Uncategorized

ফজরের সুন্নত

ফজরের জামাআত শুরু হয়ে গেলে সুন্নাত পড়ার হুকুম

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ، ح وَحَدَّثَنِي حَامِدُ بْنُ عُمَرَ الْبَكْرَاوِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ يَعْنِي ابْنَ زِيَادٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، كُلُّهُمْ عَنْ عَاصِمٍ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَاللَّفْظُ لَهُ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ، قَالَ دَخَلَ رَجُلٌ الْمَسْجِدَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْغَدَاةِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ فِي جَانِبِ الْمَسْجِدِ ثُمَّ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا سَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَا فُلاَنُ بِأَىِّ الصَّلاَتَيْنِ اعْتَدَدْتَ أَبِصَلاَتِكَ وَحْدَكَ أَمْ بِصَلاَتِكَ مَعَنَا �( رَوَاه مُسْلِمٌ فِىْ بَابِ كَرَاهَةِ الشُّرُوعِ فِي نَافِلَةٍ بَعْدَ شُرُوعِ الْمُؤَذِّنِ)

হাদীস নম্বর-৩৫২ : হযরত আব্দুল্লাহ বিন সারজিস
রা. বলেন: রসূলুল্লাহ স. ফজরের নামাযে ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে মসজিদের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত (সুন্নাত) নামায আদায় করলো।
রসূলুল্লাহ স. নামায শেষ করে বললেন: হে অমুক! তোমার ফরয নামায হিসেবে তুমি কোনটা গণনা করলে? তোমার একাকী নামায, না আমাদের সাথের নামায?
(মুসলিম: ১৫২৪)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং নাসাঈ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে।
(জামিউল উসূল: ৪০৯২) 

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে,
ফজরের নামাযের ইকামাত শুরু হলে আর সুন্নাত পড়া যাবে না। এমনকি মসজিদের কোণেও নয়। আল্লামা শাব্বীর আহমাদ উসমানী রহ. এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন: قَوْلُه (فِىْ جَانِبِ الْمَسْجِدِ) إلخ: ظَاهِرُه يَرُدُّ عَلى مَنْ أجَازَ رَكْعَتَى الْفَجْرِ فِىْ زَاوِيَةٍ مِنْ زَوَايَا الْمَسْجِدِ فَالْأحْوَطُ الإجْتِنَابُ مِنْه এ হাদীসের প্রকাশ্য শব্দ তাদের মতমাত প্রত্যাখ্যান করে যারা মসজিদের কোণে দাঁড়িয়ে দু’রাকাত পড়ে নেয়ার অনুমতি দেয়। সুতরাং এর থেকে বেঁচে থাকাই সতর্কতার দাবী”।
(ফাতহুল মুলহিম: ৪/৪৫২)

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ بُحَيْنَةَ، قَالَ أُقِيمَتْ صَلاَةُ الصُّبْحِ فَرَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يُصَلِّي وَالْمُؤَذِّنُ يُقِيمُ فَقَالَ � “� أَتُصَلِّي الصُّبْحَ أَرْبَعًا �”� (رَوَاه مُسْلِمٌ فِىْ بَابِ كَرَاهَةِ الشُّرُوعِ فِي نَافِلَةٍ بَعْدَ شُرُوعِ الْمُؤَذِّنِ)

হাদীস নম্বর-৩৫৩: হযরত মালেক বিন বুহাইনা
রা. বলেন: ফজরের জামাআত দাঁড়িয়ে গেলো। মুআজ্জিন ইকামাত দেয়া অবস্থায় রসূলুল্লাহ স. এক ব্যক্তিকে নামায পড়তে দেখে ইরশাদ করলেন: তুমি কি ফজরের নামায ৪ রাকাত পড়বে?
(মুসলিম: ১৫২৩)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি বুখারী, ইবনে মাজাহ এবং নাসাঈ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে।
(জামিউল উসূল: ৪০৯১)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফজরের নামাযের ইকামাত শুরু হলে আর সুন্নাত পড়া যাবে না।

وَعَنْ أَبِي مُوسَى «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ  رَأَى رَجُلًا صَلَّى رَكْعَتِي الْغَدَاةِ حِينَ أَخَذَ الْمُؤَذِّنُ يُقِيمُ فَغَمَزَ النَّبِيُّ  صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْكِبَهُ وَقَالَ: أَلَا كَانَ هَذَا قَبْلَ ذَا.رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَالْأَوْسَطِ وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ.

হাদীস নম্বর-৩৫৪ : হযরত আবু মুসা রা. থেকে বর্ণিত, মুআজ্জিন যখন ইকামাত দিচ্ছেন তখন
রসূলুল্লাহ স. এক ব্যক্তিকে ফজরের সুন্নাত পড়তে দেখে তার কাঁধ ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন: এটা আরও আগে পড়তে পারতে না? আল্লামা হাইসামী বলেন: হাদীসটি তবারানী তাঁর মু’জামে কাবীর ও আওসাতে বর্ণনা করেছেন এবং এর রাবীগণ ثقةٌ “নির্ভরযোগ্য”। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২৩৯৪)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। আল্লামা হাইসামী বলেন: হাদীসটি তবারানী তাঁর মু’জামে কাবীর ও আওসাতে বর্ণনা করেছেন এবং এর রাবীগণ ثقةٌ “নির্ভরযোগ্য”। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২৩৯৪)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফজরের নামাযের ইকামাত শুরু হলে আর সুন্নাত পড়া যাবে না।

