই। বুখারি।

বাধ্যতামূলক দান সমূহের মধ্যে জাকাত বা ওশর প্রদানের হুকুম যে অবশ্য পালনীয়, তার প্রমাণে আল্লাহর পবিত্র কালাম কোরআন মাজিদের পাশাপাশি উপরের দুটি হাদীসও বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। যাতে বিদালোকের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে জাকাতের ফরজিয়াত বিবৃত হয়েছে। ফলে জাকাত ফরজ হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।

রমজান বিষয়ক লিখার লিংক

মাসিক আলকাওসারে প্রকাশিত, রমযান ও রোযার গুরুত্ব, ফাযাইল, মাসাইল এবং তারাবীহ, ইতিকাফ, সাদাকাতুল ফিতর ও ঈদ সম্পর্কিত লেখাগুলোর লিংক। 

.

শা‘বান-রমযান : রহমত ও মাগফিরাতের মওসুম

http://www.alkawsar.com/article/2002

.

শাবান, রমযান, ঈদঃ কিছু প্রশ্নের উত্তর

http://alkawsar.com/article/47

.

কুরআন মজীদ ও সহীহ হাদীসের আলোকে রমাযানুল মুবারক

http://alkawsar.com/article/641

.

কুরআন মজীদ ও সহীহ হাদীসের আলোকে রোযার গুরুত্ব ও ফযীলত

http://alkawsar.com/article/642

.

মাহে রমযানের গুরুত্ব ও ফযীলত

http://www.alkawsar.com/article/1140

.

হাদীস ও আছারের আলোকে রমযান : ফাযাইল ও মাসাইল

http://alkawsar.com/article/45

.

হাদীস ও আছারের আলোকে রোযার মাসায়েল

http://alkawsar.com/article/261

.

মাহে রমযান : ফযীলত ও করণীয়

http://www.alkawsar.com/article/1548

.

রোযা ও যাকাত : প্রচলিত কয়েকটি মাসআলা

http://www.alkawsar.com/article/1142

.

মাহে রমযান : আনন্দ ও সংযমের এক অনন্য মোহনা

http://www.alkawsar.com/article/1546

.

মাহে রমাযান: আমরা উপনীত হয়েছি জীবন-পথের হাম্মামে

http://alkawsar.com/article/250

.

তারাবীহ বিষয়ক দুটি প্রশ্ন ও তার উত্তর

http://www.alkawsar.com/article/1527

.

বরাহে করম! রাকাত-সংখ্যা নিয়ে বিবাদ ছাড়ুন নিজ নিজ ত্রুটি সংশোধন করুন

http://www.alkawsar.com/article/1147

.

একটি ভুল মাসআলা : রোযার নিয়ত কি মুখে করা জরুরী?

http://www.alkawsar.com/article/924

.

রোযায় শুকরগোযারির প্রশিক্ষণ

http://alkawsar.com/article/735

.

মাহে রমযান : পারস্পরিক সহযোগিতা বিবেচনা দায়িত্ব ও ছাড়ের কিছু কথা

http://alkawsar.com/article/433

.

রোযা পালনে পরস্পরে সহযোগী হই

http://www.alkawsar.com/article/1815

.

কুরআন তিলাওয়াত ও তারাবীর তিলাওয়াত : আমাদের অসতর্কতা

http://www.alkawsar.com/article/2007

.

কুরআনের মাসে কুরআন তিলাওয়াত

http://www.alkawsar.com/article/2013

.

একটি ভুল ধারণা : রোযা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে কি রোযা ভেঙে যায়?

http://www.alkawsar.com/article/1788

.

একটি ভুল মাসআলা : সফরের হালতে কি রোযা ভাঙ্গার অনুমতি আছে, না না-রাখার?

http://www.alkawsar.com/article/1517

.

একটি ভিত্তিহীন ধারণা : দাফনের পর জুমআ বা রমযান এলে কি কিয়ামত পর্যন্ত আযাব মাফ হয়ে যায়

http://www.alkawsar.com/article/595

.

একটি ভুল ধারণা : যাকাত কি শুধু রমযান মাসে আদায় করতে হয়?

http://alkawsar.com/article/781

.

একটি ভুল কথা : রোযাদারের খাবারের হিসাব হবে না

http://www.alkawsar.com/article/1153

.

ফযীলতপূর্ণ দিবস-রজনী : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

http://alkawsar.com/article/779

.

খতম তারাবীর ইমামতি করে বিনিময় বা হাদিয়া নেওয়া জায়েয কি না?

http://www.alkawsar.com/issue/2009/…/section/question-answer

.

সদকায়ে ফিতরের পরিমাণ 

http://www.alkawsar.com/article/1531

.

সাদাকাতুল ফিতর আধা সা গম : হাদীস ও সুন্নায়, আছার ও ইজমায়

http://alkawsar.com/article/432

.

একটি চিন্তাগত দুর্বলতা: রমযানুল মুবারকের সমাপ্তিতে আনন্দিত হওয়ার কারণ

http://www.alkawsar.com/article/2

.

রমযান অর্জনের মওসুম তবে … রোযাকে ঢাল বানান,এই ঢালকে অক্ষুণ্ণ রাখুন এবং ঈদকে ‘ওয়ীদে’ পরিণত না করুন

http://www.alkawsar.com/article/1524

.

