Category Archives: আত্মশুদ্ধি

দাম্পত্য জীবনের মূল্যবান উপদেশ 

এক আরবী কবি স্বীয় নবপরিণীতা স্ত্রীকে কবিতার চারটি পংক্তির মাধ্যমে অমায়িক

ভাষায় বাসর রাতে গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিয়েছেন। 

 মুসলিম ভাই- বোনদের উপকারার্থে তা উপস্থাপন করলাম। 
তিনি বলেন:-
১. “হে প্রিয়তমা! যদি কখনও আমার ভুল- ত্রুটি প্রকাশ পায়, 

তাহলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে। যাতে করে, তোমার প্রেম-

ভালোবাসা সর্বদা আমার হৃদয় কোণে বিদ্যমান থাকে। 

আর যখন আমি রাগান্বিত হব, আমার সম্মুখে কোনো কথার উত্তর

দিবে না, বরং নীরব থাকবে।”
২. ” আমাকে সেভাবে বাজাবে না- যেভাবে ঢোল- তবলা বাজানো হয়। কেননা, তুমি

জাননা যে, তার ফলাফল কি হবে? ” অর্থাৎ তুমি যদি আমার ক্রোধের সময়

নীরবতা পালন না কর, তাহলে হয়তো আমার মুখ দ্বারা অপ্রত্যাশিত এমন

অবাঞ্ছিত কথা প্রকাশ পেতে পারে যার দ্বারা আজীবন তোমাকে অশান্তি ভোগ

করা লাগতে পারে, আর আমাকেও দুঃখের সাগরে ভাসাতে পারে।
৩. ” অভিযোগ – শিকায়াত অধিক পরিমানে করো না। স্বরণ রাখবে, কথায়

কথায় অভিযোগ করা এত খারাপ অভ্যাস যে, তা স্বামী – স্ত্রীর প্রেমময় বন্ধনকে

ধ্বংস করে দেয়। তাতে বৎসর বৎসর ধরে সঞ্চিত প্রেম- ভালোবাসা

নিমেষে নিঃশেষ হয়ে যায়। আল্লাহ না করুন, যদি তুমি এতে জড়িত হয়ে পড়, তাহলে

আমার অন্তরে তোমার প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মাতে পারে। কেননা, অন্তরের ভাব

পরিবর্তনে বিলম্ব লাগে না।”

.

৪. ” আমি তো এটাই দেখেছি যে, স্বামীর পক্ষ থেকে প্রেম ভালোবাসা আর

স্ত্রীর পক্ষ থেকে নাফরমানী ও অবাধ্যতা অর্থাৎ স্বামীর বিরুদ্ধে বারংবার

অভিযোগ উত্থাপন কিংবা স্বামীর ক্রোধের সময় স্ত্রীর রাগান্বিত হওয়া বা স্বামীর

সাথে কথায় কথায় বিতর্ক করা, তার মুখের উপর জবাব দেয়া এ দুটো বিপরীতমুখী

বিষয় যখন একত্রিত হয়, তখন স্বামীর অন্তর থেকে সেই স্ত্রীর মুহাব্বত দ্রুত

বিলুপ্ত হয়ে যায়।”

ফেরাউনের লাশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ 

একজন শাইখ মিসরের যাদুঘর পর্যটন করতে গেলেন। ফিরাঊনের মমিকৃত লাশকে অবলোকন করার সময় তিনি দেখতে পেলেন যে, একজন পর্যটক ফিরাঊনের লাশের সাথে কথা বলে চলছে। তিনি চুপচাপ শুনতে থাকলেন। ঐ ব্যক্তি ফিরাঊনকে সম্বোধন করে বলছে, হে ফিরাঊন! আমি তোমার দ্বারা দশটি শিক্ষা গ্রহণ করেছি। 

.

.

(১) আমি তোমার দ্বারা শিক্ষা গ্রহণ করেছি যে, আল্লাহর নির্ধারিত তাক্বদীর অবশ্যই প্রতিফলিত হয়। যখন তুমি হাজার হাজার শিশুকে হত্যা করলে, যাতে মূসা আ. জন্মলাভ না করেন। কিন্তু যখন জন্ম গ্রহণ করলেন, তখন তাঁকে তুমি তোমার ঘরেই লালনপালন করলে! 

