হালাল-হারাম প্রসঙ্গ

হালাল-হারাম

হালাল-হারাম

আয়ের উৎস জানার উপায়?

একদিন ইমাম মালেক র.-এর দরবারে
একলোক এসে বললো, হযরত!! আপনি যে বলেন আমি লোকদের ব্যয়ের খাত
দেখে আয়ের খাত বুঝতে পারি, এর মর্ম
কী? তিনি বললেন, আচ্ছা এক কাজ
করো, এই নাও দেরহাম। এটা নিয়ে
শহরে যাও!!তুমি যাকে সবচে‘ ধনী মনে
করবে তাকে এটা দিয়ে দেবে এবং
দেখবে সে এ দেরহাম কোথায় খরচ
করে।

তখন সে শহরে গিয়ে অনুসন্ধান
চালাতে লাগলো। এক ব্যক্তিকে
দেখলো, তারা পোশাক বেশ সুন্দর,
চেহারাতেও বেশ সম্ভ্রান্তের ছাপ
স্পষ্ট। ভদ্রলোকের মতোই লাগছে
তাকে। একটি ব্যাগ হাতে হেঁটে
যাচ্ছিলেন তিনি।

সে ভাবলো, এই লোকটি কখনো ভিক্ষুক
হতে পারে না। তাই তার হাতেই সে
দেরহামটি তুলে দিলো। লোকটি খুশি
মনে দেরহাম নিয়ে চলতে শুরু করলো।
পিছনে পিছনে সেও। লোকটি চলতে
চলতে একটি গলির মাঝে ঢুকে হাতের
ব্যাগটি ছুঁড়ে ফেলে দোকান থেকে
খাবার কিনে বাড়ি চলে গেলো।

সেও পিছন পিছন গিয়ে দরজায় নক
করলো। দরজা খোলার পর সে বললো,
আমি আপনার কাছ থেকে একটি কথা
জানতে চাই।
: কী জানতে চান বলুন!!!
: আমি আপনার বাহ্যিক বেশ-ভূষা ও
তার রহস্য সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।
: জবাবে লোকটি বললো, দেখুন!! আমি
সাইয়্যেদ বংশের লোক। আমার ঘরে
তিনদিন যাবত উপোস চলছে। চুলাতে
আগুন জ্বালানোর মতোও সামর্থ নেই।
ক্ষুধার কারণে আমার সন্তানেরা
মরণাপন্ন প্রায়। তাছাড়া অসুস্থতার
কারণে আমিও পারছি না কোনো
রোজগার করতে। কিন্তু কারো কাছে
হাতও পাততে পারছি না।

আজ শিশুদের এই অবস্থা দেখে ব্যাকূল
হয়ে বাইরে বের হলাম। একটা মরা
বকরী পড়ে থাকতে দেখে ভাবলাম,
আমার বাচ্চাদের অনন্যোপায় অবস্থায়
এই মরা বকরীর গোশত খাওয়া হালাল।
তখন আমি বকরীর একটি রান কেটে
ব্যাগে করে বাড়িতে ফিরছিলাম।
পথিমধ্যে আপনি একটি দিরহাম দেয়ার
পর মরা বকরী হারাম হবে ভেবে
সেগুলো ফেলে দিলাম।

দোকান থেকে কিছু খাবার কিনে
ঘরে এনে সন্তানদের বললাম, এক লোক
আমাকে এগুলো হাদিয়া দিয়েছে।
তো আপনি যে টাক দিয়েছেন
সাইয়্যেদ পরিবারের সন্তানেরা
অনন্যোপায় হয়ে তা ব্যবহার করছে।

একথা শুনে সে আশ্চার্য হয়ে ফিরে
এসে ইমাম সাহেবের নিকট সব খুলে
বললো।

হযরত বললেন, এবার তোমার নিজ থেকে একটা পয়সা বের
করো। যাকে সবচেয়ে দরিদ্র মনে
করবে তার হাতে তুলে দিবে। এরপর
দেখবে সে কোন কাজে ব্যয় করে।

সে টাকা হাতে নিয়ে বের হলো।
বাজারে একজন লেংড়া লোককে
দেখলো, যাকে বেশ দরিদ্র বলেই মনে
হচ্ছিলো। চেহারা দেখেও তাকে
নিঃস্ব ও অপারগই মনে হয়। সে তাকে
টাকাটা দিয়ে দিলো। এরপর পিছনে
পিছনে তাকে অনুস্মরণ করলো।

টাকা হাতে পেয়ে লোকটি একজন
যুবতী নর্তকীর ঘরে গিয়ে প্রদত্ত
টাকার বিনিময়ে যিনা করে ফিরে
এলো। সে জিজ্ঞাসা করলো,
টাকাটা তুমি কোন কাজে খরচ
করেছো? জবাবে সে খোলাখুলি
যিনার কথা স্বীকার করলো।

তখন সে ইমাম মালেকের কাছে এসে
বললো, হযরত!! আপনি যথার্থ বলেছেন।
আমার টাকাটা সন্দেহযুক্ত ছিলো।
আপনার পরামর্শ মতো আমি উপযুক্ত
ব্যক্তিকেই দান করেছি। কিন্তু সে তা
গোনাহের কাজে ব্যয় করেছে।
পক্ষাণ্তরে আপনার টাকা যেহেতু
হালাল ছিলো, আমি তা এমন এক
ব্যক্তিকে দিয়েছিলাম যে তার
উপযুক্ত ছিলো না। কিন্তু আল্লাহ
তা‘আলা আপনার টাকাকে সঠিক
স্থানে পৌঁছে দিয়েছেন।

বন্ধুরা!!!! আমরা তো প্রায়সই মনে মনে
ভাবি আমার সন্তানটা কেনো নষ্ট
হলো? কেনো সে অন্যায় কাজে
টাকা নষ্ট করছে? কেনো আমার টাকা
আমি ভালো কাজে ব্যয় করতে পারছি
না? কখনো কি আমাদের উপার্জনের
খাত নিয়ে চিন্তা করেছি? হয় তো
না। কখনো তাহকীক করেছি আমার
টাকাগুলো কোন কাজে ব্যয় করছি?

আমার অর্জিত প্রতিটি পয়সা দ্বারা
আমার জান্নাত খরীদ করছি নাকি
জাহান্নাম? একটু ভেবে দেখা দরকার।
গভীর ভাবে ভাবলেই আমরা বুঝতে
পারবো। আমাদের আয়-ব্যয়ের খাতকে
সামনে রাখলেই বেরিয়ে আসবে সকল
প্রশ্নের উত্তর। খুলে যাবে সব রহস্যের
জট। আমি কতোটা ভালো মানুষ???

আল্লাহ আমাদের সকলকে হারাম
থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান
করুন।

الهم اكفنى بحلالك عن حرامك واغننى بفضلك عمن سواك.

”আল্লাহুম্মাকফিনী বি-হালালিকা
আ’ন হারামিক, অ-আগনিনী
বিফাদলিকা আ’ম্মান সিওয়াক।”
আমীন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s