নামের দ্বারা হাদীস অস্বীকারঃ

নামের দ্বারা হাদীস অস্বীকারঃ

. নামের দ্বারা হাদীস অস্বীকারঃ

—সামীউর রহমান শামীম
.
মুযাফফর সাহেবের বিতর্কিত বই ‘‘জাল হাদীছের কবলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছালাত’’ এর আরবী নাম মুযাফফর সাহেব দিয়েছেন ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﻘﺒﻀﺔ ﺍﻷﺣﺎﺩﻳﺚ ﺍﻟﻀﻌﻴﻔﺔ ﻭﺍﻟﻤﻮﺿﻮﻋﺔ
.
(সালাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বি কাবদ্বাহ আল আহাদীস আদ্ব দ্বয়ীফাহ ওয়াল মাওদ্বূ‘আহ)। অর্থাৎ ‘‘যয়ীফ ও জাল হাদীসের কবলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত।’’
.
অথচ বাংলা নামের ক্ষেত্রে মুযাফফর সাহেব ব্যবহার করেছেন, ‘‘জাল হাদীছের কবলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছালাত’’। 
.
আশ্চর্যের কথা হলো— আরবীতে ‘‘যয়ীফ ও মওযূ’’ লিখলেন বাংলায় শুধু ‘‘জাল’’ লিখলেন।
.
‘‘যয়ীফ’’ মানে কি জাল? কখনই না। যয়ীফ মানে দূর্বল। আর ‘‘মওযূ’’ মানে জাল।
.
তথাকথিত আহলে হাদীসরা হরহামেশাই জাল-যয়ীফ একসাথে লেখে।
.
অথচ উলূমুল হাদীসের পরিভাষায়- মওযূ বা জাল হাদীস, মূলতঃ হাদীস নয়; বরং তা ভিত্তিহীন, বানোয়াট। 
.
আর যয়ীফ মানে দূর্বল সনদে বর্ণিত হাদীস। তা ভিত্তিহীন বা বানোয়াট নয়।
.
সকল মুহাদ্দিসীনগণ একমত যে, যয়ীফ হাদীস ফাযায়েলের বা ফযীলত বর্ণনার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। এছাড়াও কোনো যয়ীফকে উম্মাত সর্বসম্মত ভাবে গ্রহণ করে নিলে তা গ্রহণযোগ্যতা পায়।
.
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) একটি যয়ীফ হাদীসের আলোচনায় লেখেন,
فهذا الحديث وإن لم يثبت فاتصال العمل به في سائر الأمصار والأعصر من غير إنكار كاف في عمل به
.
অর্থাৎ ‘‘এ হাদীসটি (সহীহ) প্রমাণিত না হলেও বিভিন্ন শহরে ও যুগে কোনো রূপ আপত্তি ছাড়া এ হাদীস অনুযায়ী আমল চালু থাকাই এ হাদীসটির আমলযোগ্য হওয়ার জন্য যথেষ্ট।’’
.
[কিতাবুর রূহ, পৃ. ১৬]
.
হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন, যয়ীফ হাদীসের উপর আমল করার জন্য শর্ত হলো—
.
১। সনদের দুর্বলতা বেশি না হতে হবে। এটি সর্বসম্মত বিষয়। সুতরাং যয়ীফ হাদীসের শ্রেণী থেকে ঐ বর্ণনা বের হয়ে যাবে, যার মধ্যে কোনো রাবী মিথ্যুক রয়েছে বা মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত কিংবা তিনি বেশি ভুল করেন।
.
২। ঐ আমল শরীয়তের কোনো না কোনো মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
.
৩। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি সুপ্রমাণিত এমন আকীদা পোষণ না করতে হবে।
.
[আলকওলুল বাদী, পৃ. ১৯৫]
.
ইবনে হাজার (রহ.)-এর এই তিন শর্তের কথা হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাব দুরারুল হুক্কাম ১/১২; আদ্দুররুল মুখতার এবং রদ্দুল মুহতারেও উল্লেখ রয়েছে।
.
এ হলো, যয়ীফ রেওয়ায়াতের উপর আমলের শর্ত। আর তাছাড়া যয়ীফে শাদীদ (শক্ত যয়ীফ), মুনকার ও মাতরূক পর্যায়ের রেওয়ায়াত না হলে, তা ফযীলতের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। সুতরাং যয়ীফকে মওযূ তথা দূর্বল সনদকে জাল বলা মূর্খতা, জিহালত এবং অজ্ঞতা। আর তা হাদীস অস্বীকারের নামান্তরও বটে।

Advertisements