.

(২) তোমার দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, অন্তর আল্লাহর হাতে থাকে, মানুষের হাতে নয়। যখন তুমি মুসা আ. কে তাঁর মা থেকে বঞ্চিত করলে, আল্লাহ তখন তোমার স্ত্রীর অন্তর নরোম করে দিলেন! তুমি তাঁকে তাঁর মা থেকে বঞ্চিত করলে, আল্লাহ তাঁকে আরও উত্তম একজন মা দান করলেন!

.

(৩) তোমার দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, কোন মানুষ অপর কোন মানুষকে নষ্ট করতে পারেনা। যে কামরায় তুমি দম্ভ ভরে বলতে, “আনা রাব্বুকুম আ’লা”, পাশের কামরায় তোমার স্ত্রী বলতো, “সুবহানা রাব্বি আল-আ’লা”!

.

(৪) তোমার দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, ঘর কেবল কয়েকটি দেয়ালের নাম। দু’জন স্বামী-স্ত্রী একই ছাদের নিচে থাকা সত্বেও একে অপরের জন্য অপরিচিত হতে পারে। সুতরাং দু’জন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একমাত্র অন্তরসম্পন্ন সত্তা জোড়া লাগাতে পারেন, ঘরের ছাদ নয়! 

.

(৫) তোমারা দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, একটি সেনাবাহিনী কোন মুমিনের অন্তর থেকে ঈমানকে ছিনিয়ে নিতে পারেনা। জাদুকরদের তোমার সেনাবাহিনী ভয় দেখাতে পারেনি। তদ্রুপ কেশ বিন্যাসকারিনীকেও ভয় দেখাতে পারেনি তোমার ফুটন্ত তেল! 

.

(৬) তোমার দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, রক্ত কখনও পানি হয়না। এবং একজন বোন তার ভাইকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে যখন বলেছে, “হাল আদুল্লুকুম”। এবং একজন ভাই একথা বলতে মোটেও দ্বিধাবোধ করেনি যে, তার ভাই তার থেকে স্পষ্টভাষী!

.

(৭) তোমার দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, ভৃত্যরা তাদের জল্লাদদের নিজ হাতেই গড়ে তুলে। তোমার জন্য তোমার জাতির পিঠকে ঝুঁকানো সম্ভব হতোনা, যদি না ভৃত্যরা তাদেরকে তোমার জন্য ঝুকিয়ে দিতো! 

.

(৮) তোমার দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, আল্লাহ তা’আলা যখন তার কোন বান্দাকে সাহায্য করতে চান, তখন তাকে সাহায্য করতে পারেন একটি সামান্য লাঠি দ্বারা, যা আগে শুধুমাত্র ঠেক লাগানো ও গাছের পাতা ঝুঁকিয়ে দেয়ার জন্য ছিল। 

.

(৯) তোমার দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, দুনিয়ার সব আসবাব মানুষের উপর প্রয়োগ হয়, আল্লাহর উপর নয়। যে নদী কয়েকটি শিশুকে ডুবিয়ে দিতে পারে, সে নদী ডাক হরকরা হয়ে একটি শিশুকে তোমার নিকট পৌছিয়ে দল। অথচ, তুমি ঐ শিশুকে হত্যার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজে চলছো! আবার যে সমদ্রকে পাড়ি দিতে হয় জাহাজ দিয়ে, সেই সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দিল একটি জনগোষ্ঠী অনায়াসে! 

.

(১০) তোমার দ্বারা আমি শিক্ষা নিয়েছি যে, পৃথিবীতে যা কিছু আছে, তা আল্লাহর সেনাবাহিনীর একেকটি সেনা। আর আল্লাহ তা’আলাই রণক্ষেত্রের অস্ত্র ঘুরিয়ে থাকেন।

.

.

