Category Archives: আহলে হাদিছের মিথ্যাচার

সাহাবারা কি ফতোয়া দিতেন

​►সাহাবারা কি ফতোয়া দিতেন ? ফতোয়া দিলে সেগুলো কোথায় গেল ?◄
আটজন বিশিষ্ট সাহাবী সম্পর্কে তো সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, 

“তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় ফতোয়া দিতেন। তাঁরা হলেন, আবু বকর রা., উমর রা., উছমান রা., আলী রা., মুয়ায ইবনে জাবাল রা., উবাই ইবনে কাব রা., আবদুর রহমান ইবনে আওফ রা. ও যায়েদ ইবনে ছাবিত রা.।”

(আসসুয়ূতী (৯১১ হি.) : আদাবুল ফুতয়া পৃষ্ঠা : ৬৭-৭১) 
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরপর ফতোয়ার দায়িত্ব পূর্ণরূপে সাহাবায়ে কেরামের উপর অর্পিত হয়। লক্ষাধিক সাহাবীর মধ্যে ফতোয়াদানকারী সাহাবীর সংখ্যা ত্রিশেরও কম। তবে সারা জীবনে যাঁদের একটি বা দুটি ফতোয়া দেওয়া প্রমাণিত তাদের নাম যোগ করলে পূর্ণ সংখ্যা ১৩০ এর মতো দাঁড়ায়। সাধারণ সাহাবী ও সাধারণ তাবেয়ীগণ ঐসকল ফকীহ/মুফতী সাহাবীর নিকট থেকে মাসআলা জেনে আমল করতেন। 

(ইবনে হাযম (৪৫৬ হি.) : ইহকামুল আহকাম খ : ৫, পৃষ্ঠা : ৮৮; ইবনুল কাইয়্যিম (৭৫১ হি.) : ইলামুল মুয়াককিয়ীন, খ : ১, পৃষ্ঠা : ৭-১৮) 
এই ১৩০ জন সাহাবীর মধ্যে সর্বাধিক ফতোয়া দানকারী সাহাবী সাতজন : 

১. উমর ইবনুল খাত্তাব রা., 

২. আলী ইবনে আবু তালিব রা.,

৩. আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা., 

৪. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা., 

৫. যায়েদ ইবনে ছাবিত রা., 

৬. আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.  

৭. আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.। 
এঁদের ও অন্যান্য মুফতী সাহাবা-তাবেয়ীনের ফতোয়া আছারে ছাহাবা বিষয়ক গ্রন্থাবলিতে, বিশেষত কিতাবুল আছার, ইমাম আবু হানীফা (১৫০ হি.), মুয়াত্তা মালিক (১৭৯ হি.), জামে সুফিয়ান ছাওরী (১৬১ হি.), মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক (২১১ হি.), মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা (২৩৫ হি.) ইত্যাদি গ্রন্থে বিদ্যমান রয়েছে এবং ইমাম বাকী ইবনে মাখলাদ (২৭৬ হি.) তো সাহাবা ও তাবেয়ীনের ফাতাওয়া বিষয়ে একটি দীর্ঘ গ্রন্থ সংকলন করেছেন। যা উপরোক্ত সব কিতাবের চেয়ে বড়। 

(সিয়ারু আলামিন নুবালা খ. ১৩, পৃ. ২৯১) 
আর শুধু আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর ফতোয়াসমূহ ইমাম আবু বকর ইবনে মুসা (৩৪২ হি.) বিশটি কিতাবে সংকলন করেছেন। 

(ইলামুল মুয়াককিয়ীন খ. ১, পৃ. ১০)

