Uncategorized

ফজরের সুন্নত

ফজরের জামাআত শুরু হয়ে গেলে সুন্নাত পড়ার হুকুম

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ، ح وَحَدَّثَنِي حَامِدُ بْنُ عُمَرَ الْبَكْرَاوِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ يَعْنِي ابْنَ زِيَادٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، كُلُّهُمْ عَنْ عَاصِمٍ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَاللَّفْظُ لَهُ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ، قَالَ دَخَلَ رَجُلٌ الْمَسْجِدَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْغَدَاةِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ فِي جَانِبِ الْمَسْجِدِ ثُمَّ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا سَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَا فُلاَنُ بِأَىِّ الصَّلاَتَيْنِ اعْتَدَدْتَ أَبِصَلاَتِكَ وَحْدَكَ أَمْ بِصَلاَتِكَ مَعَنَا �( رَوَاه مُسْلِمٌ فِىْ بَابِ كَرَاهَةِ الشُّرُوعِ فِي نَافِلَةٍ بَعْدَ شُرُوعِ الْمُؤَذِّنِ)

হাদীস নম্বর-৩৫২ : হযরত আব্দুল্লাহ বিন সারজিস
রা. বলেন: রসূলুল্লাহ স. ফজরের নামাযে ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে মসজিদের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত (সুন্নাত) নামায আদায় করলো।
রসূলুল্লাহ স. নামায শেষ করে বললেন: হে অমুক! তোমার ফরয নামায হিসেবে তুমি কোনটা গণনা করলে? তোমার একাকী নামায, না আমাদের সাথের নামায?
(মুসলিম: ১৫২৪)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং নাসাঈ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে।
(জামিউল উসূল: ৪০৯২) 

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে,
ফজরের নামাযের ইকামাত শুরু হলে আর সুন্নাত পড়া যাবে না। এমনকি মসজিদের কোণেও নয়। আল্লামা শাব্বীর আহমাদ উসমানী রহ. এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন: قَوْلُه (فِىْ جَانِبِ الْمَسْجِدِ) إلخ: ظَاهِرُه يَرُدُّ عَلى مَنْ أجَازَ رَكْعَتَى الْفَجْرِ فِىْ زَاوِيَةٍ مِنْ زَوَايَا الْمَسْجِدِ فَالْأحْوَطُ الإجْتِنَابُ مِنْه এ হাদীসের প্রকাশ্য শব্দ তাদের মতমাত প্রত্যাখ্যান করে যারা মসজিদের কোণে দাঁড়িয়ে দু’রাকাত পড়ে নেয়ার অনুমতি দেয়। সুতরাং এর থেকে বেঁচে থাকাই সতর্কতার দাবী”।
(ফাতহুল মুলহিম: ৪/৪৫২)

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ بُحَيْنَةَ، قَالَ أُقِيمَتْ صَلاَةُ الصُّبْحِ فَرَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يُصَلِّي وَالْمُؤَذِّنُ يُقِيمُ فَقَالَ � “� أَتُصَلِّي الصُّبْحَ أَرْبَعًا �”� (رَوَاه مُسْلِمٌ فِىْ بَابِ كَرَاهَةِ الشُّرُوعِ فِي نَافِلَةٍ بَعْدَ شُرُوعِ الْمُؤَذِّنِ)

হাদীস নম্বর-৩৫৩: হযরত মালেক বিন বুহাইনা
রা. বলেন: ফজরের জামাআত দাঁড়িয়ে গেলো। মুআজ্জিন ইকামাত দেয়া অবস্থায় রসূলুল্লাহ স. এক ব্যক্তিকে নামায পড়তে দেখে ইরশাদ করলেন: তুমি কি ফজরের নামায ৪ রাকাত পড়বে?
(মুসলিম: ১৫২৩)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি বুখারী, ইবনে মাজাহ এবং নাসাঈ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে।
(জামিউল উসূল: ৪০৯১)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফজরের নামাযের ইকামাত শুরু হলে আর সুন্নাত পড়া যাবে না।

وَعَنْ أَبِي مُوسَى «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ  رَأَى رَجُلًا صَلَّى رَكْعَتِي الْغَدَاةِ حِينَ أَخَذَ الْمُؤَذِّنُ يُقِيمُ فَغَمَزَ النَّبِيُّ  صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْكِبَهُ وَقَالَ: أَلَا كَانَ هَذَا قَبْلَ ذَا.رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَالْأَوْسَطِ وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ.

