Category Archives: Uncategorized

ছদকার গুরুত্ব ও ফযিলত 

আল্লাহ তাআলা সব মানুষকে ধনী ও সম্পদশালী বানিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। আসলে বিত্তশালীরা বিত্তহীনদের সাথে কেমন আচরণ করে আল্লাহ তাআলা তা দেখতে চান।

বাস্তবার আলোকে বলতে হয় আজ বিশ্বের মুসলিমরা আল্লাহর কোনো বিধানই যথার্থভাবে পালন করছে না। মুসলিম সমাজ যদি জাকাত, সদকা প্রদানে মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন করত তবে সারা বিশ্বের মুসলিম সমাজ আজকের মত দারিদ্র্যের যাতাকলে পিষ্ট হত না।

ﺻﺪﻗﺔُ-সদাকাতুন, আরবি শব্দ। যার বাংলা অর্থ হচ্ছে: দান। আর এই দান প্রধানত: দুই প্রকার,

এক. ওয়াজিব যা বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য ও বাধ্যতামূলক।

যেমন,

(ক) নিসাবের মালিক (শরিয়ত নির্ধারিত নির্দিষ্ট পরিমাণ মালের মালিক) হলে প্রতি বছর অর্থের জাকাত ও শস্যাদির ওশর প্রদান করা।

(খ) সামর্থ্য থাকলে প্রতি বছর কোরবানী করা। আর এই শ্রেণীর দানগুলো সাধারণত: একটা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই প্রদান করতে হয়। যথা সঞ্চিত অর্থের উপর যখন এব বছর পূর্ণ হবে তখন তাতে জাকাত ফরজ হবে। এবং তা থেকে নির্ধারিত হারে জাকাত দিতে হবে। আর উৎপাদিত শস্যাদি মাড়াই শেষে যখন ঘরে উঠবে, তখন তা থেকে ওশর বের করতে হবে। উল্লেখ্য, শস্যাদির ক্ষেত্রে বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। তাই এই ওশর প্রদান শস্য মাড়াই করার সংখ্যা ভেদে বছরে একাধিকবারও হতে পারে। যেমন ইরি ধানের মৌসুম শেষে যদি আমন ধানও নিসাব পরিমাণ হয়, তবে তা থেকেও একই বছরে পুনরায় ওশর দেয়া অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে ইরি ধানের ওশর দেয়া হয়েছে বলে আমনের ওশর দেয়া থেকে বিরত থাকা চলবে না। অন্যথায় ওশর অনাদায়ের শাস্তি বরণ ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না। লক্ষণীয় যে এ জাতীয় বাধ্যতামূলক দান, সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য নয়। কেবল বিত্তশালী ও ধনীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ।

(গ) রমজানে রোজার ফিৎরা প্রদান করা

(ঘ) নজর বা মানত পূর্ণ করা।

এ দুই প্রকার দানও বাধ্যতামূলক। তবে এ জাতীয় দান কেবলমাত্র বিত্তশালীই নয় বরং ধনী দরিদ্র সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। এবং এগুলোও পূর্বোক্ত দানের ন্যায় একটা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রদান করতে হয়। ফিৎরা সর্বোচ্চ ঈদুল ফিতরের নামাজের পূর্বে এবং মানত তার সময় সীমার মধ্যেই পূর্ণ করা জরুরি। অন্যথায় তা যথাযথভাবে আদায় বলে গণ্য হবে না। তাই সংশ্লিষ্ট সকলকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

দুই. নফল সদকা যা বাধ্যতামূলক নয় তবে অনেক সাওয়াবের কাজ।

এই দ্বিতীয় প্রকারের দান নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সৎপথে ব্যয় করা। যেমন: মসজিদ, মাদরাসা, গরীব, এতীম, কাঙ্গাল, ভিক্ষুকদের মাঝে সাধ্যমত দান করা। আত্মীয়, অনাত্মীয়, মুসাফির, বিপন্ন ও ঋণগ্রস্তকে সাহায্য করা ইত্যাদি। এ জাতীয় দানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বোক্ত দানের ন্যায় সময়ের কোন বাধ্যবধকতা নেই । স্থান, কাল, পাত্র ও প্রয়োজনভেদে কম বেশী করা যেতে পারে। দানের রকমও পরিবর্তন হতে পারে। মোট কথা অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার দান কারীর থাকে। তাছাড়া দিবারাত্রির যে কোনো সময়, যে কোনো স্থানে, এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে এই দান করার সুযোগ রয়েছে। সুতরাং দাতা তার ইচ্ছা ও সামর্থ্য অনুযায়ী যে কোনো সময় নেক পথে দান করে উপকৃত হতে পারেন।

সেই সাথে সকলকে স্মরণ রাখতে হবে যে, সর্ব প্রকার দানই কেবলমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে হতে হবে, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়। অন্যথায় সব দানই বিফলে যাবে এবং তার জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। তখন শত আফসোস করেও কোনো লাভ হবে না।

স্মরণযোগ্য যে, বৈধ উপার্জন থেকে নেকনিয়তে প্রদত্ত সর্বপ্রকার দান-খয়রাতই নি:সন্দেহে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। তাই দান-খয়রাত কবুল হবার বিপরীত সবচিন্তা-চেতনা ও ধ্যান ধারণা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার জন্য আপ্রাণ চেস্টা করা প্রতিটি দ্বীনদার ও সচেতন মুসলমানের পবিত্র দায়িত্ব। আর এ লক্ষ্য অর্জনে আল্লাহ আমাদেরকে সম্মুখপানে অগ্রসর হওয়ার তাওফীক দান করুন আমীন।

জাকাত বা ওশর প্রসঙ্গ

ﺯﻛﺎﺓ (জাকাত)- এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে বৃদ্ধি ও পবিত্র হওয়া।

শরিয়তের পরিভাষায় এর অর্থ হচ্ছে, শরিয়তের নির্দেশ অনুযায়ী নিজ সম্পদের একটা নির্ধারিত অংশ গরীব প্রাপকদের মাঝে বন্টন করা এবং তার লাভালাভ হতে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা।

ﻋُﺸْﺮٌ (ওশর)- এর অর্থ হচ্ছে, উৎপন্ন শস্যের এক দশমাংশ উল্লেখিত নিয়মে বন্টন করা। অর্থাৎ বৃষ্টির পানিতে ও বিনা সিঞ্চনে উৎপাদিত শস্যের দশ ভাগের এক ভাগ বা বিশ মণে দুই মণ, আর সিঞ্চনের মাধ্যমে উৎপাদিত হলে বিশ মণে এক মণ বর্ণিত নিয়মানুসারে বন্টন করে দেয়া।

উল্লেখ্য যে, হিজরী ২য় সনে রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে মদিনায় জাকাত বিস্তারিত বিবরণসহ ফরজ হয়।

বলাবাহুল্য, জাকাত প্রদানের মাধ্যমে মাল বৃদ্ধি পায় ও পবিত্র হয়। পাশাপাশি কৃপণতার কলুষ-কালিমা হতে জাকাতদাতা প্রবিত্রতা লাভে ধন্য হয়। বস্তুত: জাকাত হচ্ছে ইসলামের ৩য় স্তম্ভ।

যেমন হাদীসে বলা হয়েছে:

ﻋَﻦْ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﺑُﻨِﻲَ ﺍﻟْﺈِﺳْﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻰ ﺧَﻤْﺲٍ : ﺷَﻬَﺎﺩَﺓِ ﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠﻪُ ﻭَﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ، ﻭَﺇِﻗَﺎﻡِ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ، ﻭَﺇِﻳﺘَﺎﺀِ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓِ، ﻭَﺍﻟْﺤَﺞِّ، ﻭَﺻَﻮْﻡِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ‏» ؛ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ – ‏( ﺝ 1 / ﺹ 11 ‏)

অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর স্থাপিত।

এক. আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার রাসূল এ সাক্ষ্য দেয়া।

দুই. নামাজ কায়েম করা।

তিন. জাকাত প্রদান করা।

চার. হজ্জ সম্পাদন করা।

পাচ. রমজানের রোজা রাখা। (বুখারি, মুসলিম)

লক্ষ্যণীয় যে, উক্ত হাদিসে জাকাতকে আল্লাহর নবী ৩য় স্তম্ভ বলে ঘোষণা করেছেন। তাই জাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম। এর উপকারিতা বর্ণনা করে শেষ করার মত নয়। প্রায় জায়গাতেই নামাজের পাশাপাশি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জাকাত প্রদানের নির্দেশ দিয়ে নামাজের মতই গুরুত্ব আরোপ করেছেন। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, নামাজ কায়েম করা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। আর জাকাত আদায় করা কেবল ধনীদের জন্য ফরজ। এছাড়া নামাজের হুকুম দৈনিক পাঁচ বার পালনীয়। আর জাকাত প্রতি বছর মাত্র একবার আদায় করা কর্তব্য। বস্তুত: নামাজ হচ্ছে ইবাদতে বদনি বা শারীরিক এবাদত, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। আর জাকাত হচ্ছে, ইবাদতে মালী বা আর্থিক ইবাদত। যা সাধারণত: অর্থ ও সম্পদ ব্যয় ও দানের মাধ্যমে আদায় করতে হয়।

জাকাত প্রদানের নির্দেশ অবশ্য প্রতিপালনীয় হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোরআনুল কারিমে অনেক আয়াত নাযিল করেছেন। বিশেষত: নামাজের নির্দেশের পরপরই জাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই জাকাতের গুরুত্বকে কোনোক্রমেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আবশ্যিক বা বাধ্যতামূলক দানসমূহের মধ্যে জাকাতই হচ্ছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাপকদের অভাব পূরণে প্রধানতম সহায়ক দান। তাই এখানে জাকাতের গুরুত্ব ও ফজিলত, এবং জাকাত আদায় না করার পরিণতি সম্পর্কে সামান্য আলোচনা করা হবে।

নামাজের পাশাপাশি জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন:

ﻭَﺃَﻗِﻴﻤُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﻭَﺁﺗُﻮﺍ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓَ ﻭَﻣَﺎ ﺗُﻘَﺪِّﻣُﻮﺍ ﻟِﺄَﻧْﻔُﺴِﻜُﻢْ ﻣِﻦْ ﺧَﻴْﺮٍ ﺗَﺠِﺪُﻭﻩُ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠﻪِ

অর্থ: আর তোমরা নামাজ কায়েম কর ও জাকাত দাও। এবং নিজেদের জন্য তোমরা যে সৎকর্ম অগ্রে প্রেরণ করবে তাই তোমরা আল্লাহর নিকট পাবে। [সূরা বাকারা: ১১০]

জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা তার নবীকে বলেন:

ﺧُﺬْ ﻣِﻦْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ ﺻَﺪَﻗَﺔً ﺗُﻄَﻬِّﺮُﻫُﻢْ ﻭَﺗُﺰَﻛِّﻴﻬِﻢْ ﺑِﻬَﺎ

অর্থ: তুমি তাদের সম্পদ হতে সাদাকাহ অর্থাৎ জাকাত গ্রহণ কর। যা দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র করবে। [ সূরা তাওবা: ১০৩]

জাকাত ও ওশর গ্রহণ এবং উত্তম বস্তু ব্যয়ের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ অন্যত্র বলেন।

ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﺃَﻧْﻔِﻘُﻮﺍ ﻣِﻦْ ﻃَﻴِّﺒَﺎﺕِ ﻣَﺎ ﻛَﺴَﺒْﺘُﻢْ ﻭَﻣِﻤَّﺎ ﺃَﺧْﺮَﺟْﻨَﺎ ﻟَﻜُﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻴَﻤَّﻤُﻮﺍ ﺍﻟْﺨَﺒِﻴﺚَ ﻣِﻨْﻪُ ﺗُﻨْﻔِﻘُﻮﻥَ ﻭَﻟَﺴْﺘُﻢْ ﺑِﺂﺧِﺬِﻳﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻥْ ﺗُﻐْﻤِﻀُﻮﺍ ﻓِﻴﻪِ ﻭَﺍﻋْﻠَﻤُﻮﺍ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻏَﻨِﻲٌّ ﺣَﻤِﻴﺪٌ ﴿ 267 ﴾