وحَدَّثَنَي أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ وَرْقَاءَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةُ». وحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَابْنُ رَافِعٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنِي وَرْقَاءُ بِهَذَا الْإِسْنَادِ (رَوَاه مُسْلِمٌ فِىْ بَابِ كَرَاهَةِ الشُّرُوعِ فِي نَافِلَةٍ بَعْدَ شُرُوعِ الْمُؤَذِّنِ)

হাদীস নম্বর-৩৫৫ : হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ স. বলেন: নামাযের জামাআত দাঁড়িয়ে গেলে ফরয ব্যতীতহ কোন নামায নেই। মুহাম্মাদ বিন হােেতম এবং ইবনে রাফে’ শাবাবা সূত্রেও ওয়ারকা থেকে আমাকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
(মুসলিম: ১৫১৭)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজী এবং ইবনে মাজাহ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে।
(জামিউল উসূল: ৩৯৩৭)

সারসংক্ষেপ : উপরোল্লিখিত ৪টি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ফজরের জামাআত দাঁড়িয়ে গেলে আর সুন্নাত পড়া যাবে না; বরং ছুটে যাওয়া সুন্নাত সূর্য ওঠার পরে আদায় করতে হবে।
(তিরমিজী: ৪২৩)

এর বিপরীতে কোন কোন সাহাবায়ে কিরামের আমল এরূপ পাওয়া যায় যে, তাঁরা জামাআত দাঁড়ানোর পরে এলে মসজিদের কোণে দাঁড়িয়ে সংক্ষেপে দু’রাকাত নামায আদায় করে জামাআতে শরীক হতেন
এ মর্মে কিছু বর্ণনা নিম্নে পেশ করছি।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ، وَفَهْدٌ , قَالَا: ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: «خَرَجَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا مِنْ بَيْتِهِ , فَأُقِيمَتْ صَلَاةُ الصُّبْحِ , فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ الْمَسْجِدَ وَهُوَ فِي الطَّرِيقِ , ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى الصُّبْحَ مَعَ النَّاسِ»

হাদীস নম্বর-৩৫৬ : হযরত মুহাম্মাদ বিন কা’ব বলেন: হযরত ইবনে উমার রা. ঘর থেকে বের হলেন।
ততক্ষণে ফজরের জামাআত দাঁড়িয়ে গেছে। তিনি মসজিদে প্রবেশের পূর্বে দু’রাকাত নামায পড়ে নিলেন। অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করে মানুষের সাথে ফজরের নামায পড়লেন।
(ত্বহাবী: ২২০২)

হাদীসটির স্তর : হাসান। এ হাদীসের রাবীগণের মধ্যে শুধু আব্দুল্লাহ বিন সালেহ ব্যতীত সবাই-ই ثقة “নির্ভরযোগ্য”। মুহাম্মাদ বিন খুযাইমা ثقة “নির্ভরযোগ্য”। (ছিকাতু মিম্মাল লাম ইয়াকা’ ফিল কুতুবিস সিত্তাহ: রাবী নম্বর- ৯৭০০) ফাহাদ বিন সুলাইমানের ثقة ثبت “নির্ভরযোগ্য, মজবুত”।
(তারীখে দিমাশক: রাবী নম্বর- ৫৬৩৫) আর আব্দুল্লাহ বিন সালেহ-এর ব্যাপারে আল্লামা ইবনুল কত্তান বলেন: أنه مختلف فيه ، فحديثه حسن “তিনি বিতর্কিত; তবে তাঁর হাদীস হাসান”। (তাহজীবুত তাহজীব: আব্দুল্লাহ নামীয় রাবীদের ৪৪৮ নম্বর) অবশিষ্ট রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের নির্ভরযোগ্য রাবী।

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফজরের জামাআত শুরু হয়ে গেলে হযরত ইবনে উমার রা. সুন্নাত পড়েছেন। যদিও সেটা মসজিদের ভিতরে নয়। এ থেকে আরও একটি বিষয় প্রমাণিত হয় যে, ফরযের জামাআত শুরু হয়ে গেলে ফরয ব্যতীত কোন নামায নেই বাণীটি হয়তো মসজিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মসজিদের বাইরে কেউ কোন নামায পড়লে এ হাদীসে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়নি

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بن إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنِ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بن أَبِي مُوسَى، قَالَ:”جَاءَ ابْنُ مَسْعُودٍ، وَالإِمَامُ يُصَلِّي الصُّبْحَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ إِلَى سَارِيَةٍ، وَلَمْ يَكُنْ صَلَّى رَكْعَتَيِ الْفَجْرِ” رواه الطبراني ورجاله موثقون.

হাদীস নম্বর-৩৫৭ : আব্দুল্লাহ বিন আবু মুসা থেকে বর্ণিত: হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. এমন সময় মসজিদে আসলেন যখন ইমাম ফজরের নামাযে পড়ছিলেন। তখন তিনি একটি খুঁটির পাশে গিয়ে দু’রাকাত সুন্নাত নামায পড়লেন। এর আগে তিনি সুন্নাত পড়েননি। (তবারানী কাবীর: ৯২৭৯) আল্লামা হাইসামী রহ. বলেন: তবারানী (মু’জামে কাবীর কিতাবে) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বর্ণনাকারীগণ সবাই-ই নির্ভরযোগ্য।
(মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২৩৯২)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। আল্লামা হাইসামী রহ. বলেন: এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সবাই-ই নির্ভরযোগ্য। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২৩৯২) ইমাম ত্বহাবী রহ.ও হাদীসটি শরহু মাআনিল আছার কিতাবে বর্ণনা করেছেন।
(ত্বহাবী : ২১৯৯)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে বুঝে আসে যে, ফজরের  জামাআত শুরু হয়ে গেলেও খুঁটির আড়ালে বা এমন কোন কোণায় সংক্ষিপ্ত দু’রাকাত পড়ে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু এ আমলটি প্রকাশ্যভাবে পূর্ববর্ণিত মারফু’ হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক।