অন্ধ তাকলিদ করে শ্লোগান দেন তাকলিদ হারাম

*অন্ধ তাকলিদ করে শ্লোগান দেন তাকলিদ হারাম*
💥💥💥💥💥💥
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’লার জন্য যিনি আমাদেরকে সত্য পথ দেখিয়েছেন। দরুদ ও সালাম সেই নবীজি (সাঃ)র প্রতি, যিনি আমাদের সত্য চিনার এবং জানার পদ্ধতি শিখিয়েছেন। এবং তার পরিবার পরিজনের প্রতি।
আমার দ্বীনি বন্ধুরা! কুর’আন-হাদীস অনুযায়ী চলতে গিয়ে, কিছুটা হলেও হলেও জটিলতায় পরেন নি।এমন কাউকে (সাধারণ উম্মতদের মধ্যে)খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই এমন অবস্থায় যিনি সেই জটিলতা নিরসনে অক্ষম, তাকে তার ধারস্থ হতে হবে,যিনি(কুর’আন-হাদীসের আলোকে) জটিলতা নিরসনের প্রচেষ্টায় সক্ষম।এই ধারাবাহিকতায়ই চলে আসছে।কেননা,আল্লাহ তা’লা বলেছেনঃযারা জানে এবং যারা জানে না, তারা সমান হতে পারে না।
কিন্তু,হঠাৎ কিছু লোক নিজেদের আহলে হাদীস নাম দিয়ে “তাকলিদ করা হারাম”তাকলিদ করা শিরক”র শ্লোগান দিতে লাগলো।তাদের কিছু বুদ্ধিজীবী শিষ্য শ্লোগান প্রচারে মশগুল হলো।
মাঠে-ময়দানে প্রচার হতে লাগলো, তাকলিদ করা শিরক বা হারাম।তথা কুর’আন বুঝার জন্য হাদীস যথেষ্ট। কোন ব্যক্তির ধারস্থ হবো কেন?(ইচ্ছে মত বুঝিয়ে ধোকা দেয়ামাত্র)
*বাস্তবে, উনাদের তাকলিদের বিরোধীতা করাই উদ্যেশ্য ছিলো না কি অন্য কিছু?* (প্রশ্নটি নোট করুন)
আসুন একটু সামনে এগিয়ে যাই!যারা তাকলিদ হারাম বা শির্ক বলে, শায়খ সেজে শিষ্য তৈরি করছেন।তারা এক একজন শরীয়ত ব্যাখ্যাকারী ইমাম হওয়ার নেশায় লিপ্ত।যার কারণে ইচ্ছে মত হাদীস ত্যাগ এবং নিজের যুক্তি দিয়ে কুর’আনের আয়াতের তাফসীর করেন।শিষ্যগন অনায়েসে(ব্যক্তিচাহিদার) অনুসরণ করছেন।তাহলে এটাই কি ছিলো মুল উদ্যেশ্য?(প্রশ্নটি নোট করুন)

উনাদের শিষ্যরা শ্লোগানটা দিয়ে ঘুম থেকে উঠেন (এমন মনে হয়)।

*শিষ্যদের যখন বলা হয়*
আপনার শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ বলেছেনঃ
গোটা পৃথিবীর মানুষ যদি সম্মিলিত মুনাজাত করে।গোটা পৃথিবীর মানুষ পাপী বা হারাম কাজ করল।

পরে উনার লেকচারকৃত টিভির কনফারেন্সে সম্মিলিত মুনাজাত হয়েছে।
এখন আপনি(শিষ্য) বলুন, কে পাপী?

*তারা কেউই ভুল স্বীকার করেন নি*

*তাহলে কে ভুল? কে সঠিক?*
আপনি কাকে ছাড়বেন? কার কথার অনুসরণ করবেন?
👉🏻
*পাপীর অনুসরণ হারাম তাকলিদ বা অন্ধ তাকলিদ*

ডঃজাকির নায়েক বলেছেনঃ পৃথিবীর কুর’আন আর লওহে মাহফুজের কুর’আন এক নয় আলাদা।শুধু যুক্তি দিয়েছেন।এর প্রমানে কুর’আন বা হাদীসের ইশারাও প্রমাণ দেন নি।
👉🏻
*কুর’আন-হাদীসের বিরোধী কথার অনুসরণ হারাম তাকলিদ বা অন্ধ অনুসরণ*