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের উপার্জন থেকে এবং আমি যা তোমদের জন্য ভূমি হতে উৎপন্ন করেছি তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় কর এবং তা থেকে নিকৃষ্ট জিনিস ব্যয় করতে মনস্থ করো না,কেননা তা তোমরা কখনো গ্রহণ করবে না, তবে যদি তোমরা চোখ বন্ধ করে নিয়ে নাও। জেনে রেখো, আল্লাহ অভাব মুক্ত, প্রশংসিত। [ সূরা বাকারা: ২৬৭]

জাকাত ফরজ হওয়া সম্বন্ধে মহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

ﺛُﻤَﺎﻣَﺔُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺑْﻦِ ﺃَﻧَﺲٍ ﺃَﻥَّ ﺃَﻧَﺴًﺎ ﺣَﺪَّﺛَﻪُ ﺃَﻥَّ ﺃَﺑَﺎ ﺑَﻜْﺮٍ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻛَﺘَﺐَ ﻟَﻪُ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏَ ﻟَﻤَّﺎ ﻭَﺟَّﻬَﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺒَﺤْﺮَﻳْﻦِ : ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ ﻫَﺬِﻩِ ﻓَﺮِﻳﻀَﺔُ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺔِ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻓَﺮَﺽَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟَّﺘِﻲ ﺃَﻣَﺮَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺑِﻬَﺎ ﺭَﺳُﻮﻟَﻪُ ﻓَﻤَﻦْ ﺳُﺌِﻠَﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ ﻋَﻠَﻰ ﻭَﺟْﻬِﻬَﺎ ﻓَﻠْﻴُﻌْﻄِﻬَﺎ ﻭَﻣَﻦْ ﺳُﺌِﻞَ ﻓَﻮْﻗَﻬَﺎ ﻓَﻠَﺎ ﻳُﻌْﻂِ . ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ – ‏( ﺝ 5 / ﺹ 292 ‏)

অর্থ: আনাস রাদিয়াল্লাহ হতে বর্ণিত, তাকে যখন খলীফা আবু বকর বাহরাইনের শাসনকর্তা নিযুক্ত করে পাঠাচ্ছিলেন, তখন তাকে এ নির্দেশনামাটি লিখে দিয়েছিলেন। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। এটা ফরজ সাদকা বা জাকাত যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের প্রতি ফরজ করে দিয়েছেন এবং যার নির্দেশ আল্লাহ তার রাসূলকে দিয়েছেন। যে কোনো মুসলমানের নিকট এটা নির্দিষ্ট নিয়মে চাওয়া হবে, সে যেন তা দিয়ে দেয়। আর যার নিকট এর অধিক চাওয়া হবে সে যেন না দেয়। ……..বুখারি।

একই বিষয়ে অপর হাদিসে আল্লাহর নবী বলেন:

ﻋَﻦْ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻟِﻤُﻌَﺎﺫِ ﺑْﻦِ ﺟَﺒَﻞٍ ﺣِﻴﻦَ ﺑَﻌَﺜَﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻴَﻤَﻦِ : ‏« ﺇِﻧَّﻚَ ﺳَﺘَﺄْﺗِﻲ ﻗَﻮْﻣًﺎ ﺃَﻫْﻞَ ﻛِﺘَﺎﺏٍ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺟِﺌْﺘَﻬُﻢْ ﻓَﺎﺩْﻋُﻬُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻥْ ﻳَﺸْﻬَﺪُﻭﺍ ﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠﻪُ ﻭَﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﻓَﺈِﻥْ ﻫُﻢْ ﺃَﻃَﺎﻋُﻮﺍ ﻟَﻚَ ﺑِﺬَﻟِﻚَ ﻓَﺄَﺧْﺒِﺮْﻫُﻢْ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻗَﺪْ ﻓَﺮَﺽَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺧَﻤْﺲَ ﺻَﻠَﻮَﺍﺕٍ ﻓِﻲ ﻛُﻞِّ ﻳَﻮْﻡٍ ﻭَﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﻓَﺈِﻥْ ﻫُﻢْ ﺃَﻃَﺎﻋُﻮﺍ ﻟَﻚَ ﺑِﺬَﻟِﻚَ ﻓَﺄَﺧْﺒِﺮْﻫُﻢْ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻗَﺪْ ﻓَﺮَﺽَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺻَﺪَﻗَﺔً ﺗُﺆْﺧَﺬُ ﻣِﻦْ ﺃَﻏْﻨِﻴَﺎﺋِﻬِﻢْ ﻓَﺘُﺮَﺩُّ ﻋَﻠَﻰ ﻓُﻘَﺮَﺍﺋِﻬِﻢْ ﻓَﺈِﻥْ ﻫُﻢْ ﺃَﻃَﺎﻋُﻮﺍ ﻟَﻚَ ﺑِﺬَﻟِﻚَ ﻓَﺈِﻳَّﺎﻙَ ﻭَﻛَﺮَﺍﺋِﻢَ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ ﻭَﺍﺗَّﻖِ ﺩَﻋْﻮَﺓَ ﺍﻟْﻤَﻈْﻠُﻮﻡِ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﻴْﺲَ ﺑَﻴْﻨَﻪُ ﻭَﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺣِﺠَﺎﺏٌ ‏» ؛ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ – ‏( ﺝ 5 / ﺹ 356 ‏)

অর্থ: ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুয়ায বিন জাবালকে ইয়েমেনের উদ্দেশ্যে পাঠানোর সময় বললেন: তুমি আহলে কিতাবদের নিকট যাচ্ছ। প্রথমে তাদেরকে এই সাক্ষ্য দিতে আহবান জানাবে- আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তবে তাদেরকে বলবে যে, আল্লাহ তাআলা তাদের উপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। অত:পর তারা যদি এটাও মেনে নেয়, তখন তাদেরকে বলবে যে, আল্লাহ তাদের উপর সাদাকা বা জাকাত ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের নিকট হতে গ্রহণ করে তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বন্টন করা হবে। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তবে সাবধান! জাকাত গ্রহণের সময় তুমি বেছে বেছে তাদের শুধু উত্তম জিনিসসমূহ নিবে না। আর বেঁচে থাকবে মাযলুমের বদ দুআ হতে। কেননা মাযলুমের বদ দুআ এবং আল্লাহর মধ্যে কোন আড়াল নেই। বুখারি।

বাধ্যতামূলক দান সমূহের মধ্যে জাকাত বা ওশর প্রদানের হুকুম যে অবশ্য পালনীয়, তার প্রমাণে আল্লাহর পবিত্র কালাম কোরআন মাজিদের পাশাপাশি উপরের দুটি হাদীসও বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। যাতে বিদালোকের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে জাকাতের ফরজিয়াত বিবৃত হয়েছে। ফলে জাকাত ফরজ হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।

ছাইয়্যাদুল এস্তেগফার

সাইয়িদুল ইসতিগফার
হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওস রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
سَيِّدُ الِاسْتِغْفَارِ أَنْ تَقُولَ: اللّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلهَ إِلاَّ أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ. قَالَ: وَمَنْ قَالَهَا مِنَ النَّهَارِ مُوقِنًا بِهَا، فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ قَبْلَ أَنْ يُمْسِيَ، فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الجَنَّةِ، وَمَنْ قَالَهَا مِنَ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنٌ بِهَا، فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ، فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الجَنَّةِ .
সাইয়িদুল ইসতিগফার হচ্ছে এইরূপ বলা-
اللّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلهَ إِلاَّ أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ.
‘ইয়া আল্লাহ! আপনি আমার রব। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমাকে আপনি সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার বান্দা। আমি যথাসাধ্য মেনে চলব আপনার বিধান ও ফরমান।
আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি নিজ কৃতকর্মের অনিষ্ট হতে। স্বীকার করছি আমাকে প্রদত্ত আপনার সকল দান আর স্বীকার করছি আমার পাপ। কাজেই আমাকে ক্ষমা করুন। আপনি ছাড়া আর কেউ নেই, যে গুনাহসমূহ ক্ষমা করতে পারে।’
তিনি বলেন, যে এই কথাগুলো দিনের বেলা মন থেকে বলে আর ঐ দিন সন্ধ্যার আগে মারা যায়, সে জান্নাতীদের শামিল হবে। তেমনি যে তা রাতের বেলায় মন থেকে বলে আর ভোর হওয়ার আগেই মারা যায় সে জান্নাতীদের শামিল হবে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৩০৬, ৬৩২৩
 
সূত্র-আলোচনা
এই হাদীসের বর্ণনাকারী হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওস ইবনে ছাবিত রা. একজন আনসারী খাযরাজী সাহাবী। বিখ্যাত শায়ের সাহাবী হযরত হাসসান ইবনে ছাবিত রা.-এর ভাতিজা। তাঁর বাবা আওস ইবনে ছাবিত রা. বদরের যুদ্ধে শামিল ছিলেন। আর অহুদের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। হযরত উবাদা ইবনে ছামিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন-
شداد بن أوس من الذين أوتوا العلمَ والحلم، ومن الناس من أوتي أحدهما.
শাদ্দাদ ইবনে আওস ঐসব ব্যক্তিদের একজন, যাদের ‘ইল্ম’ ও ‘হিল্ম’ (জ্ঞান ও সহনশীলতা) দুটোই দেয়া হয়েছে। অথচ অনেক মানুষ আছে যারা শুধু একটি প্রাপ্ত হয়েছেন।
তাঁর সম্পর্কে আরো বলা হয়েছে-
فضل شداد بن أوس الأنصارَ بخصلتين : ببيان إذا نطق، وبكظم إذا غضب.
আনসারীদের মাঝে শাদ্দাদ ইবনে আওস শ্রেষ্ঠ দুটি স্বভাব দ্বারা : এক. স্পষ্ট বক্তব্যে আর দুই. ক্রোধ সংবরণে।
ইমাম তবারানী রাহ. স্বীয় সনদে তাঁর জীবনের একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে, একবার শাদ্দাদ ইবনে আওস রা. মরণাপন্ন হয়ে পড়েন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে ছিলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, ما لك يا شداد؟ শাদ্দাদ! তোমার কী হয়েছে? তিনি বললেন, ضاقت بي الدنيا পৃথিবী আমার জন্য সংকুচিত হয়ে গেছে! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-
ليس عليك، إنّ الشّام سيفتح، وبيت المقدس سيفتح، وتكون أنت وولدك من بعدك أئمّة فيهم إن شاء اللَّه تعالى.
না তোমার কিছু হবে না। শাম বিজিত হবে। বাইতুল মাকদিস বিজিত হবে। আর তুমি ও তোমার পরে তোমার সন্তানেরা সেখানে নেতৃস্থানীয় হবে ইনশাআল্লাহ!
পরে তিনি শামে চলে যান। এক ক্বওল অনুসারে ৫৮ হিজরীতে ৭৫ বছর বয়সে ফিলিস্তীনে ইন্তিকাল করেন।
(আল ইসাবা ফী তাময়ীযিস সাহাবা, ইবনে হাজার আসকালানী ৩/২৫৮)
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন, সহীহ বুখারীতে তাঁর সূত্রে এই একটি হাদীসই বর্ণিত হয়েছে। -ফাতহুল বারী ১১/৯৯
এই মহান সাহাবীর সূত্রে এই হাদীস ইমাম বুখারী রাহ. ছাড়াও ইমাম ইবনে আবী শাইবা, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইমাম ইবনে হিব্বান, ইমাম নাসায়ী প্রমুখ স্ব স্ব সনদে বর্ণনা করেছেন। (দ্র. আলমুসান্নাফ, ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৩০০৫২ ও টীকা শায়েখ মুহাম্মাদ আওয়ামা)
সহীহ বুখারীর ‘কিতাবুদ দাআওয়াত’-এর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে এই হাদীসটি (৬৩০৬) রয়েছে। পরিচ্ছেদের শিরোনাম ‘বাবু আফযালিল ইসতিগফার’। আফযালুল ইসতিগফার মানে শ্রেষ্ঠ ইসতিগফার। সহীহ বুখারীর ভাষ্যকার হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. (৮৫২হি.) বলেছেন-
وَتَرْجَمَ بِالْأَفْضَلِيَّةِ وَوَقَعَ الْحَدِيثُ بِلَفْظِ السِّيَادَةِ وَكَأَنَّهُ أَشَارَ إِلَى أَنَّ الْمُرَادَ بِالسِّيَادَةِ الْأَفْضَلِيَّةُ وَمَعْنَاهَا الْأَكْثَرُ نَفْعًا لِمُسْتَعْمِلِهِ.
অর্থাৎ ইমাম বুখারী রাহ. ‘আফযাল’ শব্দের দ্বারা শিরোনাম গঠন করেছেন। তিনি সম্ভবত এর দ্বারা হাদীসের ‘সাইয়িদ’ শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ সাইয়িদুল ইসতিগফার অর্থ আফযালুল ইস্তিগফার বা শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার। আর এর শ্রেষ্ঠত্বের তাৎপর্য হচ্ছে, পাঠকারীর পক্ষে সর্বাধিক উপকারী হওয়া। -ফতহুল বারী ১১/১০১
কাজেই আমরা যদি ইসতিগফারের উপরোক্ত ‘মাছূর’ পাঠটি মুখস্থ করে ফেলি এবং ভাব ও মর্ম উপলদ্ধি করে সকাল-সন্ধ্যায় মন থেকে তা পাঠ করি তাহলে অনেক খায়ের ও বরকতের ব্যাপার হবে।
 