হযরত ইবনে উমার, ইবনে আব্বাস, আবু দারদা রা. এবং হযরত আবু উসমান নাহদী রা. থেকেও অনুরূপ আমল ত্বহাবী  শরীফে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে।

عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ قُلْتُ لِعَطَاءٍ دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ وَالْإِمَامُ فِي الصَّلَاةِ وَلَمْ أَكُنْ رَكَعْتُهُمَا قَالَ فَارْكَعْهُمَا فِي الْمَسْجِدِ إِلَّا أَنْ تَخْشَى أَنْ تَفُوتَكَ الرَّكْعَةُ الَّتِي الْإِمَامُ فِيهَا

হাদীস নম্বর-৩৫৮ : হযরত ইবনে জুরাইজ বলেন: আমি হযরত আতাকে জিজ্ঞেস করলাম: আমি এমন সময়ে মসজিদে এলাম যখন ইমাম নামাযরত; অথচ আমি সুন্নাত দু’রাকাত পড়িনি। (এমতাবস্থায় আমি কী করব?) তিনি বললেন: ইমাম যে রাকাতে আছে উক্ত রাকাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকলে পড়ে নাও।
(আব্দুর রযযাক: ৪০০৯)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাকতু’। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।

এ ব্যপারে হানাফী মাজহাবের আমল হিদায়া কিতাবে এভাবে বর্ণিত আছে যে,

وَمَنْ انْتَهَى إلَى الْإِمَامِ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ وَهُوَ لَمْ يُصَلِّ رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ : إنْ خَشَى أَنْ تَفُوتَهُ رَكْعَةٌ وَيُدْرِكَ الْأُخْرَى يُصَلِّي رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ ثُمَّ يَدْخُلُ ) لِأَنَّهُ أَمْكَنَهُ الْجَمْعُ بَيْنَ الْفَضِيلَتَيْنِ ( وَإِنْ خَشَى فَوْتَهُمَا دَخَلَ مَعَ الْإِمَامِ ) لِأَنَّ ثَوَابَ الْجَمَاعَةِ أَعْظَمُ ، وَالْوَعِيدَ بِالتَّرْكِ أَلْزَمُ

“যে ব্যক্তি ফজরের নামাযে এমন অবস্থায় উপস্থিত হলো যে, সে ফজরের সুন্নাত পড়েনি। যদি সে আশঙ্কা করে যে, সুন্নাত পড়লে তার এক রাকাত ছুটে যাবে আর এক রাকাত পাবে, তাহলে মসজিদের দরজার নিকটে দাঁড়িয়ে সুন্নাত পড়ে নিবে। এরপর জামাআতে অংশগ্রহণ করবে। কেননা, সে এভাবে উভয় ফযীলাতকে একত্রে গ্রহণের সুযোগ পেলো। আর যদি শেষ রাকাতও ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হয় তাহলে ইমামের সাথে জামাআতে শরীক হয়ে যাবে। কেননা জামাআতের সওয়াব বেশী এবং জামাআত তরকের ধমকিও গুরুতর”।
(হিদায়া: ১/১৫২)

একটি বিশ্লেষণ

ফজরের জামাআত শুরু হয়ে গেলেও আগে সুন্নাত পড়ে জামাআতে শরীক হওয়ার ব্যাপারে হানাফী মাজহাবের পক্ষে সাহাবায়ে কিরামের যে আমল পেশ করা হয়েছে, তার কোনটির মধ্যেও এ কথা উল্লেখ নেই যে, তাঁরা এক রাকাত ছুটে গেলেও আগে সুন্নাত পড়তেন। তখনকার ফজরের নামাযে যে ধরণের লম্বা কিরাত পড়ার বর্ণনা পাওয়া যায় তা থেকে বরং এটিই অনুমিত হয় যে, জামাআত শুরু হওয়ার সাথে সাথে কেউ মসজিদে এলে প্রথম রাকাতের রুকুর পূর্বে কয়েকবার সুন্নাত পড়তে পারবে। এ কারণে তার রাকাত ছুটবে না। ‘যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকাত পেলো সে নামায পেলো’ হাদীস দ্বারা দলীল দেয়া হয়ে থাকে যে, জামাআতের এক রাকাত ছুটে গেলেও আগে সুন্নাত পড়ে নিবে। অথচ উপরোল্লিখিত ৪টি সহীহ মারফু’ হাদীসের বর্ণনা থেকে বুঝা যায় যে, জামাআত শুরু হয়ে গেলে কেউ নতুন করে সুন্নাত পড়তে দাঁড়াবে না। সুন্নাত পড়ার কারণে ইচ্ছে করে রাকাত ছাড়ার কোন সুযোগ উক্ত হাদীসগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং ‘এক রাকাত পেলে নামায পাবে’ হাদীসের উদ্দেশ্য হলো: কেউ পূর্ণ জামাআত ধরার চেষ্টা করে যদি মসজিদে এসে পূর্ণ জামাআত ধরতে না পারে তবুও তিনি জামাআতের সওয়াব পেয়ে যাবেন।

আল্লামা শাব্বীর আহমাদ উসমানী রহ. ফাতহুল মুলহিমে এ সংক্রান্ত আলোচনায় বলেন:

وليعلم أن أداء ركعتى الفجر بشرط وجدان الركعة من المكتوبة فى زاوية من المسجد ليس هو أصل مذهبنا بل هو من تخريجات الأصحاب “জেনে রাখা উচিত, ফজরের ফরয নামায এক রাকাত পাওয়ার শর্তে মসজিদের কোণে দাঁড়িয়ে দু’রাকাত সুন্নাত পড়ে নেয়ার যে মত হানাফী মাজহাবে রয়েছে, এটা আমাদের মূল মাজহাব নয়; বরং মাজহাবের পরবর্তী ইমামদের ইজতিহাদ”। (ফাতহুল মুলহিম: ৪/৪৪৮) অতএব, উপরোল্লিখিত মারফু’ হাদীস ও সাহাবায়ে কিরামের আমলের সমন্বয় এভাবে হতে পারে যে, হযরত আবু মুসা থেকে বর্ণিত হাদীসের উদ্দেশ্য হলো: যদি কেউ ঘর থেকে সুন্নাত পড়ে না আসে তাহলে জামাআত শুরু হওয়ার আগে এসে সুন্নাত পড়া। ইবনে উমার রা.-এর হাদীসের উদ্দেশ্য হলো: যদি জামাআত দাঁড়িয়ে গিয়ে থাকে তাহলে মসজিদের বাইরে বা বারান্দা যদি মসজিদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত না হয়ে থাকে তাহলে সেখানে দাঁড়িয়ে সুন্নাত পড়ে নেয়া। আব্দুল্লাহ বিন সারজিস এবং মালেক বিন বুহাইনা রা.-এর হাদীসের উদ্দেশ্য হলো: যদি জামাআত শুরু হয়ে যায় আর মসজিদের বাইরে সুন্নাত পড়ার কোন ব্যবস্থা না থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবে সুন্নাত পড়বে না। যেহেতু ফরযের জামাআত শুরু হয়ে গেলে সুন্নাত পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। (মুসলিম: ১৫১৭) বরং সূর্য ওঠার পরে সুন্নাত পড়ে নিবে। (তিরমিজী: ৪২৩) হযরত ইবনে মাসউদ রা. এবং হযরত আতা রহ.-এর হাদীসের উদ্দেশ্য হলো: ফজরের জামাআত শুরু হয়ে যাওয়ার পরে যদি মসজিদের বাইরে সুন্নাত পড়ার ভালো ব্যবস্থা না থাকে আর সে সুন্নাত ছাড়তেও না চায় তাহলে খুঁটির আড়ালে বা মসজিদের কোণায় এ শর্তে পড়তে পারে যে, ইমাম যে রাকাত পড়াচ্ছে তা যেন না ছোটে। পূর্বোক্ত নিয়ম অনুসরণ করা হলে মারফু’ হাদীস ও সাহাবায়ে কিরামের আমলের মধ্যে সমন্বয় সাধি হবে।
সাথে সাথে মুসল্লীদের সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

Advertisements
ফজরের সালাত

ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে দেখলেন ইকামত দিচ্ছে এমন অবস্থাই আপনি কি করবেন? সুন্নত পড়ে নিবেন? না জামাতে সামিল হবেন?

ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ
প্রথমেই একটি হাদীসের দিকে দৃষ্টি বুলিয়ে নেই। হাদীসটি হল- ﻋﻦ
ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺇﺫﺍ ﺃﻗﻴﻤﺖ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﻼ ﺻﻼﺓ ﺇﻻ
ﺍﻟﻤﻜﺘﻮﺑﺔ হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ
করেছেনঃ যখন নামায শুরু হয়, তখন ফরজ নামায ছাড়া আর কোন নামায
পড়া জায়েজ নয়। {সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৪২১}
এবার ফজরের সুন্নাতের ব্যাপারে বর্ণিত কয়েকটি হাদীসের দিকে
দৃষ্টি দেই। যেমন- ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ : ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ
ﺳﻠﻢ ﻋﻠﻰ ﺷﻲﺀ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻮﺍﻓﻞ ﺃﺷﺪ ﻣﻨﻪ ﺗﻌﺎﻫﺪﺍ ﻋﻠﻰ ﺭﻛﻌﺘﻲ ﺍﻟﻔﺠﺮ হযরত আয়শা রাঃ
থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত এর মত কোন নফল
নামাযকে এত হিফাযত ও গুরুত্ব প্রদানকারী ছিলেন না। {সহীহ বুখারী,
হাদীস নং-১১১৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-২৪৬৩}
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻰ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﻗﺎﻝ ‏« ﺭﻛﻌﺘﺎ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻭﻣﺎ
ﻓﻴﻬﺎ হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ
দুনিয়া ও তাতে যা কিছু আছে তা থেকে ফজরের দুই রাকাত উত্তম।
{সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৭২১, তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-১৬৫০, সহীহ
ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১১০৭}
ﻋﻦ ﺃﺑﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ : ﻻ ﺗﺘﺮﻛﻮﺍ
ﺭﻛﻌﺘﻲ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻭﻟﻮ ﻃﺮﺩﺗﻜﻢ ﺍﻟﺨﻴﻞ হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত।
রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ অশ্বারোহী বাহিনী তোমাদের
পশ্চাদ্ধাবন করলেও তোমরা ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] ছেড়ো না।
{তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-১৬৪৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১২৬০,
সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৪২৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস
নং-৯২৫৩}
ফজরের ফরজের আগে দুই রাকাত নামায সুন্নত। এ দুই রাকাত সুন্নত
আদায়ের ক্ষেত্রে রাসুল সাঃ কী পরিমাণ গুরুত্বারোপ করেছেন তা
আমরা উপরোক্ত কয়েকটি হাদীস থেকে স্পষ্টই বুঝতে পারছি। এরকম
তাকীদ আর কোন সুন্নত নামাযের ক্ষেত্রে রাসূল সাঃ করেননি। যা
বুখারীতে বর্ণিত হযরত আয়শা রাঃ এর হাদীস দ্বারা স্পষ্ট। আর আমরা
একথাও ভাল করেই জানি যে, প্রতিটি বস্তু তার ঠিক সময়ে আদায়
করাই উক্ত ইবাদতের দাবি। ফজরের দুই রাকাত আদায়ের সময় হল
ফজরের ফরজ পড়ার আগে। তাই সে হিসেবে উপরে বর্ণিত ফজরের সুন্নত
পড়ার তাকিদ সম্বলিত হাদীস সুনিশ্চিতভাবেই ফজরের ফরজ পড়ার
আগে পড়ার জন্যই বলা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল রাসূল সাঃ তো ফরজ
নামায দাঁড়িয়ে গেলে কোন নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। তাহলে
ফজরের সুন্নত না পড়া অবস্থায় জামাত দাঁড়িয়ে গেলে গুরুত্বপূর্ণ
ফজরের সুন্নত এর কি করবে? যেটি আসল আদায়ের সময় হল ফজরের ফরজ
পড়ার আগে। এখনতো জামাতই দাঁড়িয়ে গেল। এখন করণীয় কি? এ
ব্যাপারে রাসূল সাঃ থেকে সরাসরি কোন কিছুই আমরা পাই না।
গুরুত্বপূর্ণ ফজরের সুন্নত যথাসময়ে আদায় করে জামাতে শরীক হবে? না
আগে জামাত পড়ে তারপর সুন্নাত পড়বে? এর কোন সমাধান রাসূল সাঃ
থেকে প্রমানিত নয়। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি? এক্ষেত্রে
আমাদের করণীয় হল রাসুল সাঃ এর হাদীস শুনেছেন সাহাবাগণ।
সাহাবাদের মাধ্যমে আমরা হাদীস পেয়েছি। সাহাবাগণ রাসূল সাঃ
থেকে সরাসরি কথা শুনেছেন। স্বচক্ষে রাসূল সাঃ এর আমল
দেখেছেন। তাই এক্ষেত্রে আমাদের কাছে সাহাবাগণ কর্তৃক সমাধান
ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই। আমরা দেখতে পাই সাহাবাগণের মাঝে
রাসূল সাঃ এর কাছের ও ফক্বীহ সাহাবাগণের অন্যতম হযরত আব্দুল্লাহ
বিন মাসউদ রাঃ, রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ,
হযরত আবু দারদা রাঃ, রাসূল সাঃ এর একনিষ্ট ভক্ত ও প্রতিটি কাজের
একনিষ্ট অনুসারী হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ সহ অনেক সাহাবী
ফজরের সুন্নত না পড়া অবস্থায় নামায দাঁড়িয়ে গেলেও আগে সুন্নত
পড়ে, তারপর ফরজে শরীক হতেন। যেহেতু আমরা রাসূল সাঃ এর নামায
সচক্ষে দেখিনি। তাই রাসূল সাঃ এর হাদীস আমরা যাদের মাধ্যমে
পেলাম তাদের আমল এর কারণে বলে থাকি যে, ফজরের দুই রাকাত
সুন্নত জামাত শুরু হলেও পড়ে নিতে হবে যদি নামায পাওয়ার সম্ভাবনা
থাকে। যদি সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে সুন্নত বাদ দিয়ে ফরজ পড়ে
নিবে। এ আমল আমাদের বের করা নয়। সাহাবাগন কর্তৃক আমল করা
আমল। তাই আমরা নিজেদের বুঝ ও সমঝের উপর নির্ভর না করে
সাহাবাগণের বুঝ ও সমঝের উপর নির্ভর করেছি। নিম্নে প্রসিদ্ধ
সাহাবাগণের আমল উদ্ধৃত করা হল। হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ এর
আমল ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺃﺑﻰ ﻣﻮﺳﻰ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ : ﺣﻴﻦ ﺩﻋﺎﻫﻢ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺍﻟﻌﺎﺹ ﺩﻋﺎ ﺃﺑﺎ ﻣﻮﺳﻰ
ﻭﺣﺬﻳﻔﺔ ﻭﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻢ ﻗﺒﻞ ﺃﻥ ﻳﺼﻠﻰ ﺍﻟﻐﺪﺍﺓ ﺛﻢ ﺧﺮﺟﻮﺍ ﻣﻦ
ﻋﻨﺪﻩ ﻭﻗﺪ ﺃﻗﻴﻤﺖ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﺠﻠﺲ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻰ ﺃﺳﻄﻮﺍﻧﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﺼﻠﻰ ﺍﻟﺮﻛﻌﺘﻴﻦ ﺛﻢ
ﺩﺧﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﻬﺬﺍ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺪ ﻓﻌﻞ ﻫﺬﺍ ﻭﻣﻌﻪ ﺣﺬﻳﻔﺔ ﻭﺃﺑﻮ ﻣﻮﺳﻰ ﻻ ﻳﻨﻜﺮﺍﻥ ﺫﻟﻚ
ﻋﻠﻴﻪ ﻓﺪﻝ ﺫﻟﻚ ﻋﻠﻰ ﻣﻮﺍﻓﻘﺘﻬﻤﺎ ﺇﻳﺎﻩ ‏( ﺷﺮﺡ ﻣﻌﺎﻧﻰ ﺍﻷﺛﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺮﺟﻞ
ﻳﺪﺧﻞ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻭﺍﻹﻣﺎﻡ ﻓﻲ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺭﻛﻊ ﺃﻳﺮﻛﻊ ﺃﻭ ﻻ ﻳﺮﻛﻊ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ-
2037 আব্দুল্লাহ বিন মুসা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা
সাঈদ বিন মুসা হযরত আবু মুসা আশআরী রাঃ, হযরত হুযায়ফা রাঃ এবং
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ কে ডাকলেন ফজরের নামাযের
আগে। তারপর তারা বের হলেন তার [সাঈদ বিন মুসা রাঃ] নিকট থেকে
এমতাবস্থায় যে, [ফজরের] নামায দাঁড়িয়ে গেছে। তখন আব্দুল্লাহ
মসজিদের এক স্তম্ভের কাছে বসে গেলেন। তারপর দুই রাকাত [ফজরের
সুন্নাত] নামায পড়লেন। তারপর নামাযে [ফরজের জামাতে] শরীক