মাহে রমযান ও আমাদের ঈদ প্রস্ত্ততি

http://www.alkawsar.com/article/1522

.

শাস্ত্রীয় আলোচনা : ঈদের নামাযে ছয় তাকবীরের সহীহ হাদীস

http://www.alkawsar.com/article/1811

.

ঈদুল ফিতর : ‘আল্লাহু আকবারে’র প্রেরণায় উজ্জীবিত হওয়ার দিন

http://www.alkawsar.com/article/1521

.

ভ্রা তৃ ত্ব : ঈদের দিনে দেখতে চাই ইসলামী ভ্রাতৃত্বের চেহারা

http://www.alkawsar.com/article/1539

.

ঈদ-ভাবনা আমরা মুসলিম : কত মহান আমরা, কত দীন

http://alkawsar.com/article/711

.

একটি ভুল ধারণা : ঈদের জন্য কি সবকিছুই নতুন হওয়া মাসনূন?

http://www.alkawsar.com/article/1544

.

এটি হাদীস নয় : শয়তান ঈদের দিন রোজা রাখে

http://www.alkawsar.com/article/892/print

.

বিদায় রমযান : অক্ষয় হোক সওমের শিক্ষা

http://www.alkawsar.com/article/932

.

বিদায় রমযান, বিদায় ঈদ

http://alkawsar.com/article/715

.

বিদায় রমযান, বিদায় ঈদ : কী পেলাম, কী হারালাম

http://alkawsar.com/article/439

.

সমগ্র বিশ্বে একই দিনে চান্দ্রমাসের সূচনা : একই দিনে রোযা ও ঈদ

http://www.alkawsar.com/article/2006

.

মুসলমানদের মাঝে ঈমান ও ইসলামী ভ্রাতৃত্বের ঐক্য সৃষ্টির চেষ্টা করুন : একই দিনে ঈদের বিষয় দায়িত্বশীলদের উপর ছাড়ুন

— মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক

[ সবগুলো পর্বের লিংক নিচে দেয়া হল ]

১। http://www.alkawsar.com/article/934

২। http://www.alkawsar.com/article/959

৩। http://www.alkawsar.com/article/986

৪। http://www.alkawsar.com/article/1002

৫। http://www.alkawsar.com/article/1025

৬। http://www.alkawsar.com/article/1045

৭। http://www.alkawsar.com/article/1065

৮। http://www.alkawsar.com/article/1085

৯। http://www.alkawsar.com/article/1106

১০। http://www.alkawsar.com/article/1124

১১। http://www.alkawsar.com/article/1141

১২। http://www.alkawsar.com/article/1172

১৩। http://www.alkawsar.com/article/1194

১৪। http://www.alkawsar.com/article/1208

১৫। http://www.alkawsar.com/article/1223

১৬। http://www.alkawsar.com/article/1252

১৭। http://www.alkawsar.com/article/1284

.

চান্দ্রমাস: একটি পর্যালোচনা

.

— মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক

.

১। http://www.alkawsar.com/article/1284

.

২। http://www.alkawsar.com/article/1303

.

৩। http://www.alkawsar.com/article/1320

.

৪। http://www.alkawsar.com/article/1681

.

৫। http://www.alkawsar.com/article/1697

.

৬। http://www.alkawsar.com/article/1718

.

মূল পোস্টের লিংক:

ছাইয়্যাদুল এস্তেগফার

সাইয়িদুল ইসতিগফার
হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওস রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
سَيِّدُ الِاسْتِغْفَارِ أَنْ تَقُولَ: اللّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلهَ إِلاَّ أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ. قَالَ: وَمَنْ قَالَهَا مِنَ النَّهَارِ مُوقِنًا بِهَا، فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ قَبْلَ أَنْ يُمْسِيَ، فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الجَنَّةِ، وَمَنْ قَالَهَا مِنَ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنٌ بِهَا، فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ، فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الجَنَّةِ .
সাইয়িদুল ইসতিগফার হচ্ছে এইরূপ বলা-
اللّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلهَ إِلاَّ أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ.
‘ইয়া আল্লাহ! আপনি আমার রব। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমাকে আপনি সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার বান্দা। আমি যথাসাধ্য মেনে চলব আপনার বিধান ও ফরমান।
আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি নিজ কৃতকর্মের অনিষ্ট হতে। স্বীকার করছি আমাকে প্রদত্ত আপনার সকল দান আর স্বীকার করছি আমার পাপ। কাজেই আমাকে ক্ষমা করুন। আপনি ছাড়া আর কেউ নেই, যে গুনাহসমূহ ক্ষমা করতে পারে।’
তিনি বলেন, যে এই কথাগুলো দিনের বেলা মন থেকে বলে আর ঐ দিন সন্ধ্যার আগে মারা যায়, সে জান্নাতীদের শামিল হবে। তেমনি যে তা রাতের বেলায় মন থেকে বলে আর ভোর হওয়ার আগেই মারা যায় সে জান্নাতীদের শামিল হবে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৩০৬, ৬৩২৩
 