ভাব ও মর্ম আলোচনা
কুরআন-সুন্নাহর শেখানো যিকির ও দুআর কালেমাগুলোর এক অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এগুলো ঈমান ও ঈমানিয়াতে পরিপূর্ণ। কাজেই ঈমান শেখার ও ঈমানকে সতেজ ও সজীব করার এক বড় উপায়, অর্থ ও মর্ম অনুধাবন করে তা নিয়মিত আমলে রাখা। উপরের ইসতিগফারের বাক্যমালায় আছে ঈমানিয়াতের অনেক বিষয়। আর তা থাকাই তো স্বাভাবিক। যখন হাদীস শরীফের বর্ণনা অনুসারে স্বয়ং সাইয়িদুল মুরসালীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে ‘সাইয়িদুল ইসতিগফার’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর ফযীলত বর্ণনা করে বলেছেন, যে বান্দা দিবসে তা মন থেকে পড়ে সন্ধ্যার আগে তার মৃত্যু ঘটলে সে জান্নাতী হবে। আর যে তা রাতে মন থেকে পড়ে ভোরের আগে মৃত্যু হলে সে-ও জান্নাতী হবে।
নিশ্চয়ই এতে আছে ঐ সকল কথা, যা আল্লাহর অতি প্রিয় এবং যার দ্বারা আল্লাহর বান্দা হয়ে যায় আল্লাহর প্রিয়পাত্র। চলুন তবে এই সত্য-সুন্দর বাণীর ভাব ও মর্মের ভুবনে।
 