হলেন। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ একাজটি করলেন। সাথে ছিলেন
হুযায়ফা ও আবু মুসা রাঃ। কিন্তু তাদের কেউ এটা বারন করেননি।
সুতরাং এটি প্রমাণ বহন করে যে, তারাও এতে রাজি ছিলেন।
{তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৩৭} ﻋﻦ ﺃﺑﻰ ﺇﺳﺤﺎﻕ ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺃﺑﻰ ﻣﻮﺳﻰ
ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ : ﺍﻧﻪ ﺩﺧﻞ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻭﺍﻹﻣﺎﻡ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﺼﻠﻰ ﺭﻛﻌﺘﻲ ﺍﻟﻔﺠﺮ ‏( ﺭﻗﻢ
ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 2038- ) আব্দুল্লাহ বিন আবী মুসা আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে
বর্ণনা করেন যে, তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে, ইমাম
সাহেব ছিলেন নামাযে, তখন তিনি [আগে] ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত]
পড়লেন। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৩৮} হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস
রাঃ এর আমল ﻋﻦ ﺃﺑﻰ ﻣﺠﻠﺰ ﻗﺎﻝ : ﺩﺧﻠﺖ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﻲ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻐﺪﺍﺓ ﻣﻊ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﻭﺍﺑﻦ
ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻢ ﻭﺍﻹﻣﺎﻡ ﻳﺼﻠﻰ ﻓﺄﻣﺎ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻓﺪﺧﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻒ
ﻭﺃﻣﺎ ﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻓﺼﻠﻰ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﺛﻢ ﺩﺧﻞ ﻣﻊ ﺍﻹﻣﺎﻡ ‏( ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 3029-
আবী মিজলাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ফজরের নামাযে
একদা ইবনে ওমর রাঃ, ইবনে আব্বাস রাঃ এর সাথে মসজিদে প্রবেশ
করলাম এমতাবস্থায় যে, ইমাম সাহেব নামায পড়াচ্ছিল। তখন ইবনে ওমর
রাঃ কাতারে শামিল হয়ে গেলেন। আর ইবনে আব্বাস রাঃ দুই রাকাত
[সুন্নত] পড়লেন। তারপর ইমামের সাথে নামাযে শরীক হলেন। {শরহু
মাআনিল আসার, হাদীস নং-৩০২৯}
ﻋﻦ ﺃﺑﻰ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﺍﻷﻧﺼﺎﺭﻱ ﻗﺎﻝ : ﺟﺎﺀ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻭﺍﻹﻣﺎﻡ ﻓﻲ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻐﺪﺍﺓ ﻭﻟﻢ
ﻳﻜﻦ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﺮﻛﻌﺘﻴﻦ ﻓﺼﻠﻰ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺍﻟﺮﻛﻌﺘﻴﻦ ﺧﻠﻒ ﺍﻹﻣﺎﻡ
ﺛﻢ ﺩﺧﻞ ﻣﻌﻬﻢ ﻭﻗﺪ ﺭﻭﻯ ﻋﻦ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﻣﺜﻞ ﺫﻟﻚ আবু উসমান আলআনসারী থেকে
বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস এমতাবস্থায় এলেন যে,
ইমাম সাহেব ফজরের নামায পড়াচ্ছিলেন। আর তিনি ফজরের [সুন্নত] দুই
রাকাত পড়েননি। তাই আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ দুই রাকাত [সুন্নত]
পড়লেন ইমামের পিছনে। তারপর তিনি ইমামের সাথে শরীক হলেন।
ইবনে ওমর রাঃ এর ব্যাপারেও এমনি বর্ণিত। {তাহাবী শরীফ, হাদীস
নং-২০৪০}
আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ এর আমল ﻧﺎﻓﻌﺎ ﻳﻘﻮﻝ : ﺃﻳﻘﻈﺖ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻟﺼﻼﺓ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻭﻗﺪ ﺃﻗﻴﻤﺖ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﻘﺎﻡ ﻓﺼﻠﻰ ﺍﻟﺮﻛﻌﺘﻴﻦ হযরত নাফে বলেনঃ
আমি ইবনে ওমর রাঃ কে ফজরের নামাযের জন্য জাগালাম
এমতাবস্থায় যে, ফজরের নামায জামাত দাঁড়িয়ে গেছে। তখন তিনি
ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন। {শরহু মাআনিল আসার, হাদীস
নং-২০৪২}
হযরত আবু দারদা রাঃ এর আমল ﻋﻦ ﺃﺑﻰ ﺍﻟﺪﺭﺩﺍﺀ : ﺃﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻳﺪﺧﻞ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻭﺍﻟﻨﺎﺱ
ﺻﻔﻮﻑ ﻓﻲ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻓﻴﺼﻠﻰ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﻓﻲ ﻧﺎﺣﻴﺔ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺛﻢ ﻳﺪﺧﻞ ﻣﻊ ﺍﻟﻘﻮﻡ ﻓﻲ
ﺍﻟﺼﻼﺓ আবু দারদা থেকে বর্ণিত। তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন
এমতাবস্থায় যে, লোকেরা ফজরের নামাযের কাতারে ছিল, [তথা
নামায শুরু করে দিয়েছে] তখন তিনি ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন
মসজিদের কিনারায়,তারপর লোকদের সাথে নামাযে শরীক হলেন।
{তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৪৪}
হযরত ওমর রাঃ এর জমানায় সাহাবায়ে কেরামের আমল ﻋﻦ ﺃﺑﻰ ﻋﺜﻤﺎﻥ
ﺍﻟﻨﻬﺪﻱ ﻗﺎﻝ : ﻛﻨﺎ ﻧﺄﺗﻲ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺒﻞ ﺃﻥ ﻧﺼﻠﻰ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﻗﺒﻞ
ﺍﻟﺼﺒﺢ ﻭﻫﻮ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﻨﺼﻠﻰ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﻓﻲ ﺁﺧﺮ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺛﻢ ﻧﺪﺧﻞ ﻣﻊ ﺍﻟﻘﻮﻡ ﻓﻲ
ﺻﻼﺗﻬﻢ আবু উসমান আননাহদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা
ওমর বিন খাত্তাব রাঃ এর কাছে এলাম ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত
পড়ার আগে। তখন তিনি নামাযরত ছিলেন। তখন আমরা মসজিদের শেষ
মাথায় ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লাম। তারপর লোকদের সাথে
নামাযে শরীক হলাম। {শরহু মাআনিল আসার, হাদীস নং-২০৪৬}
তাবেয়ী মাসরূক রহঃ এর আমল ﺍﻟﺸﻌﺒﻲ ﻳﻘﻮﻝ : ﻛﺎﻥ ﻣﺴﺮﻭﻕ ﻳﺠﻰﺀ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﻘﻮﻡ
ﻭﻫﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺭﻛﻊ ﺭﻛﻌﺘﻲ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻓﻴﺼﻠﻰ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺛﻢ ﻳﺪﺧﻞ ﻣﻊ
ﺍﻟﻘﻮﻡ ﻓﻲ ﺻﻼﺗﻬﻢ শাবী থেকে বর্ণিত। মাসরূক লোকদের কাছে এমন সময়
এলেন যখন তারা নামায পড়ছিল। তিনি সে সময় ফজরের দুই রাকাত
[সুন্নত] পড়েন নি। তাই তিনি মসজিদে দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন,তারপর
লোকদের সাথে নামাযে শরীক হলেন। {তাহাবী শরীফ,হাদীস
নং-২০৪৮}
তাবেয়ী হাসান বসরী রহঃ এর আমল ﻳﺰﻳﺪ ﺑﻦ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻋﻦ ﺍﻟﺤﺴﻦ : ﺃﻧﻪ ﻛﺎﻥ
ﻳﻘﻮﻝ ﺇﺫﺍ ﺩﺧﻠﺖ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻭﻟﻢ ﺗﺼﻞ ﺭﻛﻌﺘﻲ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻓﺼﻠﻬﻤﺎ ﻭﺍﻥ ﻛﺎﻥ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﻳﺼﻠﻰ ﺛﻢ
ﺍﺩﺧﻞ ﻣﻊ ﺍﻹﻣﺎﻡ ইয়াযিদ বিন ইবরাহীম হাসান [বসরী রহঃ} থেকে বর্ণনা
করেন। তিনি বলেন যে, তুমি যদি এমতাবস্থায় মসজিদে প্রবেশ কর যে,
তুমি ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়নি, তাহলে তা পড় যদিও ইমাম
নামায পড়াচ্ছে। তারপর ইমামের সাথে শরীক হও। {তাহাবী শরীফ,
হাদীস নং-২০৫০}