সূত্র-আলোচনা
এই হাদীসের বর্ণনাকারী হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওস ইবনে ছাবিত রা. একজন আনসারী খাযরাজী সাহাবী। বিখ্যাত শায়ের সাহাবী হযরত হাসসান ইবনে ছাবিত রা.-এর ভাতিজা। তাঁর বাবা আওস ইবনে ছাবিত রা. বদরের যুদ্ধে শামিল ছিলেন। আর অহুদের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। হযরত উবাদা ইবনে ছামিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন-
شداد بن أوس من الذين أوتوا العلمَ والحلم، ومن الناس من أوتي أحدهما.
শাদ্দাদ ইবনে আওস ঐসব ব্যক্তিদের একজন, যাদের ‘ইল্ম’ ও ‘হিল্ম’ (জ্ঞান ও সহনশীলতা) দুটোই দেয়া হয়েছে। অথচ অনেক মানুষ আছে যারা শুধু একটি প্রাপ্ত হয়েছেন।
তাঁর সম্পর্কে আরো বলা হয়েছে-
فضل شداد بن أوس الأنصارَ بخصلتين : ببيان إذا نطق، وبكظم إذا غضب.
আনসারীদের মাঝে শাদ্দাদ ইবনে আওস শ্রেষ্ঠ দুটি স্বভাব দ্বারা : এক. স্পষ্ট বক্তব্যে আর দুই. ক্রোধ সংবরণে।
ইমাম তবারানী রাহ. স্বীয় সনদে তাঁর জীবনের একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে, একবার শাদ্দাদ ইবনে আওস রা. মরণাপন্ন হয়ে পড়েন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে ছিলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, ما لك يا شداد؟ শাদ্দাদ! তোমার কী হয়েছে? তিনি বললেন, ضاقت بي الدنيا পৃথিবী আমার জন্য সংকুচিত হয়ে গেছে! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-
ليس عليك، إنّ الشّام سيفتح، وبيت المقدس سيفتح، وتكون أنت وولدك من بعدك أئمّة فيهم إن شاء اللَّه تعالى.
না তোমার কিছু হবে না। শাম বিজিত হবে। বাইতুল মাকদিস বিজিত হবে। আর তুমি ও তোমার পরে তোমার সন্তানেরা সেখানে নেতৃস্থানীয় হবে ইনশাআল্লাহ!
পরে তিনি শামে চলে যান। এক ক্বওল অনুসারে ৫৮ হিজরীতে ৭৫ বছর বয়সে ফিলিস্তীনে ইন্তিকাল করেন।
(আল ইসাবা ফী তাময়ীযিস সাহাবা, ইবনে হাজার আসকালানী ৩/২৫৮)
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন, সহীহ বুখারীতে তাঁর সূত্রে এই একটি হাদীসই বর্ণিত হয়েছে। -ফাতহুল বারী ১১/৯৯
এই মহান সাহাবীর সূত্রে এই হাদীস ইমাম বুখারী রাহ. ছাড়াও ইমাম ইবনে আবী শাইবা, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইমাম ইবনে হিব্বান, ইমাম নাসায়ী প্রমুখ স্ব স্ব সনদে বর্ণনা করেছেন। (দ্র. আলমুসান্নাফ, ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৩০০৫২ ও টীকা শায়েখ মুহাম্মাদ আওয়ামা)
সহীহ বুখারীর ‘কিতাবুদ দাআওয়াত’-এর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে এই হাদীসটি (৬৩০৬) রয়েছে। পরিচ্ছেদের শিরোনাম ‘বাবু আফযালিল ইসতিগফার’। আফযালুল ইসতিগফার মানে শ্রেষ্ঠ ইসতিগফার। সহীহ বুখারীর ভাষ্যকার হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. (৮৫২হি.) বলেছেন-
وَتَرْجَمَ بِالْأَفْضَلِيَّةِ وَوَقَعَ الْحَدِيثُ بِلَفْظِ السِّيَادَةِ وَكَأَنَّهُ أَشَارَ إِلَى أَنَّ الْمُرَادَ بِالسِّيَادَةِ الْأَفْضَلِيَّةُ وَمَعْنَاهَا الْأَكْثَرُ نَفْعًا لِمُسْتَعْمِلِهِ.
অর্থাৎ ইমাম বুখারী রাহ. ‘আফযাল’ শব্দের দ্বারা শিরোনাম গঠন করেছেন। তিনি সম্ভবত এর দ্বারা হাদীসের ‘সাইয়িদ’ শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ সাইয়িদুল ইসতিগফার অর্থ আফযালুল ইস্তিগফার বা শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার। আর এর শ্রেষ্ঠত্বের তাৎপর্য হচ্ছে, পাঠকারীর পক্ষে সর্বাধিক উপকারী হওয়া। -ফতহুল বারী ১১/১০১
কাজেই আমরা যদি ইসতিগফারের উপরোক্ত ‘মাছূর’ পাঠটি মুখস্থ করে ফেলি এবং ভাব ও মর্ম উপলদ্ধি করে সকাল-সন্ধ্যায় মন থেকে তা পাঠ করি তাহলে অনেক খায়ের ও বরকতের ব্যাপার হবে।
 