***
১. اللّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلهَ إِلاَّ أَنْتَ
ইয়া আল্লাহ! আপনি আমার রব। নেই কোনো ইলাহ আপনি ছাড়া।
‘রব’ মানে প্রভু ও পরওয়ারদেগার আর ‘ইলাহ’ মানে উপাস্য ও মাবুদ। আল্লাহর বান্দা প্রথমেই স্মরণ করছে এবং স্বীকার করছে যে, আল্লাহই তার রব, তার প্রভু ও পরওয়ারদেগার এবং একমাত্র ইলাহ ও মাবুদ।
২. خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ
আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন; আমি আপনার বান্দা।
আল্লাহই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে প্রতিপালন করছেন। মানুষের জীবন ও জীবনোপকরণ, তার মেধা ও শক্তি তাঁর দান। সৃজন ও প্রতিপালনে আল্লাহর কোনো শরীক নেই। কাজেই নিরঙ্কুশ ইবাদত ও চূড়ান্ত আনুগত্য একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য।
কুরআন মাজীদের ইরশাদ-
یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوْا رَبَّكُمُ الَّذِیْ خَلَقَكُمْ وَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ الَّذِیْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَرْضَ فِرَاشًا وَّ السَّمَآءَ بِنَآءً  وَّ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَخْرَجَ بِهٖ مِنَ الثَّمَرٰتِ رِزْقًا لَّكُمْ  فَلَا تَجْعَلُوْا لِلهِ اَنْدَادًا وَّ اَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ.
হে মানুষ! যিনি তোমাদের ও তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন, তোমাদের সেই রবের ইবাদত কর। যাতে আত্মরক্ষা করতে পার।
যিনি তোমাদের জন্য ভূমিকে করেছেন বিছানা এবং আকাশকে ছাদ। আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তা দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য উৎপন্ন করেছেন ফলমূল । কাজেই জেনেশুনে আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করো না। -সূরা বাকারা (২) : ২১-২২
মানুষ একমাত্র আল্লাহরই বান্দা আর আল্লাহই তার রব ও ইলাহ। ইস্তিগফারের এই বাক্যগুলোতে আছে বান্দার সাথে আল্লাহর এই সম্পর্কেরই স্মরণ ও স্বীকারোক্তি।
৩. وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ  
আমি যথাসাধ্য মেনে চলব আপনার বিধান ও ফরমান।
এটি উপরোক্ত সম্পর্কেরই দাবি।
আরবী ভাষায় عهد শব্দের এক অর্থ আদেশ-নিষেধ, বিধি-বিধান। আরবী ভাষার ব্যবহারে عهد إليه অর্থ তাকে আদেশ করল, নিষেধ করল। এই ব্যবহার অনুসারেই উপরোক্ত বাক্যের তরজমা করা হয়েছে।
এ শব্দের আরেক অর্থ অঙ্গিকার, চুক্তি ইত্যাদি। সেই ব্যবহার অনুসারে তরজমা হবে, ‘আমি আপনার সাথে কৃত অঙ্গিকার ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলব।’
আল্লাহর যে বিধান ও ফরমান পালনে বান্দা আল্লাহর সাথে অঙ্গিকারাবদ্ধ এবং যার বিনিময়ে বান্দার জন্য রয়েছে মহান রবের মহা প্রতিশ্রুতি, তা হচ্ছে ঈমান ও ইতাআত তথা বিশ্বাস ও আনুগত্যের ফরমান।
বান্দা একমাত্র আল্লাহরই উপাসনা করবে এবং আল্লাহর আদেশকেই চূড়ান্তরূপে শিরোধার্য করবে। তাঁর আদেশের উপর আর কারো আদেশকে প্রাধান্য দিবে না।
কারণ, নিরঙ্কুশ উপাসনা ও চূড়ান্ত আনুগত্যের একমাত্র হকদার আল্লাহ তাআলা।
আল্লাহ তাআলা মানুষকে বুদ্ধি-বিবেক দান করেছেন এবং প্রকৃতিতে তাঁর রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতের অসংখ্য নিদর্শন স্থাপন করেছেন। এই বুদ্ধি ও বিবেক ব্যবহার করে আল্লাহর পরিচয় লাভ করা মানুষের কর্তব্য।
এরপর যুগে যুগে নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন এবং আসমানী কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁর বিধান ও ফরমান সুস্পষ্টভাবে মানব জাতিকে দান করেছেন।
তো আকল ও নকল তথা বুদ্ধি ও বর্ণনা উভয় দিক থেকে তাঁর ‘রুবূবিয়্যাত’ ও ‘উলুহিয়্যাত’ মানবজাতির সামনে সাব্যস্ত হয়েছে। কাজেই আল্লাহর ফরমান স্পষ্ট এবং মানুষের সর্বসত্তা আল্লাহ তাআলাকে রব ও ইলাহ মেনে নেয়ার বিষয়ে অঙ্গিকারাবদ্ধ।
এরপর আল্লাহ যাকে ঈমানের তাওফীক দান করেছেন ঈমানের শাহাদতের মাধ্যমে সে আল্লাহর ফরমানকে শিরোধার্য করেছে এবং আল্লাহর সাথে তার অঙ্গিকারকে আরো দৃঢ় ও শক্তিশালী করেছে। এই দুআয় আছে সেই অঙ্গিকারেরই স্মরণ ও নবায়ন।
ঈমানী শাহাদাতের মাধ্যমে মুমিন ঐ সত্যের সাক্ষ্য প্রদান করেছে, যা অস্বীকার করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। প্রতিটি মানুষ- সে ঈমান আনুক বা না আনুক, মুখে স্বীকার করুক বা না করুক, সে আল্লাহরই সৃষ্টি; আল্লাহর দানেই সে ধনী। দিনরাত সে ভোগ করে চলেছে আল্লাহর নিআমত। যে মুখে স্বীকার করছে না তারও সর্বসত্তা সর্বদা এই সাক্ষ্যই দিচ্ছে যে, আল্লাহ তার সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা। আর সে আল্লাহর সৃষ্টি ও প্রতিপালিত।
মুমিনের সৌভাগ্য যে, ঈমানের শাহাদাতের মাধ্যমে সে এই সত্য স্বীকার করেছে এবং বিদ্রোহ ও অস্বীকারের হীনতা ও মহাশাস্তি থেকে মুক্তির উপায় গ্রহণ করেছে। এটাই তো পরিচয় শুভবুদ্ধির ।
কুরআনে কারীম ‘উলুল আলবাব’ ও শুভবুদ্ধির অধিকারী মানুষের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলছে-
الَّذِیْنَ یُوْفُوْنَ بِعَهْدِ اللهِ وَ لَا یَنْقُضُوْنَ الْمِیْثَاقَ
যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গিকার রক্ষা করে এবং প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে না। -সূরা রা‘দ (১৩) : ২০
এদেরই জন্য মহান আল্লাহর প্রতিশ্রুতি-
اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ عُقْبَی الدَّارِ جَنّٰتُ عَدْنٍ یَّدْخُلُوْنَهَا وَ مَنْ صَلَحَ مِنْ اٰبَآىِٕهِمْ وَ اَزْوَاجِهِمْ وَ ذُرِّیّٰتِهِمْ وَ الْمَلٰٓىِٕكَةُ یَدْخُلُوْنَ عَلَیْهِمْ مِّنْ كُلِّ بَابٍ سَلٰمٌ عَلَیْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَی الدَّارِ.
এদেরই জন্য শুভ পরিণাম- স্থায়ী জান্নাত, তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের বাবা, মা, স্বামী, স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করেছে তারাও। আর ফেরেশতাগণ প্রত্যেক দরজা দিয়ে তাদের নিকট উপস্থিত হবে এবং বলবে, তোমাদের প্রতি শান্তি, কারণ তোমরা ধৈর্যধারণ করেছিলে। কত ভালো এই পরিমাণ। -সূরা রা‘দ (১৩) : ২২-২৪
পক্ষান্তরে যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গিকার ভঙ্গ করেছে তাদের সম্পর্কে ঘোষণা-
وَ الَّذِیْنَ یَنْقُضُوْنَ عَهْدَ اللهِ مِنْۢ بَعْدِ مِیْثَاقِهٖ وَ یَقْطَعُوْنَ مَاۤ اَمَرَ اللهُ بِهٖۤ اَنْ یُّوْصَلَ وَ یُفْسِدُوْنَ فِی الْاَرْضِ  اُولٰٓىِٕكَ لَهُمُ اللَّعْنَةُ وَ لَهُمْ سُوْٓءُ الدَّارِ.
যারা আল্লাহর সাথে দৃঢ় অঙ্গিকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে; যে সম্পর্ক অক্ষুণœ রাখতে আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করে তাদের জন্য আছে লা‘নত এবং তাদের জন্য আছে মন্দ আবাস। -সূরা রা‘দ (১৩) : ২৫
বস্তুত আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গিকার স্বীকার করা এবং তাঁর ফরমান শিরোধার্য করাই শুভ বুদ্ধির পরিচয় এবং এটিই পথ বুদ্ধিমান ও সৌভাগ্যবানদের।
ما استطعت ‘যথাসাধ্য’ কথাটির উদ্দেশ্য, আপন দুর্বলতা স্বীকার করা। একে তো আল্লাহর শান মোতাবেক হক আদায় বান্দার সাধ্যেরই অতীত। আর এ কারণে আল্লাহ আপন করুণায় বান্দার উপর তার সাধ্য অনুযায়ী ভার দিয়েছেন, কিন্তু সেই বিধান পালনেও হয়ে যায় বান্দার নিজের দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতাজনিত নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি। কাজেই করুণাময় প্রভুর সাথে আনুগত্যের চুক্তি নবায়নের সাথে সাথে আপন দুর্বলতা নিবেদনও এই বাক্যের উদ্দেশ্য।
৪. أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ
‘আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি নিজ কৃতকর্মের অনিষ্ট হতে।’
আপন কৃতকর্মের অনিষ্ট ও অশুভ পরিণামই তো ভয়ের বড় কারণ। দুনিয়া ও আখিরাতে যে যে কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তন্মধ্যে নিজের কর্মভুলই তো সবচেয়ে বড় কারণ। আখিরাতের শাস্তি ও আযাবের পুরোটাই মানুষের নিজের কর্মের ফল। দুনিয়ার অশান্তি ও অস্থিরতার মূলেও তার নিজের কর্ম। তাহলে সবার আগে তো নজর ফেরানো উচিত নিজের দিকেই। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ অনিষ্টের কারণ অন্যত্র খুঁজে বেড়ায় এবং অন্যকে দোষারোপ করে। না, কষ্ট ও অনিষ্টের কারণ আমার নিজেরই কর্ম। উপরের বাক্যে আছে এই সত্যের শিক্ষা ও উপলদ্ধি, আছে একমাত্র আশ্রয়স্থল আল্লাহরই কাছে আশ্রয় প্রার্থনা।
শাক্ল ইবনে হুমাইদ রা. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম এবং আরজ করলাম, আমাকে আশ্রয় প্রার্থনার একটি দুআ শিখিয়ে দিন। তিনি আমার কাঁধে হাত রাখলেন এবং বললেন, তুমি (এই কথাগুলো) বলবে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي، وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي، وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي، وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي، وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّي.
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি আমার কানের অনিষ্ট থেকে, আমার চোখের অনিষ্ট থেকে, আমার জিহ্বার অনিষ্ট থেকে, আমার অন্তকরণের অনিষ্ট থেকে এবং আমার বীর্যের (লজ্জাস্থানের) অনিষ্ট থেকে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫৫১; জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৪৯২
হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে একটি দুআ শিক্ষা দিন, যা আমি সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু বকর! তুমি বলবে-
اللّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَه، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِه، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِي سُوءًا أَوْ أَجُرَّهُ إِلى مُسْلِمٍ.
ইয়া আল্লাহ! আকাশম-লী ও পৃথিবীর ¯্রষ্টা! সকল বস্তুর প্রভু ও অধিপতি! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি আমার নিজের অনিষ্ট থেকে। আর আশ্রয় নিচ্ছি নিজের উপর বা কোনো মুসলিমের উপর কোনো প্রকার অনিষ্ট টেনে আনা থেকে। -জামে তিরমিযী, হাদীস  ৩৫২৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫০৬৭
হযরত ফারওয়া ইবনে নাওফিল আল আশজায়ী রা. বলেন, আমি আয়েশা রা.-কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী দুআ করতেন জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তিনি বলতেন-
اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ، وَمَنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ.
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি যা আমি করেছি তার অনিষ্ট থেকে এবং যা করিনি তারও অনিষ্ট থেকে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৭১৬
৫. أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي
‘স্বীকার করছি আমাকে প্রদত্ত আপনার সকল দান আর স্বীকার করছি আমার পাপ।’
হায়! একদিকে আল্লাহর প্রভূত দান, অন্যদিকে বান্দার নাফরমানী! এটাই তো সত্য ও বাস্তবতা। তবে এই সত্যের উপলদ্ধিও তাদের মনেই জাগে, যাদের আল্লাহ ক্ষমা করতে চান। দেখুন, এক বেদুঈন কা‘বার গিলাফ ধরে কীভাবে কাকুতি মিনতি করছে-
اللَّهُمَّ إن استغفاري مع إصراري لؤمٌ، وإنَّ تركي الاستغفارَ مع علمي بسعةِ عفوكَ لعجزٌ، فكم تَتَحَبَّبُ إليَّ بالنعم مع غِناكَ عني، وكم أتبغَّضُ إليك بالمعاصي مع فقري إليك، يا مَن إذا وعدَ وفَّى، وإذا توعَّدَ تجاوز وعفا، أدخلْ عظيمَ جُرمي في عظيمِ عفوكَ، يا أرحم الراحمين.
ইয়া আল্লাহ! পাপ-মগ্নতার সাথে আমার ক্ষমা চাওয়া তো হীনতা, কিন্তু, তোমার প্রশস্ত ক্ষমার সংবাদ জেনেও ক্ষমা না চাওয়া তো নির্বুদ্ধিতা। তুমি তোমার দয়া ও করুণার দ্বারা কতই না আমার প্রীতি অন্বেষণ করছ। অথচ আমার কাছে তোমার কোনোই প্রয়োজন নেই। আর আমি পাপ ও নাফরমানীর মাধ্যমে কতই না তোমার ক্রোধ আকর্ষণ করে চলেছি। অথচ তোমার কাছেই আমার সকল প্রয়োজন!
হে সকল দয়ালুর বড় দয়ালু! যিনি প্রতিশ্রুতি দিলে পূরণ করেন, আর শাস্তির ধমক দিলেও ক্ষমা করেন ও উপেক্ষা করেন আমার মহা পাপকে ডুবিয়ে দাও তোমার করুণার মহা সিন্ধুতে! (কিতাবুল আজকার, ইমাম নববী, বর্ণনা ১২৩০-এর অধীনে)
সুবহানাল্লাহ! বাস্তবতার এই উপলদ্ধি আর নিবেদনের এই ভাষা আল্লাহ যাকে দান করেন তাকে তো ক্ষমা করার জন্যই দান করেন। কবি সত্য বলেছেন-
لو لم ترد نيل ما أرجو وأطلبه + من جود كفيك ما علمتني الطلبا
তুমি যদি না চাইতে দু’হাতের দানে আমার আচলখানি ভরে দিতে; তাহলে তো প্রভু! এই প্রার্থনাই শেখাতে না আমাকে।
৬. فَاغْفِرْ لِي
‘কাজেই’…। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন, বোঝা যাচ্ছে, যে আল্লাহর কাছে অপরাধ স্বীকার করে, আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন। ইফকের দীর্ঘ হাদীসে তা স্পষ্টভাবে এসেছে।
তাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
العَبْدُ إِذَا اعْتَرَفَ بِذَنْبِهِ، ثُمَّ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ.
বান্দা যখন পাপ স্বীকার করে ও তওবা করে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ২৬৬১; ফাতহুল বারী ১১/১০৩
কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে-
فَمَنْ تَابَ مِنْۢ بَعْدِ ظُلْمِهٖ وَ اَصْلَحَ فَاِنَّ اللهَ یَتُوْبُ عَلَیْهِ ؕ اِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ.
কিন্তু সীমালংঘন করার পর কেউ তওবা করলে ও সংশোধন করলে অবশ্যই আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন; আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। -সূরা মাইদা (৫) : ৩৯
৭. فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ.
‘আপনি ছাড়া আর কেউ নেই, যে গুনাহসমূহ মাফ করে।’
গুনাহ মাফকারী তো একমাত্র আল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া আর কেউ বান্দার গুনাহ মাফ করতে পারে না।
কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে-
وَ مَنْ یَّغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا اللهُ
আল্লাহ ছাড়া কে আছে পাপ ক্ষমা করে? -সূরা আলে ইমরান (৩) : ১৩৫
আরো ইরশাদ হয়েছে-
وَ هُوَ الَّذِیْ یَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهٖ وَ یَعْفُوْا عَنِ السَّیِّاٰتِ وَ یَعْلَمُ مَا تَفْعَلُوْنَ.
তিনিই তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন ও পাপ মোচন করেন এবং তোমরা যা কর তিনি তা জানেন। -সূরাতুশ শূরা (৪২) : ২৫
হাদীসের এই দুআয় সহজ সরল ভাষায় যে গভীর সত্য ও অনুপম ভাবের প্রকাশ ঘটেছে তা থেকেও বোঝা যায়- কেন এই দুআ সাইয়িদুল ইসতিগফার বিশেষণে ভূষিত।
এতে যেমন আছে আল্লাহর একমাত্র মাবুদ হওয়ার সাক্ষ্য তেমনি আছে বান্দার বান্দা হওয়ার স্বীকারোক্তি।
এতে যেমন আছে খালিককে খালিক বলে স্বীকার করা তেমনি আছে তাঁর সকল বিধান ও ফরমানকে শিরোধার্য করা।
এতে যেমন আছে প্রকৃত দাতার দান স্বীকার, তেমনি আছে আপন কৃতকর্মের স্বীকারোক্তি।
এতে যেমন আছে গুনাহ দ্বারা নিজের ক্ষতির উপলদ্ধি, তেমনি আছে এই মহা সত্যের সাক্ষ্য যে, একমাত্র আল্লাহই বান্দার গুনাহ মাফকারী।
 
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين

Quran aur hadith

​منکرین حدیث کا ایک دھوکہ

—————————

(حافظ عبيد الله) 
 منکرینِ حدیث کا یہ وطیرہ بھی رہا ہے کہ وہ حدیث اور کتب حدیث کے بارے میں شکوک وشبہات پھیلانے کے لئے قرآن کانام لیتے ہیں اور کہتے ہیں کہ حدیث کے صحیح ہونے کے لئے یہ ضروری ہے کہ اس میں بیان کردہ مضمون قرآن میں ہو ۔ یہ صرف ایک دھوکہ ہے ورنہ قرآن تو خود کہتا ہے کہ {من یطع الرسول فقد اطاع اللّٰہ (النسائ:۸۰)}جس نے رسول صلى الله عليه وسلم  کی اطاعت کی پس اس نے اللہ کی اطاعت کی۔ یہ نہیں فرمایا کہ ’’جس نے اللہ کی اطاعت کی اس نے رسول کی اطاعت کی‘‘ بلکہ رسول صلى الله عليه وسلم  کی اطاعت کو اللہ کی اطاعت کہا گیا ، نہ ہی یہ کہا گیا کہ رسول اللہ صلى الله عليه وسلم کی صرف اس بات میں اطاعت کرنی ہے جس کا ذکر قرآن میں ہو ، اور جس بات کا ذکر قرآن میں نہ ہو وہ نہیں ماننی۔ 

  قرآن کا حکم تو یہ ہے {قُل اطیعو اللّٰہ واطیعوا الرسول واولی الامر منکم فان تنازعتم فی شيء فردوہ الی اللّٰہ والرسول ان کنتم تؤمنون باللّٰہ والیوم الآخر (النسائ:۵۹)} آپ کہہ دیجیے! اطاعت کرو اللہ کی اور رسول (صلى الله عليه وسلم ) کی اور ان کی جو تم میں سے صاحب اختیار ہوں، پس اگر تمہارے درمیان کسی چیز میں اختلاف ہوجائے تو اسے اللہ اور اس کے رسول کی طرف لوٹاؤ اگر تم واقعی اللہ اور آخرت کے دن پر ایمان رکھتے ہو۔