আহলে হাদিছের মিথ্যাচার

ইবনে তাইমিয়ার গলায় তাবিজ

আহলে হাদিস ভাইজানেরা এইবার শায়েখদের
কাছ থেকে ফতোয়া নিয়ে প্রচার করুন প্লিয
!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ) এর গলায় তাবিজ!!
সেই তাবিজের সুতা তার মৃত্যুর পর বিক্রি হল ১৫০ দিরহামে!!!!
.
আর এই ঘটনা উল্লেখ করেছেন হাফিজ ইবনে কাসির (রহ) তার অমর গ্রন্থ –“আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া “- তে!!
.
আপনাদের শায়েখদের কাছে তাবিজ শিরক! যে তাবিজ গলায় ঝুলায় সেও শিরককারী !!
.
আপনাদের থেকে দুটি ফাতোয়ার প্রত্যাশীঃ
১.তাবিজ ব্যবহার করে ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ) শিরক করেছেন!
২.এই ঘটনা উল্লেখ করে ইবনে কাসির (রহ) শিরকের প্রচার করেছেন!
.
এখন কি আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াকে ছুড়ে ফেলবেন ?
নাকি আলবানি সাহেবের সহিহ বুখারির মত, সহিহ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া নতুন করে আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ সাহেবের মত কাউকে দিয়ে লিখাবেন ?