হাদীস নম্বর-৩৫৪ : হযরত আবু মুসা রা. থেকে বর্ণিত, মুআজ্জিন যখন ইকামাত দিচ্ছেন তখন
রসূলুল্লাহ স. এক ব্যক্তিকে ফজরের সুন্নাত পড়তে দেখে তার কাঁধ ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন: এটা আরও আগে পড়তে পারতে না? আল্লামা হাইসামী বলেন: হাদীসটি তবারানী তাঁর মু’জামে কাবীর ও আওসাতে বর্ণনা করেছেন এবং এর রাবীগণ ثقةٌ “নির্ভরযোগ্য”। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২৩৯৪)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। আল্লামা হাইসামী বলেন: হাদীসটি তবারানী তাঁর মু’জামে কাবীর ও আওসাতে বর্ণনা করেছেন এবং এর রাবীগণ ثقةٌ “নির্ভরযোগ্য”। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২৩৯৪)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফজরের নামাযের ইকামাত শুরু হলে আর সুন্নাত পড়া যাবে না।

وحَدَّثَنَي أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ وَرْقَاءَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةُ». وحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَابْنُ رَافِعٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنِي وَرْقَاءُ بِهَذَا الْإِسْنَادِ (رَوَاه مُسْلِمٌ فِىْ بَابِ كَرَاهَةِ الشُّرُوعِ فِي نَافِلَةٍ بَعْدَ شُرُوعِ الْمُؤَذِّنِ)

হাদীস নম্বর-৩৫৫ : হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ স. বলেন: নামাযের জামাআত দাঁড়িয়ে গেলে ফরয ব্যতীতহ কোন নামায নেই। মুহাম্মাদ বিন হােেতম এবং ইবনে রাফে’ শাবাবা সূত্রেও ওয়ারকা থেকে আমাকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
(মুসলিম: ১৫১৭)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজী এবং ইবনে মাজাহ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে।
(জামিউল উসূল: ৩৯৩৭)

সারসংক্ষেপ : উপরোল্লিখিত ৪টি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ফজরের জামাআত দাঁড়িয়ে গেলে আর সুন্নাত পড়া যাবে না; বরং ছুটে যাওয়া সুন্নাত সূর্য ওঠার পরে আদায় করতে হবে।
(তিরমিজী: ৪২৩)

এর বিপরীতে কোন কোন সাহাবায়ে কিরামের আমল এরূপ পাওয়া যায় যে, তাঁরা জামাআত দাঁড়ানোর পরে এলে মসজিদের কোণে দাঁড়িয়ে সংক্ষেপে দু’রাকাত নামায আদায় করে জামাআতে শরীক হতেন
এ মর্মে কিছু বর্ণনা নিম্নে পেশ করছি।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ، وَفَهْدٌ , قَالَا: ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: «خَرَجَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا مِنْ بَيْتِهِ , فَأُقِيمَتْ صَلَاةُ الصُّبْحِ , فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ الْمَسْجِدَ وَهُوَ فِي الطَّرِيقِ , ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى الصُّبْحَ مَعَ النَّاسِ»

হাদীস নম্বর-৩৫৬ : হযরত মুহাম্মাদ বিন কা’ব বলেন: হযরত ইবনে উমার রা. ঘর থেকে বের হলেন।
ততক্ষণে ফজরের জামাআত দাঁড়িয়ে গেছে। তিনি মসজিদে প্রবেশের পূর্বে দু’রাকাত নামায পড়ে নিলেন। অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করে মানুষের সাথে ফজরের নামায পড়লেন।
(ত্বহাবী: ২২০২)