মতিউর রহমান মাদানী বলেছেনঃ
ছুরি দিয়ে যেমন ভাল-মন্দ কাজ করা যায়।টিভি দ্বারাও তেমন ভাল-মন্দ কাজ করা যায়।তাই টিভি মসজিদে বসে টিভি দেখা জায়িয।
👉🏻
*কুর’আন-হাদীস ছেড়ে যুক্তি দিয়ে ইবাদত বানানো বিদ’আত।*
*আর বিদ’আতের অনুসরণ হারাম তাকালিদ*

কাজী ইব্রাহীম বলেছেনঃ
জাকির নায়েকের টাইয়ের কথা কুর’আনের আছে।আর কারো না থাকতে পারে।পরে তিনি দলিল দিলেন খাতা বা কাগজের ভাজ।যা মন গড়া তাফসীর বা ব্যাখ্যা।
👉🏻
*মনগড়া তাফসীর বা ব্যাখ্যার অনুসরণ হারাম তাকলিদ বা অন্ধ অনুসরণ*

আপাতত  এতটুকু বললাম।
এবার নামধারী আহলে হাদীস ভাইদের জিজ্ঞেস করি,
আপনি কি উনাদের অনুসরণ এখনো করেন(?) না কি ত্যাগ করেছেন?
যদি এখনো অনুসরণ করেন!?
*জেনে নিন!কুর’আন-হাদীসের ব্যপারে তাকলিদ হারামের শ্লোগান দিতে গিয়ে,আপনিই তো ব্যক্তিচাহিদার গোলামী বা অন্ধ তাকলিদে ডুবে আছেন।আর কুর’আন-হাদীস বিরোধী তাকলিদ স্পষ্ট গোমরাহি বা হারাম।*
☄☄☄☄☄☄☄☄
প্রমাণ লাগলে যোগাযোগ করবেনঃ
আতিকুর রহমান
+8801675898951

ইবনে তাইমিয়ার গলায় তাবিজ

আহলে হাদিস ভাইজানেরা এইবার শায়েখদের
কাছ থেকে ফতোয়া নিয়ে প্রচার করুন প্লিয
!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ) এর গলায় তাবিজ!!
সেই তাবিজের সুতা তার মৃত্যুর পর বিক্রি হল ১৫০ দিরহামে!!!!
.
আর এই ঘটনা উল্লেখ করেছেন হাফিজ ইবনে কাসির (রহ) তার অমর গ্রন্থ –“আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া “- তে!!
.
আপনাদের শায়েখদের কাছে তাবিজ শিরক! যে তাবিজ গলায় ঝুলায় সেও শিরককারী !!
.
আপনাদের থেকে দুটি ফাতোয়ার প্রত্যাশীঃ
১.তাবিজ ব্যবহার করে ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ) শিরক করেছেন!
২.এই ঘটনা উল্লেখ করে ইবনে কাসির (রহ) শিরকের প্রচার করেছেন!
.
এখন কি আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াকে ছুড়ে ফেলবেন ?
নাকি আলবানি সাহেবের সহিহ বুখারির মত, সহিহ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া নতুন করে আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ সাহেবের মত কাউকে দিয়ে লিখাবেন ?