ভাব ও মর্ম আলোচনা
কুরআন-সুন্নাহর শেখানো যিকির ও দুআর কালেমাগুলোর এক অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এগুলো ঈমান ও ঈমানিয়াতে পরিপূর্ণ। কাজেই ঈমান শেখার ও ঈমানকে সতেজ ও সজীব করার এক বড় উপায়, অর্থ ও মর্ম অনুধাবন করে তা নিয়মিত আমলে রাখা। উপরের ইসতিগফারের বাক্যমালায় আছে ঈমানিয়াতের অনেক বিষয়। আর তা থাকাই তো স্বাভাবিক। যখন হাদীস শরীফের বর্ণনা অনুসারে স্বয়ং সাইয়িদুল মুরসালীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে ‘সাইয়িদুল ইসতিগফার’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর ফযীলত বর্ণনা করে বলেছেন, যে বান্দা দিবসে তা মন থেকে পড়ে সন্ধ্যার আগে তার মৃত্যু ঘটলে সে জান্নাতী হবে। আর যে তা রাতে মন থেকে পড়ে ভোরের আগে মৃত্যু হলে সে-ও জান্নাতী হবে।
নিশ্চয়ই এতে আছে ঐ সকল কথা, যা আল্লাহর অতি প্রিয় এবং যার দ্বারা আল্লাহর বান্দা হয়ে যায় আল্লাহর প্রিয়পাত্র। চলুন তবে এই সত্য-সুন্দর বাণীর ভাব ও মর্মের ভুবনে।
 