হাদীসটির স্তর : হাসান। এ হাদীসের রাবীগণের মধ্যে শুধু আব্দুল্লাহ বিন সালেহ ব্যতীত সবাই-ই ثقة “নির্ভরযোগ্য”। মুহাম্মাদ বিন খুযাইমা ثقة “নির্ভরযোগ্য”। (ছিকাতু মিম্মাল লাম ইয়াকা’ ফিল কুতুবিস সিত্তাহ: রাবী নম্বর- ৯৭০০) ফাহাদ বিন সুলাইমানের ثقة ثبت “নির্ভরযোগ্য, মজবুত”।
(তারীখে দিমাশক: রাবী নম্বর- ৫৬৩৫) আর আব্দুল্লাহ বিন সালেহ-এর ব্যাপারে আল্লামা ইবনুল কত্তান বলেন: أنه مختلف فيه ، فحديثه حسن “তিনি বিতর্কিত; তবে তাঁর হাদীস হাসান”। (তাহজীবুত তাহজীব: আব্দুল্লাহ নামীয় রাবীদের ৪৪৮ নম্বর) অবশিষ্ট রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের নির্ভরযোগ্য রাবী।

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফজরের জামাআত শুরু হয়ে গেলে হযরত ইবনে উমার রা. সুন্নাত পড়েছেন। যদিও সেটা মসজিদের ভিতরে নয়। এ থেকে আরও একটি বিষয় প্রমাণিত হয় যে, ফরযের জামাআত শুরু হয়ে গেলে ফরয ব্যতীত কোন নামায নেই বাণীটি হয়তো মসজিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মসজিদের বাইরে কেউ কোন নামায পড়লে এ হাদীসে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়নি

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بن إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنِ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بن أَبِي مُوسَى، قَالَ:”جَاءَ ابْنُ مَسْعُودٍ، وَالإِمَامُ يُصَلِّي الصُّبْحَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ إِلَى سَارِيَةٍ، وَلَمْ يَكُنْ صَلَّى رَكْعَتَيِ الْفَجْرِ” رواه الطبراني ورجاله موثقون.

হাদীস নম্বর-৩৫৭ : আব্দুল্লাহ বিন আবু মুসা থেকে বর্ণিত: হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. এমন সময় মসজিদে আসলেন যখন ইমাম ফজরের নামাযে পড়ছিলেন। তখন তিনি একটি খুঁটির পাশে গিয়ে দু’রাকাত সুন্নাত নামায পড়লেন। এর আগে তিনি সুন্নাত পড়েননি। (তবারানী কাবীর: ৯২৭৯) আল্লামা হাইসামী রহ. বলেন: তবারানী (মু’জামে কাবীর কিতাবে) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বর্ণনাকারীগণ সবাই-ই নির্ভরযোগ্য।
(মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২৩৯২)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। আল্লামা হাইসামী রহ. বলেন: এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সবাই-ই নির্ভরযোগ্য। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২৩৯২) ইমাম ত্বহাবী রহ.ও হাদীসটি শরহু মাআনিল আছার কিতাবে বর্ণনা করেছেন।
(ত্বহাবী : ২১৯৯)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে বুঝে আসে যে, ফজরের  জামাআত শুরু হয়ে গেলেও খুঁটির আড়ালে বা এমন কোন কোণায় সংক্ষিপ্ত দু’রাকাত পড়ে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু এ আমলটি প্রকাশ্যভাবে পূর্ববর্ণিত মারফু’ হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক।

হযরত ইবনে উমার, ইবনে আব্বাস, আবু দারদা রা. এবং হযরত আবু উসমান নাহদী রা. থেকেও অনুরূপ আমল ত্বহাবী  শরীফে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে।

عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ قُلْتُ لِعَطَاءٍ دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ وَالْإِمَامُ فِي الصَّلَاةِ وَلَمْ أَكُنْ رَكَعْتُهُمَا قَالَ فَارْكَعْهُمَا فِي الْمَسْجِدِ إِلَّا أَنْ تَخْشَى أَنْ تَفُوتَكَ الرَّكْعَةُ الَّتِي الْإِمَامُ فِيهَا

হাদীস নম্বর-৩৫৮ : হযরত ইবনে জুরাইজ বলেন: আমি হযরত আতাকে জিজ্ঞেস করলাম: আমি এমন সময়ে মসজিদে এলাম যখন ইমাম নামাযরত; অথচ আমি সুন্নাত দু’রাকাত পড়িনি। (এমতাবস্থায় আমি কী করব?) তিনি বললেন: ইমাম যে রাকাতে আছে উক্ত রাকাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকলে পড়ে নাও।
(আব্দুর রযযাক: ৪০০৯)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাকতু’। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।

এ ব্যপারে হানাফী মাজহাবের আমল হিদায়া কিতাবে এভাবে বর্ণিত আছে যে,

وَمَنْ انْتَهَى إلَى الْإِمَامِ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ وَهُوَ لَمْ يُصَلِّ رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ : إنْ خَشَى أَنْ تَفُوتَهُ رَكْعَةٌ وَيُدْرِكَ الْأُخْرَى يُصَلِّي رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ ثُمَّ يَدْخُلُ ) لِأَنَّهُ أَمْكَنَهُ الْجَمْعُ بَيْنَ الْفَضِيلَتَيْنِ ( وَإِنْ خَشَى فَوْتَهُمَا دَخَلَ مَعَ الْإِمَامِ ) لِأَنَّ ثَوَابَ الْجَمَاعَةِ أَعْظَمُ ، وَالْوَعِيدَ بِالتَّرْكِ أَلْزَمُ

“যে ব্যক্তি ফজরের নামাযে এমন অবস্থায় উপস্থিত হলো যে, সে ফজরের সুন্নাত পড়েনি। যদি সে আশঙ্কা করে যে, সুন্নাত পড়লে তার এক রাকাত ছুটে যাবে আর এক রাকাত পাবে, তাহলে মসজিদের দরজার নিকটে দাঁড়িয়ে সুন্নাত পড়ে নিবে। এরপর জামাআতে অংশগ্রহণ করবে। কেননা, সে এভাবে উভয় ফযীলাতকে একত্রে গ্রহণের সুযোগ পেলো। আর যদি শেষ রাকাতও ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হয় তাহলে ইমামের সাথে জামাআতে শরীক হয়ে যাবে। কেননা জামাআতের সওয়াব বেশী এবং জামাআত তরকের ধমকিও গুরুতর”।
(হিদায়া: ১/১৫২)

একটি বিশ্লেষণ

ফজরের জামাআত শুরু হয়ে গেলেও আগে সুন্নাত পড়ে জামাআতে শরীক হওয়ার ব্যাপারে হানাফী মাজহাবের পক্ষে সাহাবায়ে কিরামের যে আমল পেশ করা হয়েছে, তার কোনটির মধ্যেও এ কথা উল্লেখ নেই যে, তাঁরা এক রাকাত ছুটে গেলেও আগে সুন্নাত পড়তেন। তখনকার ফজরের নামাযে যে ধরণের লম্বা কিরাত পড়ার বর্ণনা পাওয়া যায় তা থেকে বরং এটিই অনুমিত হয় যে, জামাআত শুরু হওয়ার সাথে সাথে কেউ মসজিদে এলে প্রথম রাকাতের রুকুর পূর্বে কয়েকবার সুন্নাত পড়তে পারবে। এ কারণে তার রাকাত ছুটবে না। ‘যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকাত পেলো সে নামায পেলো’ হাদীস দ্বারা দলীল দেয়া হয়ে থাকে যে, জামাআতের এক রাকাত ছুটে গেলেও আগে সুন্নাত পড়ে নিবে। অথচ উপরোল্লিখিত ৪টি সহীহ মারফু’ হাদীসের বর্ণনা থেকে বুঝা যায় যে, জামাআত শুরু হয়ে গেলে কেউ নতুন করে সুন্নাত পড়তে দাঁড়াবে না। সুন্নাত পড়ার কারণে ইচ্ছে করে রাকাত ছাড়ার কোন সুযোগ উক্ত হাদীসগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং ‘এক রাকাত পেলে নামায পাবে’ হাদীসের উদ্দেশ্য হলো: কেউ পূর্ণ জামাআত ধরার চেষ্টা করে যদি মসজিদে এসে পূর্ণ জামাআত ধরতে না পারে তবুও তিনি জামাআতের সওয়াব পেয়ে যাবেন।