জানাবেন কিন্তু ! —————–

নামের দ্বারা হাদীস অস্বীকারঃ

. নামের দ্বারা হাদীস অস্বীকারঃ

—সামীউর রহমান শামীম
.
মুযাফফর সাহেবের বিতর্কিত বই ‘‘জাল হাদীছের কবলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছালাত’’ এর আরবী নাম মুযাফফর সাহেব দিয়েছেন ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﻘﺒﻀﺔ ﺍﻷﺣﺎﺩﻳﺚ ﺍﻟﻀﻌﻴﻔﺔ ﻭﺍﻟﻤﻮﺿﻮﻋﺔ
.
(সালাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বি কাবদ্বাহ আল আহাদীস আদ্ব দ্বয়ীফাহ ওয়াল মাওদ্বূ‘আহ)। অর্থাৎ ‘‘যয়ীফ ও জাল হাদীসের কবলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত।’’
.
অথচ বাংলা নামের ক্ষেত্রে মুযাফফর সাহেব ব্যবহার করেছেন, ‘‘জাল হাদীছের কবলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছালাত’’।
.
আশ্চর্যের কথা হলো— আরবীতে ‘‘যয়ীফ ও মওযূ’’ লিখলেন বাংলায় শুধু ‘‘জাল’’ লিখলেন।
.
‘‘যয়ীফ’’ মানে কি জাল? কখনই না। যয়ীফ মানে দূর্বল। আর ‘‘মওযূ’’ মানে জাল।
.
তথাকথিত আহলে হাদীসরা হরহামেশাই জাল-যয়ীফ একসাথে লেখে।
.
অথচ উলূমুল হাদীসের পরিভাষায়- মওযূ বা জাল হাদীস, মূলতঃ হাদীস নয়; বরং তা ভিত্তিহীন, বানোয়াট।
.
আর যয়ীফ মানে দূর্বল সনদে বর্ণিত হাদীস। তা ভিত্তিহীন বা বানোয়াট নয়।
.
সকল মুহাদ্দিসীনগণ একমত যে, যয়ীফ হাদীস ফাযায়েলের বা ফযীলত বর্ণনার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। এছাড়াও কোনো যয়ীফকে উম্মাত সর্বসম্মত ভাবে গ্রহণ করে নিলে তা গ্রহণযোগ্যতা পায়।
.
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) একটি যয়ীফ হাদীসের আলোচনায় লেখেন,
فهذا الحديث وإن لم يثبت فاتصال العمل به في سائر الأمصار والأعصر من غير إنكار كاف في عمل به
.
অর্থাৎ ‘‘এ হাদীসটি (সহীহ) প্রমাণিত না হলেও বিভিন্ন শহরে ও যুগে কোনো রূপ আপত্তি ছাড়া এ হাদীস অনুযায়ী আমল চালু থাকাই এ হাদীসটির আমলযোগ্য হওয়ার জন্য যথেষ্ট।’’
.
[কিতাবুর রূহ, পৃ. ১৬]
.
হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন, যয়ীফ হাদীসের উপর আমল করার জন্য শর্ত হলো—
.
১। সনদের দুর্বলতা বেশি না হতে হবে। এটি সর্বসম্মত বিষয়। সুতরাং যয়ীফ হাদীসের শ্রেণী থেকে ঐ বর্ণনা বের হয়ে যাবে, যার মধ্যে কোনো রাবী মিথ্যুক রয়েছে বা মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত কিংবা তিনি বেশি ভুল করেন।
.
২। ঐ আমল শরীয়তের কোনো না কোনো মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
.
৩। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি সুপ্রমাণিত এমন আকীদা পোষণ না করতে হবে।
.
[আলকওলুল বাদী, পৃ. ১৯৫]
.
ইবনে হাজার (রহ.)-এর এই তিন শর্তের কথা হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাব দুরারুল হুক্কাম ১/১২; আদ্দুররুল মুখতার এবং রদ্দুল মুহতারেও উল্লেখ রয়েছে।
.
এ হলো, যয়ীফ রেওয়ায়াতের উপর আমলের শর্ত। আর তাছাড়া যয়ীফে শাদীদ (শক্ত যয়ীফ), মুনকার ও মাতরূক পর্যায়ের রেওয়ায়াত না হলে, তা ফযীলতের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। সুতরাং যয়ীফকে মওযূ তথা দূর্বল সনদকে জাল বলা মূর্খতা, জিহালত এবং অজ্ঞতা। আর তা হাদীস অস্বীকারের নামান্তরও বটে।