সূত্র: জনপ্রিয় ফেইসবুক পেইজ (رحلة في أرض الله) হতে অনূদিত। অনুবাদক – Ainul Hoque Qasimi

আত্মশুদ্ধি -৮

আত্মশুদ্ধি (অহংকার করা)
༺ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ༻
আসসালামু আলাইকুম ওরহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুহু
আখলাখ তাযকিয়া ও আত্মশুদ্ধি বিষয়ক
অন্তরের ১০টি রোগের মধ্যে অন্তরের অষ্টম রোগের বর্ণনা
৮. #অহংকার_করা
তাকাব্বুর বা অহংকার এর অর্থ হলঃ প্রশংসনীয় গুণাবলীর মধ্যে নিজেকে অন্যের তুলনায় শ্রেষ্ঠ মনে করা এবং অন্যকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা, হক ও সত্যকে অস্বীকার করা। বলা বাহুল্য যে, যখন মানুষ নিজের ব্যাপারে এরূপ ধারণা পোষণ করে এবং আল্লাহর দেয়া গুণসমূহকে নিজের কৃতিত্ব মনে করে তখন তার নফস ফুলে উঠে, অতঃপর কাজকর্মে এর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেতে থাকে, উদাহরণস্বরূপ: রাস্তায় চলার সময় সাথীদের আগে আগে চলা, মজলিসে সদরের মাকামে বা সম্মানিত স্থানে বসা। অন্যদেরকে তাচ্ছিল্যের সাথে দেখা বা আচরণ করা অথবা কেউ আগে সালাম না দিলে তার উপর গোস্বা হওয়া, কেউ সম্মান না করলে তার উপর অসন্তুষ্ট হওয়া, কেউ সঠিক উপদেশ দিলেও নিজের মর্জির খেলাফ হওয়ায় সেটাকে অবজ্ঞা করা। হক কথা জানা সত্ত্বেও সেটাকে না মানা। সাধারণ মানুষকে এমন দৃষ্টিতে দেখা যেমন গাধাকে দেখা হয় ইত্যাদি।

পবিত্র কুরআন ও হাদীসের অনেক আয়াতে ‘অহংকার’ এর নিন্দাবাদ করা হয়েছে, অহংকারের কারণেই ইবলীস বেহশ্‌ত থেকে বিতাড়িত হয়েছে। অহংকারের কারণেই আবূ জাহাল মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সত্য জেনেও অস্বীকার করেছে।

অহংকারের দু’টি আলামত । হাদীস শরীফে আছে:
الكبر بطر الحق وغمط الناس
অর্থাৎ অহংকার হলো:
(১) সত্যকে অস্বীকার করা ৷ (২) এবং মানুষকে ছোট (নীচ) মনে করা ৷৷
(মুসলিম, মিশকাত, পৃঃ-৪২৩)

রাসুল সাঃ বলেছেনঃ
لا يدخل الجنة من كان في قلبه مثقال ذرة من كبر
ঐ বেক্তি জন্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অন্তরে জাররা পরিমান অহংকার আছে।

আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত প্রিয় মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন,
“যার অন্তরে অণু পরিমান অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা।” এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, “যদি কেউ সুন্দর জামা আর সুন্দর জুতা পরিধান করতে ভালবাসে?”
তখন নবী করীম (সাঃ) বললেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। অহংকার মানে হল সত্য প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা।” (সহীহ্‌ মুসলিম; কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়: ১, হাদীস নম্বর: ১৬৪)