 اس میں ’’اللہ کی اطاعت‘‘ اور ’’رسول کی اطاعت‘‘ دونوں کو الگ الگ بیان کیا گیا ہے نیز اختلاف کی صورت میں بھی ’’اللہ‘‘ اور ’’رسول‘‘ کی طرف رجوع کرنے کو الگ الگ بیان کیا گیا ہے ، جو اس بات کی واضح دلیل ہے کہ رسول اللہ صلى الله عليه وسلم کی بات (حدیث) بھی اللہ کی بات (قرآن)کی طرح اپنی جگہ مستقل حجت ہے ۔ 

  قرآن تو یہ کہتا ہے کہ  {لقد کان  لکم  فی رسول اللّٰہ  اسو ۃ حسنۃ لمن کان یرجوا اللّٰہ والیوم الآخر(الاحزاب:۲۱)} بلا شبہ تمہارے لیے رسول ( صلي الله عليه وسلم ) کی زندگی میں بہترین نمونہ ہے (پیروی کے لیے) ایسے شخص کے لیے جو اللہ تعالیٰ اور روزِ آخرت پر ایمان رکھتا ہے۔

  اس آیت میں لفظ ’’رسول اللہ‘‘ ایک جامع لفظ ہے جو نبی e کی ساری زندگی کو محیط ہے۔ اس میں آپ کی قولی اور فعلی تمام احادیث شامل ہیں آیت کا مطلب یہ ہے کہ جو شخص اللہ تعالیٰ اور روز آخرت پر ایمان رکھتا ہے اس پر لازم ہے کہ وہ رسول اللہ صلي الله عليه وسلم کی پوری زندگی کو نمونہ بنائے اور یہ تب ممکن ہے کہ وہ نبی صلي الله عليه وسلم کی احادیث کو فی نفسہ اور مستقل حجت تسلیم کرے۔ اگر وہ انہیں  حجت تسلیم نہیں کرتا یا اپنی خواہش کے تابع ’’تحقیق‘‘ کرتا ہے اور یہ قید لگاتا ہے کہ میں قرآن کو دیکھوں گا اگر حدیث میں بیان کردہ بات یا مضمون اس میں ملا تو حدیث کو مانوں گا ورنہ نہیں تو ایسا شخص اس آیت اور دوسری آیات کا منکر ہے ۔ 

  قرآن کا فیصلہ تو یہ ہے کہ {ومن یشاقق الرسول من بعد ما تبین لہ الہدیٰ ویتبع غیر سبیل المؤمنین نولہ ما تولّیٰ ونصلہ جہنم (النسائ: ۱۱۵)} اور جو کوئی رسول کی مخالفت کرے۔ اس کے بعد کہ اس کے لیے سیدھا راستہ خوب واضح ہوچکا اور مومنوں کی راہ کے علاوہ کسی دوسری راہ پر چلنے لگے تو ہم اسے اسی طرف پھیر دیں گے جس طرف وہ پھرے گا اور اسے جہنم میں داخل کریں گے۔ 

 اس آیت کریمہ میں صرف رسول اور اس کی ہدایت کا ذکر کیا گیا ہے ، کتاب اللہ کا ذکر نہیں کیا گیا کیونکہ ’’مُشاقّۃٌ‘‘ در اصل عملی مخالفت کو کہاجاتا ہے، یعنی رسول اللہ صلي الله عليه وسلم  نے جو اعمال کیے اگر کوئی شخص ان کے خلاف کرتا ہے تو اس کے لیے وعید اور تخویف ہے، رسول اللہ صلي الله عليه وسلم  کے اعمال احادیث میں مذکور ہیں ۔ لفظ ’’الہدیٰ‘‘ بھی عام ہے اور کتاب اللہ اور حدیث دونوں ہدایت کے سرچشمے ہیں۔ اس ہدایت کی مخالفت جہنم میں داخل ہونے کا سبب بنتی ہے ۔ اس کی وجہ یہ ہے کہ رسول اللہ e کے اعمال اور ہدایت کی مخالفت کرنے والا اس کی حجیت سے انکار کرتا ہے ، لہٰذا منکرینِ حجیتِ حدیث اس آیت کے منکر ہیں ۔ 

  اگر تھوڑا سا غور کیا جائے تو موضوع احادیث کا وجود بذات خود حجیتِ احادیث کے لیے ایک قوی دلیل ہے جس کا منکرینِ حدیث بھی انکار نہیں کرسکتے۔ وہ اس طرح کہ اگر احادیث شرعی حجت نہ ہوتیں تو پھر احادیث گھڑنے کا کیا فائدہ؟ جب اصلی سکہ کی بازار میں قدر وقیمت ہوگی تو کھوٹے سکے بنائے جائیں گے۔ منکرین حدیث بھی اس بات کو تسلیم کرتے ہیں کہ ایک دور ایسا آیا کہ جب موضوع روایات کا سیلاب امڈآیا تھا جس سے یہ نتیجہ نکلتا ہے کہ اس وقت امت کی اکثریت حجیتِ احادیث کی قائل تھی۔ 

  ایک مسلمان کے لئے ہر اُس بات پر ایمان لانا اور اسے تسلیم کرنا واجب ہے جو نبی کریم صلي الله عليه وسلم  سے صحیح اور معتمد طریقے سے ثابت ہو، چاہے اس کا تعلق آپ صلي الله عليه وسلم  سے پہلے ہونے والے واقعات سے ہو یا قیامت تک آنے والے حوادث سے ہو ، جو شخص کسی ایسی بات کی تکذیب کرے جو نبی کریم صلي الله عليه وسلم  سے ثابت ہو تو ایسے شخص کا ایمان مشکوک ہے کیونکہ محمد صلي الله عليه وسلم  کی رسالت کی گواہی دینا اس بات کا تقاضا کرتا ہے کہ آپ صلي الله عليه وسلم کی ان تمام باتوں میں تصدیق کی جائے جن کی آپ صلي الله عليه وسلم نے خبر دی، نبی کریم صلي الله عليه وسلم  نے فرمایا :  ’’اقاتل الناس حتی یشہدوا ان لا الہ الا اللّٰہ ویؤمنوا بی وبما جِئتُ بہ …‘‘   میں لوگوں کے ساتھ اس وقت تک قتال کروں گا جب تک وہ اللہ کی وحدانیت کی گواہی نہ دیں اور جب تک مجھ پر اور جو کچھ میں لے کر آیا ہوں اُس پر ایمان نہ لے آئیں  (صحیح مسلم، کتاب الایمان: حدیث نمبر 34)  اس حدیث شریف میں یہ نہیں فرمایا گیا کہ صرف قرآن کریم پر ایمان لانا ہی کافی ہے بلکہ فرمایا کہ ’’جو کچھ میں لے کر آیا ہوں‘‘ اُس کو ماننا بھی ضروری ہے، اسی بات کی مزید تشریح دوسری احادیث سے بھی ہوتی ہے، حضرت ابورافع رضی اللہ عنہ روایت کرتے ہیں کہ نبی کریم صلي الله عليه وسلم نے فرمایا:  لا ألفِیَنّ احدَکُم مُتَّکِئاً علیٰ أرِیکَتِہ یأتیہ الأمر من أمری مِمّا أمرتُ بہ أو نہیتُ عنہ فیقُولُ لا نَدرِي ما وَجدنا في کتاب اللّٰہ اتبعناہ‘‘  میں تم سے کسی کو ایسا نہ پاؤں کہ وہ اپنی مسند پر تکیہ لگائے بیٹھا ہو اور اس کے پاس میری بات پہنچے جس کا میں نے حکم دیا ہو یا اُس سے منع کیا ہو اور وہ شخص کہے کہ ہم نہیں جانتے ہم تو اسی بات کی پیروی کریں گے جو اللہ کی کتاب میں ہے (سنن ابی داود، حدیث نمبر: 4605 ،سنن ترمذی، حدیث نمبر: 2663، سنن ابن ماجۃ، حدیث نمبر: 13،  مسند احمد، حدیث نمبر:23876، المستدرک للحاکم، حدیث نمبر:368)، اسی طرح حضرت مقدام بن معدیکرب رضی اللہ عنہ روایت فرماتے ہیں کہ نبی کریم صلي الله عليه وسلم نے فرمایا:   مجھے ایک (اللہ کی) کتاب دی گئی ہے اور اس کے برابر یا اس کی مثل اور چیز بھی دی گئی ہے ، قریب ہے کہ اپنی مسند پر تکیہ لگائے ایک پیٹ بھرا شخص یوں کہے کہ ہمارے اور تمہارے درمیان یہ کتاب (یعنی قرآن) ہی کافی ہے، جوچیز اس میں حلال ہے اسے حلال سمجھیں گے اور جو اس میں حرام ہے ہم اُسے حرام سمجھیں گے ، خبردار! معاملہ اس طرح نہیں ہے ، آگاہ رہو! کچلیوں والا درندہ حلال نہیں ہے اور نہ گھریلو گدھا اور نہ ذِمی کی گری پڑی چیزمگر اس صورت میں کہ جس کی چیز ہے وہ اُس سے بے نیاز ہو جائے ،اور جو آدمی کسی قوم کا مہمان بنا اور انہوں نے اُس کی ضیافت نہیں کی تو اُس کے لئے درست ہے کہ میزبانی کے بقدر اُن سے وصول کرے   (سنن ابي داود ، حدیث نمبر4604 ، السنن الکبریٰ للبیہقي، حدیث نمبر19469،صحیح ابن حِبان، حدیث نمبر 12 )، اسی طرح صحیح مسلم میں حضرت عبداللہ بن عباس رضی اللہ عنہما سے روایت ہے کہ ’’رسول اللہ صلي الله عليه وسلم  نے ہر کچلیوں والے درندے اور ہر پنجوں والے پرندے سے (یعنی کھانے سے) منع فرمایا‘‘  (صحیح مسلم، باب تحریم أکل کل ذي ناب من السباع وکل ذي مخلب من الطیور، حدیث نمبر 1934) اب غور فرمائیں قرآن کریم نے کھانے والی جو حرام چیزیں بیان کی ہیں ان کے اندر مُردار، بہنے والا خون، خنزیر کا گوشت اور غیر اللہ کے نام پر ذبح کیا جانے والا جانور جیسی چند چیزوں کا ذکر ہے لیکن حدیث شریف نے کچلیوں سے شکار کرنے والے جانور کو حرام قرار دے کر شیر ، چیتے ، گیدڑ اور دوسرے درندوں کا حرام ہونا بتا دیا (کچلیاں اُن دانتوں کو کہاجاتا ہے جو درندوں کے مُنہ میں قدرے لمبے اور نوکیلے ہوتے ہیں)، اسی طرح پنجے سے شکار کرنے والے پرندوں کے حرام ہونے کا قانون پیش کرکے باز، شکرہ، اُلو، چیل اور گدھ وغیرہ کو حرام قرار دے دیا نیز گھریلو گدھے کا حرام ہونا بھی حدیث میں بیان کیا گیا ، وہ لوگ جو یہ کہتے ہیں کہ ہم تو صرف اسی کو حرام سمجھیں گے جس کا حرام ہونا قرآن نے بیان کیا ہے تو انہیں چاہیے کہ وہ گیدڑ، لومڑ، کُتے، چیل اور گدھ وغیرہ کا گوشت کھایا کریں کیونکہ ان کی حرمت تو حدیث نے بیان کی ہے قرآن نے نہیں ، اسی طرح قرآن کریم نے تو مطلقاً ہر مرد وعورت کو بلا  ناغہ  نماز اور روزے کا حکم دیا ہے، لیکن نبی کریم e کی احادیث نے بتایا کہ حیض اور نفاس والی عورت کو جب تک وہ پاک نہ ہوجائے نماز سے مکمل رخصت دے دی گئی ہے، اور اس حالت میں رمضان کے روزے بھی نہیں رکھے گی بلکہ بعد میں قضاء کرے گی ، کیا ایک عورت کو بچے کی پیدائش کے بعد تقریباً چالیس دن تک اور ہر مہینے میں حیض کے چھ سات دنوں کے لئے نماز معاف کردینا نیز رمضان کے مہینے میں روزے رکھنے سے منع کردینا ایک معمولی حکم ہے؟قرآن کریم میں تو صرف نماز قائم کرنے، زکوٰۃ وحج اداکرنے کا حکم ہے لیکن نمازوں کی رکعات اور ادائیگی کی تفصیل کہاں سے ملے گی؟ زکوٰۃ کی تفصیل کے لئے کس طرف رجوع کیا جائے گا؟ حج وعمرہ کی ادائیگی کا طریقہ کہاں ملے گا؟ مختلف صحابہ کرام ؓ  روایت کرتے ہیں کہ جب نبی کریم صلي الله عليه وسلم  نے یہ اعلان فرمایا کہ:یا ایہا الناس کُتبَ علیکُم الحج…اے لوگو تم پر حج فرض کیا گیا ہے ، تو کسی نے پوچھا کہ :اے اللہ کے رسول کیا ہرسال حج کرنا فرض ہے؟ تو آپ صلي الله عليه وسلم  خاموش رہے (یعنی کوئی جواب نہ دیا) لیکن سوال کرنے والے نے متعدد بار یہی سوال دُہرایا تو آپ صلي الله عليه وسلم  نے فرمایا: لو قُلتُ نَعم لوَجَبت … اگر میں ’’ہاں‘‘ کہہ دوں تو پھر ہر سال کرنا واجب ہوجاتا، اور اگر ایسا ہوجائے تو تم اس پر عمل نہیں کرسکوگے، لہذا حج (زندگی) میں ایک ہی بار فرض ہے … الی آخر الحدیث  (سنن نسائی، حدیث نمبر 2619 اور 2620 ،سنن ابن ماجہ، حدیث نمبر:2885 وغیرہا من الکتب)  غور فرمائیں! سوال ہوتا ہے کہ کیا ہر سال حج کرنا ضروری ہے؟ تو جواب میں فرمایا جاتا ہے کہ اگر میں ’’ہاں‘‘ کہہ دوں تو پھر ہر سال کرنا ضروری ہوجائے گا ، یعنی نبی کریم صلي الله عليه وسلم  کی ’’ہاں‘‘ سے ایک چیز واجب ہوسکتی ہے، نیز قرآن کریم نے تو صرف یہ فرمایا ہے کہ ہر صاحب استطاعت پر حج فرض ہے، قرآن کریم میں یہ نہیں کہ صرف ایک بار فرض ہے ، لیکن نبی کریم صلي الله عليه وسلم  نے ہمیں بتایا کہ حج زندگی میں صرف ایک بار فرض ہے۔
(جاری ہے)