***
১. اللّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلهَ إِلاَّ أَنْتَ
ইয়া আল্লাহ! আপনি আমার রব। নেই কোনো ইলাহ আপনি ছাড়া।
‘রব’ মানে প্রভু ও পরওয়ারদেগার আর ‘ইলাহ’ মানে উপাস্য ও মাবুদ। আল্লাহর বান্দা প্রথমেই স্মরণ করছে এবং স্বীকার করছে যে, আল্লাহই তার রব, তার প্রভু ও পরওয়ারদেগার এবং একমাত্র ইলাহ ও মাবুদ।
২. خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ
আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন; আমি আপনার বান্দা।
আল্লাহই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে প্রতিপালন করছেন। মানুষের জীবন ও জীবনোপকরণ, তার মেধা ও শক্তি তাঁর দান। সৃজন ও প্রতিপালনে আল্লাহর কোনো শরীক নেই। কাজেই নিরঙ্কুশ ইবাদত ও চূড়ান্ত আনুগত্য একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য।
কুরআন মাজীদের ইরশাদ-
یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوْا رَبَّكُمُ الَّذِیْ خَلَقَكُمْ وَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ الَّذِیْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَرْضَ فِرَاشًا وَّ السَّمَآءَ بِنَآءً  وَّ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَخْرَجَ بِهٖ مِنَ الثَّمَرٰتِ رِزْقًا لَّكُمْ  فَلَا تَجْعَلُوْا لِلهِ اَنْدَادًا وَّ اَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ.
হে মানুষ! যিনি তোমাদের ও তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন, তোমাদের সেই রবের ইবাদত কর। যাতে আত্মরক্ষা করতে পার।
যিনি তোমাদের জন্য ভূমিকে করেছেন বিছানা এবং আকাশকে ছাদ। আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তা দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য উৎপন্ন করেছেন ফলমূল । কাজেই জেনেশুনে আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করো না। -সূরা বাকারা (২) : ২১-২২
মানুষ একমাত্র আল্লাহরই বান্দা আর আল্লাহই তার রব ও ইলাহ। ইস্তিগফারের এই বাক্যগুলোতে আছে বান্দার সাথে আল্লাহর এই সম্পর্কেরই স্মরণ ও স্বীকারোক্তি।
৩. وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ  
আমি যথাসাধ্য মেনে চলব আপনার বিধান ও ফরমান।
এটি উপরোক্ত সম্পর্কেরই দাবি।
আরবী ভাষায় عهد শব্দের এক অর্থ আদেশ-নিষেধ, বিধি-বিধান। আরবী ভাষার ব্যবহারে عهد إليه অর্থ তাকে আদেশ করল, নিষেধ করল। এই ব্যবহার অনুসারেই উপরোক্ত বাক্যের তরজমা করা হয়েছে।
এ শব্দের আরেক অর্থ অঙ্গিকার, চুক্তি ইত্যাদি। সেই ব্যবহার অনুসারে তরজমা হবে, ‘আমি আপনার সাথে কৃত অঙ্গিকার ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলব।’
আল্লাহর যে বিধান ও ফরমান পালনে বান্দা আল্লাহর সাথে অঙ্গিকারাবদ্ধ এবং যার বিনিময়ে বান্দার জন্য রয়েছে মহান রবের মহা প্রতিশ্রুতি, তা হচ্ছে ঈমান ও ইতাআত তথা বিশ্বাস ও আনুগত্যের ফরমান।
বান্দা একমাত্র আল্লাহরই উপাসনা করবে এবং আল্লাহর আদেশকেই চূড়ান্তরূপে শিরোধার্য করবে। তাঁর আদেশের উপর আর কারো আদেশকে প্রাধান্য দিবে না।
কারণ, নিরঙ্কুশ উপাসনা ও চূড়ান্ত আনুগত্যের একমাত্র হকদার আল্লাহ তাআলা।
আল্লাহ তাআলা মানুষকে বুদ্ধি-বিবেক দান করেছেন এবং প্রকৃতিতে তাঁর রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতের অসংখ্য নিদর্শন স্থাপন করেছেন। এই বুদ্ধি ও বিবেক ব্যবহার করে আল্লাহর পরিচয় লাভ করা মানুষের কর্তব্য।
এরপর যুগে যুগে নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন এবং আসমানী কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁর বিধান ও ফরমান সুস্পষ্টভাবে মানব জাতিকে দান করেছেন।
তো আকল ও নকল তথা বুদ্ধি ও বর্ণনা উভয় দিক থেকে তাঁর ‘রুবূবিয়্যাত’ ও ‘উলুহিয়্যাত’ মানবজাতির সামনে সাব্যস্ত হয়েছে। কাজেই আল্লাহর ফরমান স্পষ্ট এবং মানুষের সর্বসত্তা আল্লাহ তাআলাকে রব ও ইলাহ মেনে নেয়ার বিষয়ে অঙ্গিকারাবদ্ধ।
এরপর আল্লাহ যাকে ঈমানের তাওফীক দান করেছেন ঈমানের শাহাদতের মাধ্যমে সে আল্লাহর ফরমানকে শিরোধার্য করেছে এবং আল্লাহর সাথে তার অঙ্গিকারকে আরো দৃঢ় ও শক্তিশালী করেছে। এই দুআয় আছে সেই অঙ্গিকারেরই স্মরণ ও নবায়ন।
ঈমানী শাহাদাতের মাধ্যমে মুমিন ঐ সত্যের সাক্ষ্য প্রদান করেছে, যা অস্বীকার করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। প্রতিটি মানুষ- সে ঈমান আনুক বা না আনুক, মুখে স্বীকার করুক বা না করুক, সে আল্লাহরই সৃষ্টি; আল্লাহর দানেই সে ধনী। দিনরাত সে ভোগ করে চলেছে আল্লাহর নিআমত। যে মুখে স্বীকার করছে না তারও সর্বসত্তা সর্বদা এই সাক্ষ্যই দিচ্ছে যে, আল্লাহ তার সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা। আর সে আল্লাহর সৃষ্টি ও প্রতিপালিত।
মুমিনের সৌভাগ্য যে, ঈমানের শাহাদাতের মাধ্যমে সে এই সত্য স্বীকার করেছে এবং বিদ্রোহ ও অস্বীকারের হীনতা ও মহাশাস্তি থেকে মুক্তির উপায় গ্রহণ করেছে। এটাই তো পরিচয় শুভবুদ্ধির ।
কুরআনে কারীম ‘উলুল আলবাব’ ও শুভবুদ্ধির অধিকারী মানুষের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলছে-
الَّذِیْنَ یُوْفُوْنَ بِعَهْدِ اللهِ وَ لَا یَنْقُضُوْنَ الْمِیْثَاقَ
যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গিকার রক্ষা করে এবং প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে না। -সূরা রা‘দ (১৩) : ২০
এদেরই জন্য মহান আল্লাহর প্রতিশ্রুতি-
اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ عُقْبَی الدَّارِ جَنّٰتُ عَدْنٍ یَّدْخُلُوْنَهَا وَ مَنْ صَلَحَ مِنْ اٰبَآىِٕهِمْ وَ اَزْوَاجِهِمْ وَ ذُرِّیّٰتِهِمْ وَ الْمَلٰٓىِٕكَةُ یَدْخُلُوْنَ عَلَیْهِمْ مِّنْ كُلِّ بَابٍ سَلٰمٌ عَلَیْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَی الدَّارِ.
এদেরই জন্য শুভ পরিণাম- স্থায়ী জান্নাত, তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের বাবা, মা, স্বামী, স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করেছে তারাও। আর ফেরেশতাগণ প্রত্যেক দরজা দিয়ে তাদের নিকট উপস্থিত হবে এবং বলবে, তোমাদের প্রতি শান্তি, কারণ তোমরা ধৈর্যধারণ করেছিলে। কত ভালো এই পরিমাণ। -সূরা রা‘দ (১৩) : ২২-২৪
পক্ষান্তরে যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গিকার ভঙ্গ করেছে তাদের সম্পর্কে ঘোষণা-
وَ الَّذِیْنَ یَنْقُضُوْنَ عَهْدَ اللهِ مِنْۢ بَعْدِ مِیْثَاقِهٖ وَ یَقْطَعُوْنَ مَاۤ اَمَرَ اللهُ بِهٖۤ اَنْ یُّوْصَلَ وَ یُفْسِدُوْنَ فِی الْاَرْضِ  اُولٰٓىِٕكَ لَهُمُ اللَّعْنَةُ وَ لَهُمْ سُوْٓءُ الدَّارِ.
যারা আল্লাহর সাথে দৃঢ় অঙ্গিকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে; যে সম্পর্ক অক্ষুণœ রাখতে আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করে তাদের জন্য আছে লা‘নত এবং তাদের জন্য আছে মন্দ আবাস। -সূরা রা‘দ (১৩) : ২৫
বস্তুত আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গিকার স্বীকার করা এবং তাঁর ফরমান শিরোধার্য করাই শুভ বুদ্ধির পরিচয় এবং এটিই পথ বুদ্ধিমান ও সৌভাগ্যবানদের।
ما استطعت ‘যথাসাধ্য’ কথাটির উদ্দেশ্য, আপন দুর্বলতা স্বীকার করা। একে তো আল্লাহর শান মোতাবেক হক আদায় বান্দার সাধ্যেরই অতীত। আর এ কারণে আল্লাহ আপন করুণায় বান্দার উপর তার সাধ্য অনুযায়ী ভার দিয়েছেন, কিন্তু সেই বিধান পালনেও হয়ে যায় বান্দার নিজের দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতাজনিত নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি। কাজেই করুণাময় প্রভুর সাথে আনুগত্যের চুক্তি নবায়নের সাথে সাথে আপন দুর্বলতা নিবেদনও এই বাক্যের উদ্দেশ্য।