আল্লামা শাব্বীর আহমাদ উসমানী রহ. ফাতহুল মুলহিমে এ সংক্রান্ত আলোচনায় বলেন:

وليعلم أن أداء ركعتى الفجر بشرط وجدان الركعة من المكتوبة فى زاوية من المسجد ليس هو أصل مذهبنا بل هو من تخريجات الأصحاب “জেনে রাখা উচিত, ফজরের ফরয নামায এক রাকাত পাওয়ার শর্তে মসজিদের কোণে দাঁড়িয়ে দু’রাকাত সুন্নাত পড়ে নেয়ার যে মত হানাফী মাজহাবে রয়েছে, এটা আমাদের মূল মাজহাব নয়; বরং মাজহাবের পরবর্তী ইমামদের ইজতিহাদ”। (ফাতহুল মুলহিম: ৪/৪৪৮) অতএব, উপরোল্লিখিত মারফু’ হাদীস ও সাহাবায়ে কিরামের আমলের সমন্বয় এভাবে হতে পারে যে, হযরত আবু মুসা থেকে বর্ণিত হাদীসের উদ্দেশ্য হলো: যদি কেউ ঘর থেকে সুন্নাত পড়ে না আসে তাহলে জামাআত শুরু হওয়ার আগে এসে সুন্নাত পড়া। ইবনে উমার রা.-এর হাদীসের উদ্দেশ্য হলো: যদি জামাআত দাঁড়িয়ে গিয়ে থাকে তাহলে মসজিদের বাইরে বা বারান্দা যদি মসজিদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত না হয়ে থাকে তাহলে সেখানে দাঁড়িয়ে সুন্নাত পড়ে নেয়া। আব্দুল্লাহ বিন সারজিস এবং মালেক বিন বুহাইনা রা.-এর হাদীসের উদ্দেশ্য হলো: যদি জামাআত শুরু হয়ে যায় আর মসজিদের বাইরে সুন্নাত পড়ার কোন ব্যবস্থা না থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবে সুন্নাত পড়বে না। যেহেতু ফরযের জামাআত শুরু হয়ে গেলে সুন্নাত পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। (মুসলিম: ১৫১৭) বরং সূর্য ওঠার পরে সুন্নাত পড়ে নিবে। (তিরমিজী: ৪২৩) হযরত ইবনে মাসউদ রা. এবং হযরত আতা রহ.-এর হাদীসের উদ্দেশ্য হলো: ফজরের জামাআত শুরু হয়ে যাওয়ার পরে যদি মসজিদের বাইরে সুন্নাত পড়ার ভালো ব্যবস্থা না থাকে আর সে সুন্নাত ছাড়তেও না চায় তাহলে খুঁটির আড়ালে বা মসজিদের কোণায় এ শর্তে পড়তে পারে যে, ইমাম যে রাকাত পড়াচ্ছে তা যেন না ছোটে। পূর্বোক্ত নিয়ম অনুসরণ করা হলে মারফু’ হাদীস ও সাহাবায়ে কিরামের আমলের মধ্যে সমন্বয় সাধি হবে।
সাথে সাথে মুসল্লীদের সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s