​এক গ্রাম্য লোকের ২৫ টি প্রশ্ন আররাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর উত্তর !!

​এক গ্রাম্য লোকের ২৫ টি প্রশ্ন আর

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর উত্তর !!

,

১) প্রশ্নঃ আমি ধনী হতে চাই ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, অল্পতুষ্টি 

অবলম্বন কর, ধনী হয়ে যাবে।
২) প্রশ্নঃ আমি সবচেয়ে বড় আলেম

(ইসলামী জ্ঞানের অধিকারী) হতে চাই ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, তাক্বওয়া 

অবলম্বন কর (আল্লাহ্ ভীরুতা) আলেম হয়ে যাবে।


৩) প্রশ্নঃ সম্মানী হতে চাই ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, সৃষ্টির 

কাছে চাওয়া বন্ধ কর, সম্মানী হয়ে যাবে।
৪) প্রশ্নঃ ভাল মানুষ হতে চাই ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, মানুষের 

উপকার কর।
৫) প্রশ্নঃ ন্যায়পরায়ণ হতে চাই ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, যা নিজের জন্য পছন্দ কর, তা অন্যের জন্যেও পছন্দ কর৷
৬) প্রশ্নঃ শক্তিশালী হতে চাই ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, আল্লাহর উপর ভরসা কর।
৭) প্রশ্নঃ আল্লাহর দরবারে বিশেষ মর্যাদার অধিকরী হতে চাই ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, বেশী বেশী আল্লাহকে স্মরণ (জিকির) কর।
৮) প্রশ্নঃ রিযিকের প্রশস্ততা চাই ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, সর্বদা অযু অবস্থায় থাকো।
৯) প্রশ্নঃ সমস্ত দোয়া কবুলের আশা করি ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, হারাম খাবার হতে বিরত থাকো।
১০) প্রশ্নঃ ঈমানে পূর্ণতা কামনা করি ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, চরিত্রবান হও ৷
১১) প্রশ্নঃ কেয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে গুনামুক্ত হয়ে সাক্ষাৎ করতে চাই ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, জানাবত তথা গোসল ফরজ হওয়ার সাথে সাথে গোসল করে নাও।
১২) প্রশ্নঃ গুনাহ্ কিভাবে কমে যাবে ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, বেশী বেশী ইস্তেগফার (আল্লাহর নিকট কৃত গুনাহের জন্য

ক্ষমা প্রার্থনা) কর।
১৩) প্রশ্নঃ কেয়ামত দিবসে আলোতে থাকতে চাই ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, জুলুম করা ছেড়ে দাও।
১৪) প্রশ্নঃ আল্লাহ্ তা’য়ালার অনুগ্রহ কামনা করি ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, আল্লাহর বান্দাদের উপর দয়া-অনুগ্রহ কর।
১৫) প্রশ্নঃ আমি চাই আল্লাহ্ তা’য়ালা আমার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, অন্যের 

দোষ-ত্রুটি গোপন রাখ।
১৬) প্রশ্নঃ অপমানিত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে চাই ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, জিনা (ব্যাভিচার ইত্যাদি…) থেকে বেঁচে থাকো।
১৭) প্রশ্নঃ আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল সাঃ এর নিকট প্রিয়

হতে চাই ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, যা আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের (সাঃ) এর নিকট পছন্দনীয় তা নিজের

জন্য প্রিয় বানিয়ে নাও।
১৮) প্রশ্নঃ আল্লাহর একান্ত অনুগত হতে চাই ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, ফরজ সমূহকে গুরুত্বের সহিত আদায় কর।
১৯) প্রশ্নঃ ইহ্সান সম্পাদন কারী হতে চাই ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, এমন ভাবে আল্লাহর এবাদত কর যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ অথবা তিনি তোমাকে দেখছেন।
২০) প্রশ্নঃ ইয়া ! রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কোন বস্তু গুনাহ্ মাফে সহায়তা করবে ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন,

ক) কান্না (আল্লাহর নিকট কৃতগুনাহের জন্য)

খ) বিনয়

গ) অসুস্থতা।
২১) প্রশ্নঃ কোন জিনিষ দোযখের ভয়াবহ আগুনকে শীতল করবে ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন,

দুনিয়ার মুছিবত সমূহ।
২২) প্রশ্নঃ কোন কাজ আল্লাহর ক্রোধ ঠান্ডা করবে ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, 

ক) গোপন দান।

খ) আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা।
২৩) প্রশ্নঃ সবচাইতে নিকৃষ্ট কি ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, 

ক) দুশ্চরিত্র 

খ) কৃপণতা।
২৪) প্রশ্নঃ সবচাইতে উৎকৃষ্ট কি ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, সৎ চরিত্র, বিনয়, এবং ধৈর্য্য ।
২৫) প্রশ্নঃ আল্লাহর ক্রোধ থেকে বাঁচার উপায় কি ?

উঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করলেন, মানুষের উপর রাগান্বিত হওয়া পরিহার কর।
আল্লাহ্ তা’য়ালা আমাকে এবং আপনা‌দের সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন ।

আমীন। ক‌পি ও শেয়ার করুন।

ফজরের সুন্নত

ফজরের জামাআত শুরু হয়ে গেলে সুন্নাত পড়ার হুকুম

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ، ح وَحَدَّثَنِي حَامِدُ بْنُ عُمَرَ الْبَكْرَاوِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ يَعْنِي ابْنَ زِيَادٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، كُلُّهُمْ عَنْ عَاصِمٍ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَاللَّفْظُ لَهُ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ، قَالَ دَخَلَ رَجُلٌ الْمَسْجِدَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْغَدَاةِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ فِي جَانِبِ الْمَسْجِدِ ثُمَّ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا سَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَا فُلاَنُ بِأَىِّ الصَّلاَتَيْنِ اعْتَدَدْتَ أَبِصَلاَتِكَ وَحْدَكَ أَمْ بِصَلاَتِكَ مَعَنَا �( رَوَاه مُسْلِمٌ فِىْ بَابِ كَرَاهَةِ الشُّرُوعِ فِي نَافِلَةٍ بَعْدَ شُرُوعِ الْمُؤَذِّنِ)

হাদীস নম্বর-৩৫২ : হযরত আব্দুল্লাহ বিন সারজিস
রা. বলেন: রসূলুল্লাহ স. ফজরের নামাযে ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে মসজিদের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত (সুন্নাত) নামায আদায় করলো।
রসূলুল্লাহ স. নামায শেষ করে বললেন: হে অমুক! তোমার ফরয নামায হিসেবে তুমি কোনটা গণনা করলে? তোমার একাকী নামায, না আমাদের সাথের নামায?
(মুসলিম: ১৫২৪)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং নাসাঈ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে।
(জামিউল উসূল: ৪০৯২) 

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে,
ফজরের নামাযের ইকামাত শুরু হলে আর সুন্নাত পড়া যাবে না। এমনকি মসজিদের কোণেও নয়। আল্লামা শাব্বীর আহমাদ উসমানী রহ. এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন: قَوْلُه (فِىْ جَانِبِ الْمَسْجِدِ) إلخ: ظَاهِرُه يَرُدُّ عَلى مَنْ أجَازَ رَكْعَتَى الْفَجْرِ فِىْ زَاوِيَةٍ مِنْ زَوَايَا الْمَسْجِدِ فَالْأحْوَطُ الإجْتِنَابُ مِنْه এ হাদীসের প্রকাশ্য শব্দ তাদের মতমাত প্রত্যাখ্যান করে যারা মসজিদের কোণে দাঁড়িয়ে দু’রাকাত পড়ে নেয়ার অনুমতি দেয়। সুতরাং এর থেকে বেঁচে থাকাই সতর্কতার দাবী”।
(ফাতহুল মুলহিম: ৪/৪৫২)

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ بُحَيْنَةَ، قَالَ أُقِيمَتْ صَلاَةُ الصُّبْحِ فَرَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يُصَلِّي وَالْمُؤَذِّنُ يُقِيمُ فَقَالَ � “� أَتُصَلِّي الصُّبْحَ أَرْبَعًا �”� (رَوَاه مُسْلِمٌ فِىْ بَابِ كَرَاهَةِ الشُّرُوعِ فِي نَافِلَةٍ بَعْدَ شُرُوعِ الْمُؤَذِّنِ)

হাদীস নম্বর-৩৫৩: হযরত মালেক বিন বুহাইনা
রা. বলেন: ফজরের জামাআত দাঁড়িয়ে গেলো। মুআজ্জিন ইকামাত দেয়া অবস্থায় রসূলুল্লাহ স. এক ব্যক্তিকে নামায পড়তে দেখে ইরশাদ করলেন: তুমি কি ফজরের নামায ৪ রাকাত পড়বে?
(মুসলিম: ১৫২৩)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি বুখারী, ইবনে মাজাহ এবং নাসাঈ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে।
(জামিউল উসূল: ৪০৯১)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফজরের নামাযের ইকামাত শুরু হলে আর সুন্নাত পড়া যাবে না।

وَعَنْ أَبِي مُوسَى «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ  رَأَى رَجُلًا صَلَّى رَكْعَتِي الْغَدَاةِ حِينَ أَخَذَ الْمُؤَذِّنُ يُقِيمُ فَغَمَزَ النَّبِيُّ  صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْكِبَهُ وَقَالَ: أَلَا كَانَ هَذَا قَبْلَ ذَا.رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَالْأَوْسَطِ وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ.