৪. أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ
‘আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি নিজ কৃতকর্মের অনিষ্ট হতে।’
আপন কৃতকর্মের অনিষ্ট ও অশুভ পরিণামই তো ভয়ের বড় কারণ। দুনিয়া ও আখিরাতে যে যে কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তন্মধ্যে নিজের কর্মভুলই তো সবচেয়ে বড় কারণ। আখিরাতের শাস্তি ও আযাবের পুরোটাই মানুষের নিজের কর্মের ফল। দুনিয়ার অশান্তি ও অস্থিরতার মূলেও তার নিজের কর্ম। তাহলে সবার আগে তো নজর ফেরানো উচিত নিজের দিকেই। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ অনিষ্টের কারণ অন্যত্র খুঁজে বেড়ায় এবং অন্যকে দোষারোপ করে। না, কষ্ট ও অনিষ্টের কারণ আমার নিজেরই কর্ম। উপরের বাক্যে আছে এই সত্যের শিক্ষা ও উপলদ্ধি, আছে একমাত্র আশ্রয়স্থল আল্লাহরই কাছে আশ্রয় প্রার্থনা।
শাক্ল ইবনে হুমাইদ রা. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম এবং আরজ করলাম, আমাকে আশ্রয় প্রার্থনার একটি দুআ শিখিয়ে দিন। তিনি আমার কাঁধে হাত রাখলেন এবং বললেন, তুমি (এই কথাগুলো) বলবে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي، وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي، وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي، وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي، وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّي.
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি আমার কানের অনিষ্ট থেকে, আমার চোখের অনিষ্ট থেকে, আমার জিহ্বার অনিষ্ট থেকে, আমার অন্তকরণের অনিষ্ট থেকে এবং আমার বীর্যের (লজ্জাস্থানের) অনিষ্ট থেকে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫৫১; জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৪৯২
হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে একটি দুআ শিক্ষা দিন, যা আমি সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু বকর! তুমি বলবে-
اللّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَه، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِه، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِي سُوءًا أَوْ أَجُرَّهُ إِلى مُسْلِمٍ.
ইয়া আল্লাহ! আকাশম-লী ও পৃথিবীর ¯্রষ্টা! সকল বস্তুর প্রভু ও অধিপতি! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি আমার নিজের অনিষ্ট থেকে। আর আশ্রয় নিচ্ছি নিজের উপর বা কোনো মুসলিমের উপর কোনো প্রকার অনিষ্ট টেনে আনা থেকে। -জামে তিরমিযী, হাদীস  ৩৫২৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫০৬৭
হযরত ফারওয়া ইবনে নাওফিল আল আশজায়ী রা. বলেন, আমি আয়েশা রা.-কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী দুআ করতেন জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তিনি বলতেন-
اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ، وَمَنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ.
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি যা আমি করেছি তার অনিষ্ট থেকে এবং যা করিনি তারও অনিষ্ট থেকে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৭১৬
৫. أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي
‘স্বীকার করছি আমাকে প্রদত্ত আপনার সকল দান আর স্বীকার করছি আমার পাপ।’
হায়! একদিকে আল্লাহর প্রভূত দান, অন্যদিকে বান্দার নাফরমানী! এটাই তো সত্য ও বাস্তবতা। তবে এই সত্যের উপলদ্ধিও তাদের মনেই জাগে, যাদের আল্লাহ ক্ষমা করতে চান। দেখুন, এক বেদুঈন কা‘বার গিলাফ ধরে কীভাবে কাকুতি মিনতি করছে-
اللَّهُمَّ إن استغفاري مع إصراري لؤمٌ، وإنَّ تركي الاستغفارَ مع علمي بسعةِ عفوكَ لعجزٌ، فكم تَتَحَبَّبُ إليَّ بالنعم مع غِناكَ عني، وكم أتبغَّضُ إليك بالمعاصي مع فقري إليك، يا مَن إذا وعدَ وفَّى، وإذا توعَّدَ تجاوز وعفا، أدخلْ عظيمَ جُرمي في عظيمِ عفوكَ، يا أرحم الراحمين.
ইয়া আল্লাহ! পাপ-মগ্নতার সাথে আমার ক্ষমা চাওয়া তো হীনতা, কিন্তু, তোমার প্রশস্ত ক্ষমার সংবাদ জেনেও ক্ষমা না চাওয়া তো নির্বুদ্ধিতা। তুমি তোমার দয়া ও করুণার দ্বারা কতই না আমার প্রীতি অন্বেষণ করছ। অথচ আমার কাছে তোমার কোনোই প্রয়োজন নেই। আর আমি পাপ ও নাফরমানীর মাধ্যমে কতই না তোমার ক্রোধ আকর্ষণ করে চলেছি। অথচ তোমার কাছেই আমার সকল প্রয়োজন!
হে সকল দয়ালুর বড় দয়ালু! যিনি প্রতিশ্রুতি দিলে পূরণ করেন, আর শাস্তির ধমক দিলেও ক্ষমা করেন ও উপেক্ষা করেন আমার মহা পাপকে ডুবিয়ে দাও তোমার করুণার মহা সিন্ধুতে! (কিতাবুল আজকার, ইমাম নববী, বর্ণনা ১২৩০-এর অধীনে)
সুবহানাল্লাহ! বাস্তবতার এই উপলদ্ধি আর নিবেদনের এই ভাষা আল্লাহ যাকে দান করেন তাকে তো ক্ষমা করার জন্যই দান করেন। কবি সত্য বলেছেন-
لو لم ترد نيل ما أرجو وأطلبه + من جود كفيك ما علمتني الطلبا
তুমি যদি না চাইতে দু’হাতের দানে আমার আচলখানি ভরে দিতে; তাহলে তো প্রভু! এই প্রার্থনাই শেখাতে না আমাকে।
৬. فَاغْفِرْ لِي
‘কাজেই’…। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন, বোঝা যাচ্ছে, যে আল্লাহর কাছে অপরাধ স্বীকার করে, আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন। ইফকের দীর্ঘ হাদীসে তা স্পষ্টভাবে এসেছে।
তাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
العَبْدُ إِذَا اعْتَرَفَ بِذَنْبِهِ، ثُمَّ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ.
বান্দা যখন পাপ স্বীকার করে ও তওবা করে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ২৬৬১; ফাতহুল বারী ১১/১০৩
কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে-
فَمَنْ تَابَ مِنْۢ بَعْدِ ظُلْمِهٖ وَ اَصْلَحَ فَاِنَّ اللهَ یَتُوْبُ عَلَیْهِ ؕ اِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ.
কিন্তু সীমালংঘন করার পর কেউ তওবা করলে ও সংশোধন করলে অবশ্যই আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন; আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। -সূরা মাইদা (৫) : ৩৯
৭. فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ.
‘আপনি ছাড়া আর কেউ নেই, যে গুনাহসমূহ মাফ করে।’
গুনাহ মাফকারী তো একমাত্র আল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া আর কেউ বান্দার গুনাহ মাফ করতে পারে না।
কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে-
وَ مَنْ یَّغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا اللهُ
আল্লাহ ছাড়া কে আছে পাপ ক্ষমা করে? -সূরা আলে ইমরান (৩) : ১৩৫
আরো ইরশাদ হয়েছে-
وَ هُوَ الَّذِیْ یَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهٖ وَ یَعْفُوْا عَنِ السَّیِّاٰتِ وَ یَعْلَمُ مَا تَفْعَلُوْنَ.
তিনিই তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন ও পাপ মোচন করেন এবং তোমরা যা কর তিনি তা জানেন। -সূরাতুশ শূরা (৪২) : ২৫
হাদীসের এই দুআয় সহজ সরল ভাষায় যে গভীর সত্য ও অনুপম ভাবের প্রকাশ ঘটেছে তা থেকেও বোঝা যায়- কেন এই দুআ সাইয়িদুল ইসতিগফার বিশেষণে ভূষিত।
এতে যেমন আছে আল্লাহর একমাত্র মাবুদ হওয়ার সাক্ষ্য তেমনি আছে বান্দার বান্দা হওয়ার স্বীকারোক্তি।
এতে যেমন আছে খালিককে খালিক বলে স্বীকার করা তেমনি আছে তাঁর সকল বিধান ও ফরমানকে শিরোধার্য করা।
এতে যেমন আছে প্রকৃত দাতার দান স্বীকার, তেমনি আছে আপন কৃতকর্মের স্বীকারোক্তি।
এতে যেমন আছে গুনাহ দ্বারা নিজের ক্ষতির উপলদ্ধি, তেমনি আছে এই মহা সত্যের সাক্ষ্য যে, একমাত্র আল্লাহই বান্দার গুনাহ মাফকারী।
 