পোষাকে আসাকে ও বোলচালে যতই ধার্মিক ভাবভঙ্গি দেখানো হোক না কেন; কিংবা মহাজ্ঞানী, হুজুর, মওলানা, হাজি, পীর সাহেব, জজ-ব্যরিষ্টার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যতই নাম-ডাক ছড়িয়ে পরুক না কেন- অন্তরে অহংকার দানা বাঁধলে কিন্তু সবই বৃথা। এমনকি প্রেসিডেন্ট, প্রধান-মন্ত্রী বা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হলেও নিস্তার নেই। লোক দেখানো জন্য মুখে লম্বা, খাট বা চাপ দাড়ি কিংবা মাথায় টিক্কি রেখে, শ্বেত-বস্ত্র, টুপি, পৈতা-ধুতি পড়ে ও হাতে তসবি ঝুলিয়ে পার পাওয়া যাবে না। আর সুট পড়ে কশে টাই বেধে, হাতে সোনার ঘড়ি, আঙ্গুলে হিরের আংটি ও গলায় মতির লকেট ঝুলিয়েও অহংকারে যতই দুদিনের দাপাদাপি করার চেষ্টা করা হোক- এসব করে সাময়িকভাবে একালে যতই খ্যাতি বা প্রতিপত্তি জুটে যাক না কেন- পরকালের খাতায় একজন অহংকারীর প্রাপ্তিটা কিন্তু বড়ই নাজুক ও মূল্যহীন হয়ে যেতে পারে।

অহংকারীদের সম্পর্কে আল-কোরআনে প্রদত্ত মহান আল্লাহতায়ালার সাবধান বাণী-

সূরা আন নিসা (মদীনায় অবতীর্ণ)
(০৪:৩৬) وَاعْبُدُواْ اللّهَ وَلاَ تُشْرِكُواْ بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ إِنَّ اللّهَ لاَ يُحِبُّ مَن كَانَ مُخْتَالاً فَخُورًا 
36   অর্থ- আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর কাউকে। পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্নীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে।

(০৪:১৭৩) فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ فَيُوَفِّيهِمْ أُجُورَهُمْ وَيَزيدُهُم مِّن فَضْلِهِ وَأَمَّا الَّذِينَ اسْتَنكَفُواْ وَاسْتَكْبَرُواْ فَيُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا أَلُيمًا وَلاَ يَجِدُونَ لَهُم مِّن دُونِ اللّهِ وَلِيًّا وَلاَ نَصِيرًا 
173 অর্থ- অতঃপর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তিনি তাদেরকে পরিপূর্ণ সওয়াব দান করবেন, বরং স্বীয় অনুগ্রহে আরো বেশী দেবেন। পক্ষান্তরে যারা লজ্জাবোধ করেছে এবং অহঙ্কার করেছে তিনি তাদেরকে দেবেন বেদনাদায়ক আযাব। আল্লাহকে ছাড়া তারা কোন সাহায্যকারী ও সমর্থক পাবে না।   

সূরা আল আ’রাফ (মক্কায় অবতীর্ণ)
(০৭:৪০)  إِنَّ الَّذِينَ كَذَّبُواْ بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُواْ عَنْهَا لاَ تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاء وَلاَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُجْرِمِينَ 
40 অর্থ- নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং এগুলো থেকে অহংকার করেছে, তাদের জন্যে আকাশের দ্বার উম্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। যে পর্যন্ত না সূচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে। আমি এমনিভাবে পাপীদেরকে শাস্তি প্রদান করি।  

(০৭:১৪৬)  سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَإِن يَرَوْاْ كُلَّ آيَةٍ لاَّ يُؤْمِنُواْ بِهَا وَإِن يَرَوْاْ سَبِيلَ الرُّشْدِ لاَ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلاً وَإِن يَرَوْاْ سَبِيلَ الْغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلاً ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُواْ بِآيَاتِنَا وَكَانُواْ عَنْهَا غَافِلِينَ  
অর্থ- আমি আমার নিদর্শনসমূহ হতে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখি, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহঙ্কার করে। যদি তারা সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে ফেলে, তবুও তা বিশ্বাস করবে না। আর তারা হেদায়েতের পথ দেখলেও সে পথ গ্রহণ করবে না। অথচ গোমরাহীর পথ দেখলে তাই গ্রহণ করে নেবে। এর কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে মনে করেছে এবং সে সম্বন্ধে তারা উদাসীন ছিল।

সূরা নাহল (মক্কায় অবতীর্ণ)
(১৬:২৩)   لاَ جَرَمَ أَنَّ اللّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ إِنَّهُ لاَ يُحِبُّ الْمُسْتَكْبِرِينَ
অর্থ- নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাদের গোপন ও প্রকাশ্য যাবতীয় বিষয়ে অবগত। নিশ্চিতই তিনি অহংকারীদের পছন্দ করেন না।