হাদীস নম্বর-৩৫৪ : হযরত আবু মুসা রা. থেকে বর্ণিত, মুআজ্জিন যখন ইকামাত দিচ্ছেন তখন
রসূলুল্লাহ স. এক ব্যক্তিকে ফজরের সুন্নাত পড়তে দেখে তার কাঁধ ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন: এটা আরও আগে পড়তে পারতে না? আল্লামা হাইসামী বলেন: হাদীসটি তবারানী তাঁর মু’জামে কাবীর ও আওসাতে বর্ণনা করেছেন এবং এর রাবীগণ ثقةٌ “নির্ভরযোগ্য”। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২৩৯৪)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। আল্লামা হাইসামী বলেন: হাদীসটি তবারানী তাঁর মু’জামে কাবীর ও আওসাতে বর্ণনা করেছেন এবং এর রাবীগণ ثقةٌ “নির্ভরযোগ্য”। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২৩৯৪)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফজরের নামাযের ইকামাত শুরু হলে আর সুন্নাত পড়া যাবে না।

وحَدَّثَنَي أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ وَرْقَاءَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةُ». وحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَابْنُ رَافِعٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنِي وَرْقَاءُ بِهَذَا الْإِسْنَادِ (رَوَاه مُسْلِمٌ فِىْ بَابِ كَرَاهَةِ الشُّرُوعِ فِي نَافِلَةٍ بَعْدَ شُرُوعِ الْمُؤَذِّنِ)

হাদীস নম্বর-৩৫৫ : হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ স. বলেন: নামাযের জামাআত দাঁড়িয়ে গেলে ফরয ব্যতীতহ কোন নামায নেই। মুহাম্মাদ বিন হােেতম এবং ইবনে রাফে’ শাবাবা সূত্রেও ওয়ারকা থেকে আমাকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
(মুসলিম: ১৫১৭)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজী এবং ইবনে মাজাহ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে।
(জামিউল উসূল: ৩৯৩৭)

সারসংক্ষেপ : উপরোল্লিখিত ৪টি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ফজরের জামাআত দাঁড়িয়ে গেলে আর সুন্নাত পড়া যাবে না; বরং ছুটে যাওয়া সুন্নাত সূর্য ওঠার পরে আদায় করতে হবে।
(তিরমিজী: ৪২৩)

এর বিপরীতে কোন কোন সাহাবায়ে কিরামের আমল এরূপ পাওয়া যায় যে, তাঁরা জামাআত দাঁড়ানোর পরে এলে মসজিদের কোণে দাঁড়িয়ে সংক্ষেপে দু’রাকাত নামায আদায় করে জামাআতে শরীক হতেন
এ মর্মে কিছু বর্ণনা নিম্নে পেশ করছি।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ، وَفَهْدٌ , قَالَا: ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: «خَرَجَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا مِنْ بَيْتِهِ , فَأُقِيمَتْ صَلَاةُ الصُّبْحِ , فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ الْمَسْجِدَ وَهُوَ فِي الطَّرِيقِ , ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى الصُّبْحَ مَعَ النَّاسِ»

হাদীস নম্বর-৩৫৬ : হযরত মুহাম্মাদ বিন কা’ব বলেন: হযরত ইবনে উমার রা. ঘর থেকে বের হলেন।
ততক্ষণে ফজরের জামাআত দাঁড়িয়ে গেছে। তিনি মসজিদে প্রবেশের পূর্বে দু’রাকাত নামায পড়ে নিলেন। অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করে মানুষের সাথে ফজরের নামায পড়লেন।
(ত্বহাবী: ২২০২)

হাদীসটির স্তর : হাসান। এ হাদীসের রাবীগণের মধ্যে শুধু আব্দুল্লাহ বিন সালেহ ব্যতীত সবাই-ই ثقة “নির্ভরযোগ্য”। মুহাম্মাদ বিন খুযাইমা ثقة “নির্ভরযোগ্য”। (ছিকাতু মিম্মাল লাম ইয়াকা’ ফিল কুতুবিস সিত্তাহ: রাবী নম্বর- ৯৭০০) ফাহাদ বিন সুলাইমানের ثقة ثبت “নির্ভরযোগ্য, মজবুত”।
(তারীখে দিমাশক: রাবী নম্বর- ৫৬৩৫) আর আব্দুল্লাহ বিন সালেহ-এর ব্যাপারে আল্লামা ইবনুল কত্তান বলেন: أنه مختلف فيه ، فحديثه حسن “তিনি বিতর্কিত; তবে তাঁর হাদীস হাসান”। (তাহজীবুত তাহজীব: আব্দুল্লাহ নামীয় রাবীদের ৪৪৮ নম্বর) অবশিষ্ট রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের নির্ভরযোগ্য রাবী।

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফজরের জামাআত শুরু হয়ে গেলে হযরত ইবনে উমার রা. সুন্নাত পড়েছেন। যদিও সেটা মসজিদের ভিতরে নয়। এ থেকে আরও একটি বিষয় প্রমাণিত হয় যে, ফরযের জামাআত শুরু হয়ে গেলে ফরয ব্যতীত কোন নামায নেই বাণীটি হয়তো মসজিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মসজিদের বাইরে কেউ কোন নামায পড়লে এ হাদীসে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়নি

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بن إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنِ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بن أَبِي مُوسَى، قَالَ:”جَاءَ ابْنُ مَسْعُودٍ، وَالإِمَامُ يُصَلِّي الصُّبْحَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ إِلَى سَارِيَةٍ، وَلَمْ يَكُنْ صَلَّى رَكْعَتَيِ الْفَجْرِ” رواه الطبراني ورجاله موثقون.

হাদীস নম্বর-৩৫৭ : আব্দুল্লাহ বিন আবু মুসা থেকে বর্ণিত: হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. এমন সময় মসজিদে আসলেন যখন ইমাম ফজরের নামাযে পড়ছিলেন। তখন তিনি একটি খুঁটির পাশে গিয়ে দু’রাকাত সুন্নাত নামায পড়লেন। এর আগে তিনি সুন্নাত পড়েননি। (তবারানী কাবীর: ৯২৭৯) আল্লামা হাইসামী রহ. বলেন: তবারানী (মু’জামে কাবীর কিতাবে) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বর্ণনাকারীগণ সবাই-ই নির্ভরযোগ্য।
(মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২৩৯২)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। আল্লামা হাইসামী রহ. বলেন: এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সবাই-ই নির্ভরযোগ্য। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২৩৯২) ইমাম ত্বহাবী রহ.ও হাদীসটি শরহু মাআনিল আছার কিতাবে বর্ণনা করেছেন।
(ত্বহাবী : ২১৯৯)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে বুঝে আসে যে, ফজরের  জামাআত শুরু হয়ে গেলেও খুঁটির আড়ালে বা এমন কোন কোণায় সংক্ষিপ্ত দু’রাকাত পড়ে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু এ আমলটি প্রকাশ্যভাবে পূর্ববর্ণিত মারফু’ হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক।

হযরত ইবনে উমার, ইবনে আব্বাস, আবু দারদা রা. এবং হযরত আবু উসমান নাহদী রা. থেকেও অনুরূপ আমল ত্বহাবী  শরীফে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে।

عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ قُلْتُ لِعَطَاءٍ دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ وَالْإِمَامُ فِي الصَّلَاةِ وَلَمْ أَكُنْ رَكَعْتُهُمَا قَالَ فَارْكَعْهُمَا فِي الْمَسْجِدِ إِلَّا أَنْ تَخْشَى أَنْ تَفُوتَكَ الرَّكْعَةُ الَّتِي الْإِمَامُ فِيهَا

হাদীস নম্বর-৩৫৮ : হযরত ইবনে জুরাইজ বলেন: আমি হযরত আতাকে জিজ্ঞেস করলাম: আমি এমন সময়ে মসজিদে এলাম যখন ইমাম নামাযরত; অথচ আমি সুন্নাত দু’রাকাত পড়িনি। (এমতাবস্থায় আমি কী করব?) তিনি বললেন: ইমাম যে রাকাতে আছে উক্ত রাকাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকলে পড়ে নাও।
(আব্দুর রযযাক: ৪০০৯)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাকতু’। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।

এ ব্যপারে হানাফী মাজহাবের আমল হিদায়া কিতাবে এভাবে বর্ণিত আছে যে,

وَمَنْ انْتَهَى إلَى الْإِمَامِ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ وَهُوَ لَمْ يُصَلِّ رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ : إنْ خَشَى أَنْ تَفُوتَهُ رَكْعَةٌ وَيُدْرِكَ الْأُخْرَى يُصَلِّي رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ ثُمَّ يَدْخُلُ ) لِأَنَّهُ أَمْكَنَهُ الْجَمْعُ بَيْنَ الْفَضِيلَتَيْنِ ( وَإِنْ خَشَى فَوْتَهُمَا دَخَلَ مَعَ الْإِمَامِ ) لِأَنَّ ثَوَابَ الْجَمَاعَةِ أَعْظَمُ ، وَالْوَعِيدَ بِالتَّرْكِ أَلْزَمُ

“যে ব্যক্তি ফজরের নামাযে এমন অবস্থায় উপস্থিত হলো যে, সে ফজরের সুন্নাত পড়েনি। যদি সে আশঙ্কা করে যে, সুন্নাত পড়লে তার এক রাকাত ছুটে যাবে আর এক রাকাত পাবে, তাহলে মসজিদের দরজার নিকটে দাঁড়িয়ে সুন্নাত পড়ে নিবে। এরপর জামাআতে অংশগ্রহণ করবে। কেননা, সে এভাবে উভয় ফযীলাতকে একত্রে গ্রহণের সুযোগ পেলো। আর যদি শেষ রাকাতও ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হয় তাহলে ইমামের সাথে জামাআতে শরীক হয়ে যাবে। কেননা জামাআতের সওয়াব বেশী এবং জামাআত তরকের ধমকিও গুরুতর”।
(হিদায়া: ১/১৫২)

একটি বিশ্লেষণ

ফজরের জামাআত শুরু হয়ে গেলেও আগে সুন্নাত পড়ে জামাআতে শরীক হওয়ার ব্যাপারে হানাফী মাজহাবের পক্ষে সাহাবায়ে কিরামের যে আমল পেশ করা হয়েছে, তার কোনটির মধ্যেও এ কথা উল্লেখ নেই যে, তাঁরা এক রাকাত ছুটে গেলেও আগে সুন্নাত পড়তেন। তখনকার ফজরের নামাযে যে ধরণের লম্বা কিরাত পড়ার বর্ণনা পাওয়া যায় তা থেকে বরং এটিই অনুমিত হয় যে, জামাআত শুরু হওয়ার সাথে সাথে কেউ মসজিদে এলে প্রথম রাকাতের রুকুর পূর্বে কয়েকবার সুন্নাত পড়তে পারবে। এ কারণে তার রাকাত ছুটবে না। ‘যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকাত পেলো সে নামায পেলো’ হাদীস দ্বারা দলীল দেয়া হয়ে থাকে যে, জামাআতের এক রাকাত ছুটে গেলেও আগে সুন্নাত পড়ে নিবে। অথচ উপরোল্লিখিত ৪টি সহীহ মারফু’ হাদীসের বর্ণনা থেকে বুঝা যায় যে, জামাআত শুরু হয়ে গেলে কেউ নতুন করে সুন্নাত পড়তে দাঁড়াবে না। সুন্নাত পড়ার কারণে ইচ্ছে করে রাকাত ছাড়ার কোন সুযোগ উক্ত হাদীসগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং ‘এক রাকাত পেলে নামায পাবে’ হাদীসের উদ্দেশ্য হলো: কেউ পূর্ণ জামাআত ধরার চেষ্টা করে যদি মসজিদে এসে পূর্ণ জামাআত ধরতে না পারে তবুও তিনি জামাআতের সওয়াব পেয়ে যাবেন।