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين

Fatwa about Ilyas Ghumman

​*دارالعلوم دیوبند کا فتوی*

1- مولانا محمد الیاس گھمن اکابر دیوبند کی نگاہ میں کیسے ہیں؟

2- مولانا کے خلاف بے بنیاد الزامات شائع کرنا کیسا ہے؟

3- اس موقع پر عام مسلمانوں اور علماء کو کیا کرنا چاہیے؟

*جواب:* 

فتوی نمبر: 6-ب-1438ھ 

بسم اللہ الرحمن الرحیم

الجواب وباللہ التوفیق

1۔ ہمیں خبر متواتر کے ذریعہ یہ بات پہنچی ہے کہ حضرت مولانا محمد الیاس صاحب گھمن مسلک اہل السنت والجماعت کے صحیح ترجمان ہیں اور احناف دیوبند کے دفاع کے محاذ پر عالمی پیمانے پر فرقہ ضالہ کی تردید میں بہت نمایاں خدمت انجام دے رہے ہیں اور ما شاء اللہ انہیں ساکت اور لاجواب کر دیا ہے۔  ان کی کوشش لائق تحسین ہے وہ اپنے اکابر دیوبند کے ساتھ وابستہ ہیں یعنی حکیم محمد اختر صاحب خلیفہ مجاز حضرت مولانا ابرار الحق صاحب ہردوئی حضرت مولانا عبد الحفیظ صاحب مکی خلیفہ مجاز شیخ الحدیث حضرت مولانا زکریا صاحب  سے انہیں سلاسل اربعہ میں خلافت حاصل ہےوہ قابل اعتماد  عالم اور صاحب نسبت بزرگ ہیں۔