জানাবেন কিন্তু ! —————–

দাওয়াত ও তাবলীগ

জয়ীফ হাদিছ ও ফাযায়েলে আমাল

মুসলিম উম্মাহর নির্ভরযোগ্য সকল হাদিসবিদের মতে ক্ষেত্রবিশেষে যয়িফ হাদিসও গ্রহণযোগ্য ও আমলযোগ্য হতে পারে। ফাযায়িলে আ’মালের ক্ষেত্রে যয়িফ হাদিসও যে গ্রহণীয় তা তো শীর্ষস্থানীয় প্রায় সকল মনীষীরই সিদ্ধান্ত। দৃষ্টান্তরূপে কয়েকটা মাত্র উল্লেখ করা হল।

ইমাম নববি রাহ. লিখেন-

قال العلماء من المحدثين والفقهاء وغيرهم: يجوز ويستحب العمل في الفضائل والترغيب والترهيب بالحديث الضعيف ما لم يكن موضوعا.

“মুহাদ্দিস, ফকিহ ও আলিমগণ বলেন, ফাযায়িল, তারগিব ও তারহিব বা ভালো কাজের উৎসাহ এবং মন্দ কাজ থেকে ভীতি প্রদর্শন সংক্রান্ত বিষয়ে যয়িফ হাদিসের ওপর আমল করা জায়িয, বরং মুসতাহাব। তবে মাওযূ’ হাদিসের ক্ষেত্রে এই হুকম প্রযোজ্য নয়।” {আল আযকার; নাওয়াওয়ি, পৃ. ৮, দারুল ফিকর, বয়রুত, ১৪১৪ হি.}

ইমাম নববি রাহ. অন্যত্র বলেন,

وقد اتفق العلماء على جواز العمل بالحديث الضعيف في فضائل الأعمال.

“সকল আলিম এ বিষয়ে একমত যে, ফাযায়িলের ক্ষেত্রে যয়িফ হাদিসের ওপর আমল করা যেতে পারে।” {আল আরবাউন; নাওয়াওয়ি, পৃ. ৮, দারুল মিনহাজ, বয়রুত, ১৪৩০ হি.}

আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ূতি রাহ. বলেন,

إن الحديث الضعيف يتسامح به في فضائل الأعمال.

“ফাযায়িলে আমলের ক্ষেত্রে যয়িফ হাদিসের ওপর আমল করার সুযোগ রয়েছে।” {আল হাওয়ি লিল ফাতাওয়া; সুয়ূতি, ২/২৩২, দারুল ফিকর, বয়রুত, ১৪২৪ হি.}

মোল্লা আলি কারি রাহ. বলেন,

والضعيف يعمل به في فضائل الأعمال اتفاقا.

“সর্বসম্মতিক্রমে ফাযায়িলে আমালের ক্ষেত্রে যয়িফ হাদিসের ওপর আমল করা যাবে।” {আল আসরারুল মারফুআ ফিল আখবারিল মাওযুআ, পৃ. ৩১৫ দারুল ফিকর, বয়রুত}

চাইলে উসুলে হাদিসের কিতাব থেকে আরো ভুরি ভুরি উদাহরণ দেওয়া যাবে। তবে যারা বুঝার তারা এতেই বুঝবে। আর যারা বুঝবে না তাদেরকে হাজার রেফারেন্স দিলেও কাজ হবে না।

ইসলামিক কবিতা

Urdu poem

الٰہی تیری چوکھٹ پر بھکاری بن کے آیا ہوں
سراپا فقر ہوں عجز و ندامت ساتھ لایا ہوں

بھکاری وہ کہ جس کے پاس جھولی ہے نہ پیالہ ہے
بھکاری وہ جسے حرص و ہوس نے مار ڈالا ہے

متاع دین و دانش نفس کے ہاتھوں سے لٹوا کر
سکونِ قلب کی دولت ہوس کی بھینٹ چڑھوا کر

لٹا کر ساری پونجی غفلت و نسیاں کی دلدل میں
سہارا لینے آیا ہوں ترے کعبے کے آنچل میں

گناہوں کی لپٹ سے کائناتِ قلب افسردہ
ارادے مضمحل،ہمت شکستہ حوصلے مردہ

کہاں سے لاؤں طاقت دل کی سچی ترجمانی کی
کہ کس جھنجھال میں گزری ہیں گھڑیاں زندگانی کی

خلاصہ یہ کہ بس جل بُھن کے اپنی روسیاہی سے
سراپا فقر بن کر اپنی حالت کی تباہی سے

ترے دربار میں لایا ہوں اب اپنی زبوں حالی
تری چوکھٹ کے لائق ہر عمل سے ہاتھ ہیں خالی

یہ تیرا گھر ہے تیرے مہر کا دربار ہے مولا
سراپا نور ہے اک مَہبطِ انوار ہے مولا

تری چوکھٹ کے جو آداب ہیں میں ان سے خالی ہوں
نہیں جس کو سلیقہ مانگنے کا وہ سوالی ہوں

زباں غرقِ ندامت دل کی ناقص ترجمانی پر
خدایا رحم میرے اس زبانِ بے زبانی پر

یہ آنکھیں خشک ہیں یارب انہیں رونا نہیں آتا
سلگتے داغ ہیں دل میں جنہیں دھونا نہیں آتا

الٰہی تیری چوکھت پر بھکاری بن کے آیا ہوں
سراپا فقر ہوں عجزوندامت ساتھ لایاہوں