আল্লামা শাব্বীর আহমাদ উসমানী রহ. ফাতহুল মুলহিমে এ সংক্রান্ত আলোচনায় বলেন:

وليعلم أن أداء ركعتى الفجر بشرط وجدان الركعة من المكتوبة فى زاوية من المسجد ليس هو أصل مذهبنا بل هو من تخريجات الأصحاب “জেনে রাখা উচিত, ফজরের ফরয নামায এক রাকাত পাওয়ার শর্তে মসজিদের কোণে দাঁড়িয়ে দু’রাকাত সুন্নাত পড়ে নেয়ার যে মত হানাফী মাজহাবে রয়েছে, এটা আমাদের মূল মাজহাব নয়; বরং মাজহাবের পরবর্তী ইমামদের ইজতিহাদ”। (ফাতহুল মুলহিম: ৪/৪৪৮) অতএব, উপরোল্লিখিত মারফু’ হাদীস ও সাহাবায়ে কিরামের আমলের সমন্বয় এভাবে হতে পারে যে, হযরত আবু মুসা থেকে বর্ণিত হাদীসের উদ্দেশ্য হলো: যদি কেউ ঘর থেকে সুন্নাত পড়ে না আসে তাহলে জামাআত শুরু হওয়ার আগে এসে সুন্নাত পড়া। ইবনে উমার রা.-এর হাদীসের উদ্দেশ্য হলো: যদি জামাআত দাঁড়িয়ে গিয়ে থাকে তাহলে মসজিদের বাইরে বা বারান্দা যদি মসজিদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত না হয়ে থাকে তাহলে সেখানে দাঁড়িয়ে সুন্নাত পড়ে নেয়া। আব্দুল্লাহ বিন সারজিস এবং মালেক বিন বুহাইনা রা.-এর হাদীসের উদ্দেশ্য হলো: যদি জামাআত শুরু হয়ে যায় আর মসজিদের বাইরে সুন্নাত পড়ার কোন ব্যবস্থা না থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবে সুন্নাত পড়বে না। যেহেতু ফরযের জামাআত শুরু হয়ে গেলে সুন্নাত পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। (মুসলিম: ১৫১৭) বরং সূর্য ওঠার পরে সুন্নাত পড়ে নিবে। (তিরমিজী: ৪২৩) হযরত ইবনে মাসউদ রা. এবং হযরত আতা রহ.-এর হাদীসের উদ্দেশ্য হলো: ফজরের জামাআত শুরু হয়ে যাওয়ার পরে যদি মসজিদের বাইরে সুন্নাত পড়ার ভালো ব্যবস্থা না থাকে আর সে সুন্নাত ছাড়তেও না চায় তাহলে খুঁটির আড়ালে বা মসজিদের কোণায় এ শর্তে পড়তে পারে যে, ইমাম যে রাকাত পড়াচ্ছে তা যেন না ছোটে। পূর্বোক্ত নিয়ম অনুসরণ করা হলে মারফু’ হাদীস ও সাহাবায়ে কিরামের আমলের মধ্যে সমন্বয় সাধি হবে।
সাথে সাথে মুসল্লীদের সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

Original meaning

ﺍﯾﮏ ﻣﺮﯾﺪ ﻧﮯ ﻣﻮﻻﻧﺎ ﺭﻭﻡ ﺳﮯ ﭼﻨﺪ ﺳﻮﺍﻻﺕ ﭘﻮﭼﮭﮯ ﺟﻦ ﮐﮯ ﺍﻧﮩﻮﮞ ﻧﮯ ﺑﮩﺖ
ﺧﻮﺑﺼﻮﺭﺕ ﻣﺨﺘﺼﺮ ﺍﻭﺭ ﺟﺎﻣﻊ ﺟﻮﺍﺑﺎﺕ ﻋﻄﺎ ﻓﺮﻣﺎﺋﮯ ﺟﻮ ﺑﺎﻟﺘﺮﺗﯿﺐ ﭘﯿﺶِ ﺧﺪﻣﺖ
ﮨﯿﮟ:
-1 ﺯﮨﺮ ﮐﺴﮯ ﮐﮩﺘﮯ ﮨﯿﮟ؟
ﮨﺮ ﻭﮦ ﭼﯿﺰ ﺟﻮ ﮨﻤﺎﺭﯼ ﺿﺮﻭﺭﺕ ﺳﮯ ﺯﺍﺋﺪ ﮨﻮ، ﻭﮦ ﮨﻤﺎﺭﮮ ﻟﺌﮯ ﺯﮨﺮ ﮨﮯ ﺧﻮﺍﮦ ﻭﮦ ﻗﻮﺕ ﻭ
ﺍﻗﺘﺪﺍﺭ ﮨﻮ، ﺩﻭﻟﺖ ﮨﻮ، ﺑﮭﻮﮎ ﮨﻮ،ﺍﻧﺎﻧﯿﺖ ﮨﻮ، ﻻﻟﭻ ﮨﻮ، ﺳﺴﺘﯽ ﻭ ﮐﺎﮨﻠﯽ ﮨﻮ، ﻣﺤﺒﺖ ﮨﻮ،
ﻋﺰﻡ ﻭ ﮨﻤﺖ ﮨﻮ، ﻧﻔﺮﺕ ﮨﻮ ﯾﺎ ﮐﭽﮫ ﺑﮭﯽ ﮨﻮ۔
-2 ﺧﻮﻑ ﮐﺲ ﺷﺌﮯ ﮐﺎ ﻧﺎﻡ ﮨﮯ؟
ﻏﯿﺮﻣﺘﻮﻗﻊ ﺻﻮﺭﺕِ ﺣﺎﻝ ﮐﻮ ﻗﺒﻮﻝ ﻧﮧ ﮐﺮﻧﮯ ﮐﺎ ﻧﺎﻡ ﺧﻮﻑ ﮨﮯ۔ ﺍﮔﺮ ﮨﻢ ﻏﯿﺮ ﻣﺘﻮﻗﻊ ﮐﻮ
ﻗﺒﻮﻝ ﮐﺮ ﻟﯿﮟ ﺗﻮ ﻭﮦ ﺍﯾﮏ ﺍﯾﮉﻭﻧﭽﺮ ﺍﯾﮏ ﻣﮩﻢ ﺟﻮﺋﯽ ﻣﯿﮟ ﺗﺒﺪﯾﻞ ﮨﻮﺟﺎﺗﯽ ﮨﮯ۔
-3 ﺣﺴﺪ ﮐﺴﮯ ﮐﮩﺘﮯ ﮨﯿﮟ؟
ﺩﻭﺳﺮﻭﮞ ﻣﯿﮟ ﺧﯿﺮ ﺍﻭﺭ ﺧﻮﺑﯽ ﮐﻮ ﺗﺴﻠﯿﻢ ﻧﮧ ﮐﺮﻧﮯ ﮐﺎ ﻧﺎﻡ ﺣﺴﺪ ﮨﮯ۔ ﺍﮔﺮ ﮨﻢ ﺍﺱ
ﺧﻮﺑﯽ ﮐﻮ ﺗﺴﻠﯿﻢ ﮐﺮﻟﯿﮟ ﺗﻮ ﯾﮧ ﺭﺷﮏ ﺍﻭﺭ ﺍﻧﺴﭙﺮﯾﺸﻦ ﺑﻦ ﮐﺮ ﮨﻤﺎﺭﮮ ﻟﺌﮯ ﺍﯾﮏ ﻣﮩﻤﯿﺰ ﮐﺎ
ﮐﺎﻡ ﺍﻧﺠﺎﻡ ﺩﯾﺘﯽ ﮨﮯ۔
-4 ﻏﺼﮧ ﮐﺲ ﺑﻼ ﮐﺎ ﻧﺎﻡ ﮨﮯ؟
ﺟﻮ ﺍﻣﻮﺭ ﮨﻤﺎﺭﮮ ﻗﺎﺑﻮ ﺳﮯ ﺑﺎﮨﺮ ﮨﻮﺟﺎﺋﯿﮟ، ﺍﻥ ﮐﻮ ﺗﺴﻠﯿﻢ ﻧﮧ ﮐﺮﻧﮯ ﮐﺎ ﻧﺎﻡ ﻏﺼﮧ ﮨﮯ۔ ﺍﮔﺮ
ﮨﻢ ﺗﺴﻠﯿﻢ ﮐﺮﻟﯿﮟ ﺗﻮ ﻋﻔﻮ ﺩﺭﮔﺰﺭ ﺍﻭﺭ ﺗﺤﻤﻞ ﺍﺱ ﮐﯽ ﺟﮕﮧ ﻟﮯ ﻟﯿﺘﮯ ﮨﯿﮟ۔
-5 ﻧﻔﺮﺕ ﮐﺴﮯ ﮐﮩﺘﮯ ﮨﯿﮟ ؟
ﮐﺴﯽ ﺷﺨﺺ ﮐﻮ ﺟﯿﺴﺎ ﮐﮧ ﻭﮦ ﮨﮯ، ﺗﺴﻠﯿﻢ ﻧﮧ ﮐﺮﻧﮯ ﮐﺎ ﻧﺎﻡ ﻧﻔﺮﺕ ﮨﮯ۔ ﺍﮔﺮ ﮨﻢ ﻏﯿﺮ
ﻣﺸﺮﻭﻁ ﻃﻮﺭ ﭘﺮ ﺍﺳﮯ ﺗﺴﻠﯿﻢ ﮐﺮﻟﯿﮟ ﺗﻮ ﺍﺳﮯ ﻣﺤﺒﺖ ﮐﮩﯿﮟ ﮔﮯ۔
۔۔۔۔۔۔۔ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺍﻋﻠﻢ ﺑﺎﻟﺼﻮﺍﺏ۔۔۔۔۔۔

জনৈক ছাত্রের যে কবিতাটি শুনে ইমাম আহমাদ [রাহিমাহুল্লাহ] কেঁদেছিলেনঃ👇

জনৈক ছাত্রের যে কবিতাটি শুনে ইমাম আহমাদ [রাহিমাহুল্লাহ] কেঁদেছিলেনঃ👇
.
.
💦আমার রব্ব যদি জিজ্ঞাসেন,আমার অবাধ্যতায় লজ্জিত হও কি ?
আমার সৃষ্টিকূলের সামনে পাপগুলো লুকাও,আমার সামনে নিয়ে আসো ঠিকই।।
.
কী দিবো জবাব,হায় পরিতাপ!! কে বাঁচাবে আমায় !
নিজেকে বুঝাই সময়ে সময়ে মিথ্যামিথ্যি আশায়।।
.
কী হবে মরার পর?
যখন দেওয়া হবে কবর?
.
যেন আমার অশেষ আয়ু,মরণ কখনো আসবে না,
কিন্তু যখন আসবে মৃত্যু,কেউ বাঁচাতে পারবে না।।
.
চেহারাগুলো দেখে ভাববো কে দেবে মুক্তিপণ??
জিজ্ঞাসিত হব আমি কী করেছি আজীবন?
.
কী দেবো জবাব-ভুলেছি নিজের দ্বীন?
শুনতে কি পাইনি আল্লাহ্‌র কালাম ?
শুনতে কি পাইনি সূরা ক্বাফ,ইয়াসীন?
.
জানিনাই কি,কেয়ামত-হাশর,শেষ বিচারের দিন?
শুনিনাই কি মৃত্যুর পদধ্বনি?
.
তাওবা করছি হে রব্ব,তোমার বান্দা আমি।।
অতএব কে বাঁচাবে আমায় ?
আছেন শুধু মহাক্ষমাশীল রব্ব; যিনি সত্যের দিকে দেখাবেন পথ।।
তোমারই কাছে এসেছি ফিরে,হে রব্ব!
করছি তাওবা তোমারই কাছে,দাও মীযান ভারী করে।।
.
সহজ করে দাও হিসাব আমার,
তুমিই তো সেরা প্রভুর প্রভু,বিচারক হাশরের।।💦