2۔ فرقہ ضالہ کی ہمیشہ سے یہ عادت چلی آرہی ہے کہ جب وہ اہل حق کے سامنے عاجز اور لاجواب ہو جاتا ہے تو گندی حرکتوں پر اور الزام تراشی پر اتر آتا ہے، گویا اپنےعمل سے اپنی شکست کا اور اپنے  ناحق ہونے کا اظہار کرتا ہے۔ کسی مومن کی آبروریزی کرنا بہت بڑا گناہ ہے یہاں تک کہ حدیث شریف میں اپنی ماں کے ساتھ زنا کرنے کے برابر بتایا گیا ہے۔

3۔ اہل حق علماء کو ڈٹ کر دفاع کرنا چاہیے اور دلائل اور شواہد کے  ذریعہ ان کی براءۃ کرنی چاہیے۔

فقط واللہ اعلم

مفتی حبیب الرحمن صاحب۔ صدر مفتی دارالعلوم دیوبند

مفتی وقار علی صاحب 

مفتی زین الاسلام صاحب 

مفتی محمد مصعب صاحب

10 محرم الحرام 1438ھ

সাহাবারা কি ফতোয়া দিতেন

​►সাহাবারা কি ফতোয়া দিতেন ? ফতোয়া দিলে সেগুলো কোথায় গেল ?◄
আটজন বিশিষ্ট সাহাবী সম্পর্কে তো সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, 

“তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় ফতোয়া দিতেন। তাঁরা হলেন, আবু বকর রা., উমর রা., উছমান রা., আলী রা., মুয়ায ইবনে জাবাল রা., উবাই ইবনে কাব রা., আবদুর রহমান ইবনে আওফ রা. ও যায়েদ ইবনে ছাবিত রা.।”

(আসসুয়ূতী (৯১১ হি.) : আদাবুল ফুতয়া পৃষ্ঠা : ৬৭-৭১) 
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরপর ফতোয়ার দায়িত্ব পূর্ণরূপে সাহাবায়ে কেরামের উপর অর্পিত হয়। লক্ষাধিক সাহাবীর মধ্যে ফতোয়াদানকারী সাহাবীর সংখ্যা ত্রিশেরও কম। তবে সারা জীবনে যাঁদের একটি বা দুটি ফতোয়া দেওয়া প্রমাণিত তাদের নাম যোগ করলে পূর্ণ সংখ্যা ১৩০ এর মতো দাঁড়ায়। সাধারণ সাহাবী ও সাধারণ তাবেয়ীগণ ঐসকল ফকীহ/মুফতী সাহাবীর নিকট থেকে মাসআলা জেনে আমল করতেন। 

(ইবনে হাযম (৪৫৬ হি.) : ইহকামুল আহকাম খ : ৫, পৃষ্ঠা : ৮৮; ইবনুল কাইয়্যিম (৭৫১ হি.) : ইলামুল মুয়াককিয়ীন, খ : ১, পৃষ্ঠা : ৭-১৮) 
এই ১৩০ জন সাহাবীর মধ্যে সর্বাধিক ফতোয়া দানকারী সাহাবী সাতজন : 

১. উমর ইবনুল খাত্তাব রা., 

২. আলী ইবনে আবু তালিব রা.,

৩. আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা., 

৪. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা., 

৫. যায়েদ ইবনে ছাবিত রা., 

৬. আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.  

৭. আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.। 
এঁদের ও অন্যান্য মুফতী সাহাবা-তাবেয়ীনের ফতোয়া আছারে ছাহাবা বিষয়ক গ্রন্থাবলিতে, বিশেষত কিতাবুল আছার, ইমাম আবু হানীফা (১৫০ হি.), মুয়াত্তা মালিক (১৭৯ হি.), জামে সুফিয়ান ছাওরী (১৬১ হি.), মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক (২১১ হি.), মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা (২৩৫ হি.) ইত্যাদি গ্রন্থে বিদ্যমান রয়েছে এবং ইমাম বাকী ইবনে মাখলাদ (২৭৬ হি.) তো সাহাবা ও তাবেয়ীনের ফাতাওয়া বিষয়ে একটি দীর্ঘ গ্রন্থ সংকলন করেছেন। যা উপরোক্ত সব কিতাবের চেয়ে বড়। 

(সিয়ারু আলামিন নুবালা খ. ১৩, পৃ. ২৯১) 
আর শুধু আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর ফতোয়াসমূহ ইমাম আবু বকর ইবনে মুসা (৩৪২ হি.) বিশটি কিতাবে সংকলন করেছেন। 

(ইলামুল মুয়াককিয়ীন খ. ১, পৃ. ১০)