(১৬:২৯)   فَادْخُلُواْ أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا فَلَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِينَ
অর্থ- অতএব, জাহান্নামের দরজাসমূহে প্রবেশ কর, এতেই অনন্তকাল বাস কর। আর অহংকারীদের আবাসস্থল কতই নিকৃষ্ট।

সূরা বনী ইসরাঈল (মক্কায় অবতীর্ণ)
(১৭:৩৭)   وَلاَ تَمْشِ فِي الأَرْضِ مَرَحًا إِنَّكَ لَن تَخْرِقَ الأَرْضَ وَلَن تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُولاً
অর্থ- পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয় তুমি তো ভূপৃষ্ঠকে কখনই বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না।

সূরা লোকমান (মক্কায় অবতীর্ণ)
(৩১:১৮)   وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ
অর্থ- অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।

(৩১:১৯)   وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِن صَوْتِكَ إِنَّ أَنكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيرِ
অর্থ- পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কন্ঠস্বর নীচু কর। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।

সূরা আল-যুমার (মক্কায় অবতীর্ণ)
(৩৯:৭২) قِيلَ ادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا فَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِينَ
অর্থ- বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের দরজা দিয়ে প্রবেশ কর, সেখানে চিরকাল অবস্থানের জন্যে। কত নিকৃষ্ট অহংকারীদের আবাসস্থল।

সূরা আল-মু’মিন (মক্কায় অবতীর্ণ)
(৪০:৩৫)   الَّذِينَ يُجَادِلُونَ فِي آيَاتِ اللَّهِ بِغَيْرِ سُلْطَانٍ أَتَاهُمْ كَبُرَ مَقْتًا عِندَ اللَّهِ وَعِندَ الَّذِينَ آمَنُوا كَذَلِكَ يَطْبَعُ اللَّهُ عَلَى كُلِّ قَلْبِ مُتَكَبِّرٍ جَبَّارٍ
অর্থ- যারা নিজেদের কাছে কোন দলীল প্রমাণ না থাকলেও আল্লাহর আয়াত/নিদর্শন সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাদের এ কাজ, আল্লাহ ও মুমিনদের কাছে খুবই অসন্তোষের। এমনিভাবে আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী-স্বৈরাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর এঁটে দেন।

সূরা হা-মীম সেজদাহ (মক্কায় অবতীর্ণ)
(৪১:৫১) وَإِذَا أَنْعَمْنَا عَلَى الْإِنسَانِ أَعْرَضَ وَنَأى بِجَانِبِهِ وَإِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ فَذُو دُعَاء عَرِيضٍ
অর্থ- মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করলে সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অহংকারে দূরে সরে যায়, আর যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সুদীর্ঘ দোয়া করতে থাকে।

সূরা আল হাদীদ (মদীনায় অবতীর্ণ)
(৫৭:২২)   مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِّن قَبْلِ أَن نَّبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ
অর্থ- পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপর্যয় আসে না, যদি না লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়, আমরা (আল্লাহ- সম্মান সূচক) তা সংঘটিত করার বহু পূর্বেই। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ।

(৫৭:২৩)   لِكَيْلَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ
অর্থ- এটা এজন্যে বলা হয়, যাতে তোমরা যা হারাও সেজন্যে বিমর্ষ না হও এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তার জন্য খুব উল্লসিত না হও। আল্লাহ পছন্দ করেন না কোন উদ্ধত, অহংকারীকে –

যে যত বড় ধার্মিক কিংবা ধর্মহীন হোক না কেন- “অহংকার পতনের মূল”, এই প্রবাদটি সবারই স্মরণ রাখা চাই। বিশেষ করে একজন মুসলিমকে তো অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, মহান আল্লাহতায়ালা অহংকারীদের মোটেই পছন্দ করেন না।

হে আল্লাহ্‌ আমাদের সকলকে অহংকার থেকে হেফাজত করুন । আমীন